মহিলাদের ভুমিকা নিয়ে কি বললেন মুখ্যমন্ত্রী …

    0
    117

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারী ক্ষমতায়নে জোর দিয়েছেন। চালু করেছেন বহু প্রকল্প এবং কর্মসূচী। দিদির মস্তিস্কপ্রসূত কন্যাশ্রী প্রকল্প পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।প্রতিবছর নারী দিবস উপলক্ষে বিশাল মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ কলকাতায় এক ঐতিহাসিক মহিলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে।আজকের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের পঞ্চায়েত ভোটে অগ্রণী ভূমিকা নিতে ডাক দেন। তিনি বলেন মহিলাদের সঙ্গবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।আমি বিশ্বাস করি সকলকে নিয়ে একসাথে চলতে হবে। ভাই বোন সকলেই সমাজের সম্পদ।আজকের দিনটি ৮ই মার্চ আমরা আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস হিসেবে পালন করি। আজকের দিনটি আমাদের মা বোনেদের। পৃথিবীব্যাপী এই দিনটি মেয়েদের জন্য পালন করা হয়।বাংলায় আমাদের সরকার আসার পর পঞ্চায়েত ও মিউনিসিপালিটিতে মহিলাদের জন্য ৫০% সংরক্ষণ করা হয়েছে।একমাত্র আমাদের দলের মহিলা নির্বাচিত প্রতিনিধি ৩৩% এর বেশি।আমাদের রাজ্যে চাইল্ড কেয়ার লিভ দেওয়া হয় ৭৩০ দিন।বাংলায় ৪৮% মেয়ে ১০০ দিনের কাজ করছে। কলেজ সার্ভিস কমিশনে ৪৮% মেয়েরা সুযোগ পেয়েছে, ওরা আমাদের রাজ্যের গর্ব।কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প আসলে ‘বেটি হাটাও’ প্রোগ্রাম।সমগ্র ভারতবর্ষের জন্য ওদের বাজেট ১০০ কোটি টাকা। মানে রাজ্য প্রতি ভাগ ৩ কোটি টাকা। আর বাংলায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য ৬০০০ কোটি টাকা খরচ করেছি।পারলে এটাকে মডেল কর।৪৫ লক্ষ মেয়েকে এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য মেয়েদের এগিয়ে নিয়ে আসা।আমরা একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছি যার নাম – রূপশ্রী। গরীব পরিবারের (যাদের বছরে আয় দেড় লক্ষ টাকা) মেয়েদের ১৮ বছর বয়সের পর তাদের বিয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেবে সরকার। ১ লা এপ্রিল থেকে শুরু হবে এই প্রকল্প।আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন ইন্সটিটিউশন ডেলিভারি ছিল ৬৫%। আমাদের সময় এই পরিমাণ ৯৫%।যে সব এলাকায় হাসপাতাল নেই সেখানে আমরা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মাদার ট্রানজিট হাব করেছি।৬ বছরে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে বাংলায়।আমরা ৬ বছরে ৩০০ টি SNSU, ৭৫ টি SNCU, ১৭ টি মাদার ও চাইল্ড হাব, আই সি সি ইউ, এইচ ডি ইউ সহ মাল্টি সুপার হাসপাতাল তৈরি করেছি। একমাত্র বাংলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বাংলার ৮ কোটি মানুষ ২ টাকা কিলো চাল পায়। আর সেই চালের সাবসিডি দেয় রাজ্য সরকার।সরকারের টাকা আসে জনগণের দেওয়া ট্যাক্স থেকে, কিন্তু আমরা ট্যাক্স বাড়িয়ে দিইনি। সিপিএমএর দেনার টাকা শোধ করতে হচ্ছে। ৪৮ হাজার কোটি টাকা কেটে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।আমরা ৭০ লক্ষ ছেলেমেয়েদের সবুজ সাথী সাইকেল দিয়েছি, সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েদের স্কলারশিপ দিয়েছি।আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে ভালোবাসি। কাউকে ভাগাভাগি করতে দেব না।মানুষের ভাষাই তার পরিচয়। কেউ কেউ যে ভাষায় কথা বলছে তা শুনে লজ্জা হয়। বাংলার মানুষ এই ভাষায় কথা বলে না। বাংলার মানুষ সুন্দর ভদ্র ভাষায় কথা বলে।অকথা, কুকথা বলে টিভি তে পাবলিসিটি পাওয়া যায়।কিন্তু মানুষের কাছে এই ভাষার জায়গা নেই। রাজনীতিবিদদের ভেবেচিন্তে ভাষা প্রয়োগ করা উচিত।একটা ঘটনা ঘটেছে ত্রিপুরায়, বিজেপিই শুরু করেছে, লেনিনের মূর্তি ভেঙে। তামিল নাড়ুতেও একজন দলিত নেতার মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলায় জন্মেছেন, আমরা তাঁকে সম্মান করি, তিনি অন্য দলের সমর্থক হতেই পারেন, তাই বলে আমি তাঁর মূর্তিতে কালি মাখিয়ে দিয়ে আসব? যারা এখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মুখে কালি  লাগিয়েছেন, তারা বাংলার কলঙ্ক।এই কালচার কেন হবে যে কাউকে পছন্দ না হলে তার মূর্তি বুল্ডোজার দিয়ে ভাঙ্গা হবে? বাংলাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করবেন না।পঞ্চায়েতে তৃণমূল স্তরে আরও ভালো কাজ করতে হবে। মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে, গরীব মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সব মানুষকে পাশে নিয়ে লড়াই করতে হবে।১০০ দিনের কাজে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরীতে, স্কিল ইন্ডাস্ট্রিতে, স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রিতে, কৃষিতে , ইজ অফ ডুইং বিজনেসে ভারতবর্ষে আমরা এক নম্বরে।আগে বাংলা বললে মানুষ ভাবত শুধু বন্ধ, স্ট্রাইক, অত্যাচার, অপপ্রচার। এখন মানুষ বাইরে থেকে এসে বলে কলকাতাটা পুরো বদলে গেছে।পরিবর্তন মানে কন্যাশ্রী, রুপশ্রী, সবার ঘরে আলো, কৃষিকর্মন অ্যাওয়ার্ড, গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নাম্বার ওয়ান, নতুন রাস্তা, নতুন হাসপাতাল।বিজেপি ত্রিপুরার মতো রাজ্যে জিতেছে ০.৩% মার্জিনে। দার্জিলিং-এ যেমন প্রচার করেছিল ভোটের আগে যে জিতলে আলাদা রাজ্য দেবে, ত্রিপুরাতেও সেম গেম খেলেছে। তাও জিতেছ যখন কাজ কর, এতো নাচানাচির কিছু নেই। কথায় কথায় বলে এবার বাংলাকে জয় করব, বাংলা দিল্লী জয় করে দেখিয়ে দেবে।বিজেপির জোটসঙ্গী টিডিপি জোট ছেড়ে বেড়িয়ে এল, শিব সেনা, কে সি রাও-রা বিজেপির জোটসঙ্গী… শুনতে পাচ্ছো না বিদ্রোহের কন্ঠ? শুনতে পাচ্ছো উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটক, মধ্য প্রদেশ কি বলছে? উড়িষ্যা, বাংলার দিকে ভুলেও তাকিয়ে দেখো না।সিপিএম তো আত্মসমর্পণ করেছে বলে হেরে গেল ত্রিপুরাতে। ওরা তো ঠিকমত কথাও বলতে পারেনি। হোসপাইপের মত টাকা খরচ করেছে, সিপিএম কিছু বলেনি, মাথা নত করে ছিল। ভয় পেয়ে আত্মসমর্পণ করে ফেলেছিল।যারা বিরোধিতা করছে তাদের পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সিগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি।তৃণমূল কংগ্রেস আগেও বলেছে, এখনও বলছে, সব আঞ্চলিক দল একসঙ্গে কাজ করবে। একসাথে দল করব, একসাথে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করব।মা-বোনেদের একটা বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি আপনারা দেশ ও সমাজকে বাঁচাতে চান তবে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলুন। শুধু হিন্দু-মুসলমান ভাগাভাগি করে দেশ চলে না।মানুষের ব্যাঙ্কে রাখা সব টাকা নিয়ে নিচ্ছে। বিজেপি সরকার এখন বলছে, তোমরা ব্যাঙ্কে ‘গোবর’ রাখো।‘গোবর’ হচ্ছে ধন।ওটা এখন ওদের ধন- ‘গোবর্ধন’, মানে ‘গোবর’-টা হচ্ছে এখন সরকারের ধন।দিল্লীর মিডিয়া তো পুরো কিনে নিয়েছে। এজেন্সিগুলোকে পুরো কিনে নিয়েছে।ভাবছে এটাই চলবে- কিন্তু এটা চলবে না।আজ মহিলারা দিচ্ছে ডাক- বিজেপি চলে যাক। দু হাজার উনিশ, বিজেপি হবে ফিনিশ। ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার, দম্ভ হবে ফিনিশ।মনে রাখবেন, বাংলার মাটি এই লড়াইটা চিরকাল করেছে আর করবে।বাংলা সব সময় নেতৃত্ব দেবে।আমাদের মনে যে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমার মা-বোনেরা নিজেদের ঘর সামলাতেও জানে, বাইরেও লড়তে জানে।

    LEAVE A REPLY