উত্তরত্তর চালের মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল মধ্যবিত্ত

    0
    45

    খোঁজখবর ওয়েব ডেস্ক :   বছরখানেক ধরেই বাজারে চালের দাম বাড়তে বাড়তে, গত তিন মাসে তা মাত্রাছাড়া হয়েছে। খোলা বাজারে কেজি প্রতি দর বেড়েছে চার থেকে ছ’টাকা। কাঁচা আনাজের আগুনে দাম এড়িয়ে ভাতে-ভাত জোটানোও তাই এখন কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অভিযোগ, গত এক বছরে খোলা বাজারে প্রায় সবরকম চালের দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।
    কলকাতার পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ীদের কথায়, নতুন চাল বাজারে আসা এবং পুরনো চাল শেষ হওয়ার মাঝে জোগানে সঙ্কট দেখা দিলে দামে প্রভাব পড়ে। এখানকার এক পাইকারি বিক্রেতা সঞ্জয় সাহার কথায়, রত্না, মিনিকিট বা শতাব্দীর মতো চালের কোনও একটি যদি বাড়তে থাকে, তাহলে বাকিগুলিও সেই পথে হাঁটে। আসলে শতাব্দী বা রত্নার মতো চাল সর্বত্র উৎপাদন হয় না। তাই তার জোগানও অস্থির। বাজারের নিয়ম অনুযায়ী তাদের দাম বাড়লেই বাকিগুলিও চড়ে যায়, মতামত সঞ্জয়বাবুর। পোস্তা বাজারের অন্যতম পাইকারি বিক্রেতা পঙ্কজ আগরওয়ালও জানান, গত কয়েক মাসে চালের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার অন্যতম কারণ জোগান ও চাহিদার তফাৎ। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারের দরের সঙ্গে খোলা বাজারের দামের সামঞ্জস্য নেই। খোলা বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তঁার।
    চাল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কেন্দ্র কুইন্টাল পিছু চালের দাম দিচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। রাজ্য সরকার তার উপর আরও ২০ টাকা ভর্তুকি দেওয়ায় সেই দাম দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। রা‌জ্য সরকার মূলত ‘স্বর্ণ’ চাল কেনে। শুধু সরকার নয়, এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ‘স্বর্ণ’ বা ‘স্বর্ণলঘু’। কারণ তা থেকে মুড়ি, চিঁড়ে-মুড়কিও হয়। সরকার ওই ধানচাষিদের পাশে দাঁড়ানোয় তাঁরা ভালা দাম পাচ্ছেন। সেই কারণেও দাম কিছুটা চড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কালোবাজারিও যে আছে, তাও জানাচ্ছেন তাঁরা। বলছেন, একমাস আগেও রাইস মিলগুলিতে স্বর্ণ’র দর গিয়েছে কেজি পিছু ২৫.৫ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নদীয়ায় সম্প্রতি চাল নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই, রাতারাতি সেই দাম নেমে এসেছে ২৩.৫ টাকায়।
    এই স্বর্ণ’ই যে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে, তা মেনে নিয়েছেন প্রায় সব ব্যবসায়ী। বলছেন, তাঁদের কথায়, বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে চাহিদা বাড়তেই, সেখানে চড়া দামে চাল রপ্তানি হচ্ছে। এর পাশাপাশি আয়কর হানাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। বলছেন, মাস খানেকের মধ্যে শুধু বর্ধমানেই ছ’টি রাইস মিলে হানা হয়েছে। বাকিরাও তটস্থ হয়ে আছে। প্রত্যেকেই কম করে উৎপাদন দেখাচ্ছে। দামের সঙ্গে তার মিল রাখতে তাই দাম বাড়ানো হচ্ছে, এমনই যুক্তি খাড়া করেছেন ব্যবসায়ীরা।
    তবে রাইস মিলগুলির বিরুদ্ধে দাম চড়িয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ ওঠে, তা মানতে চাননি সেখানকার মালিকরা। বেঙ্গল রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহসম্পাদক এবং বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মণ্ডল বলেন, যে দামে ধান কিনি, এবং যে দামে চাল বিক্রি করি, তার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। অথচ আমাদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। কৃষকদের থেকে মধ্যস্বত্ত্বভোগী হয়ে রাইস মিল, ডিস্ট্রিবিউটর, হোলসেলার, খুচরো ব্যবসায়ী হয়ে তা ক্রেতার কাছে আসে। তাই দাম ঠিক করায় আমাদের ভূমিকা প্রায় নেই।

    LEAVE A REPLY