সিদ্ধান্ত বদল সিউড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দের

  • 121 Views
  • 1 month ago
  • খোঁজখবর

নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম ঃ গতরাতে সিউড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাদের গোপন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন এনআরএস কান্ডের জন্য গণ ইস্তাফার পথ বেছে নেবেন তাঁরা। যদিও তারপরেও চিকিৎসকেরা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবায় ঘাটতি রাখেন নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও রাতভর সমান ভাবে চলে চিকিৎসা প্রদান।

তবে আজ সকালে চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, গণ ইস্তাফার পর সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে থাকলেও চিকিৎসায় কোন রকম খামতি রাখছেন না তাঁরা। বরং অন্যান্য দিনের মতোই সিউড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল রেখেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল রাতে সিউড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংগঠনের একটি গোপন বৈঠকের তারা সিদ্ধান্ত নেন একসাথে ৬৭ জন চিকিৎসক এনআরএস কাণ্ড নিয়ে গণ ইস্তাফার পথে হাঁটছেন।

সংবাদমাধ্যমে এমন ঘটনার প্রচারের পর রীতিমতো হইচই সৃষ্টি হয় শহর জুড়ে। যদিও এ বিষয়ে সিউড়ি সদর হাসপাতালে সুপার শোভন দে আমাদের ফোনে জানান, “এখনো পর্যন্ত তার কাছে কোনো রকম ইস্তফা পত্র জমা পড়েনি অথবা কোন খবর নেই।”

সকাল গড়াতেই সিউড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল তদারকি করতে হাসপাতালে পৌঁছান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে প্রশাসনিক কর্তারা। সাত সকালেই হাসপাতালে পৌঁছানোর বিজেপির গত লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী দুধ কুমার মন্ডল, পরে পরেই পৌঁছান বীরভূম জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী, বিধায়ক অশোক চ্যাটার্জী এবং তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্বরা।

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দুধ কুমার মন্ডল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ রাখেন প্রতিবাদ বজায় রেখেও সাধারণ মানুষদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য।

অন্যদিকে জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী দুধ কুমার মন্ডলের হাসপাতালে পৌঁছানোর বিষয়ে তোগ দেগে বলেন, “উনি এখানে রাজনীতি করতে এসেছিলেন। সিউড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোন রকম ব্যাঘাত ঘটেনি আগামী দিনেও ঘটবে না। চিকিৎসকদের ইস্তফার বিষয় গুজব।”

চিকিৎসকদের তরফ থেকে ডাক্তার অতনু শংকর দাস জানান, “আমাদের দাবি খুব পরিষ্কার, আমরা আমাদের সুরক্ষার দিক সুনিশ্চিত করতে চাই। আমরা যেমন গণ ইস্তাফার কথা ভাবছি, তার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবাকেও বজায় রেখেছি। কাল আমরা যখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তখন অফিস বন্ধ ছিল, তাই সিদ্ধান্ত নিলে পদক্ষেপ গ্রহণ হয়নি। সরকার যদি আমাদের সুরক্ষা দিক সুনিশ্চিত করেন তাহলে গণ ইস্তাফার কোন প্রসঙ্গই আসবে না। আজ আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা সচল রাখার সাথে সাথে কালো ব্যাজ পড়ে সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানাবো।”