বাংলার ছাত্র রাজনীতির ধারা

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : এদেশের ভূখণ্ডের জন্মের সঙ্গে মিশে আছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা৷ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-র শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি ও আন্দোলন সফল করায় তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম৷ আসলে আগামীর নেতা বা নেত্রীকে গড়ে দেয় ছাত্র রাজনীতি। আজকের রাজ্য রাজ্যনীতির অনেক সফল নেতা বা নেত্রী ছিলেন পোড় খাওয়া ছাত্রনেতা বা নেত্রী। আসলে তারাই যে নেয় স্পর্ধায় মাথা তুলবার ঝুঁকি। আপোসহীন লড়াই করার অটুট মানসিকতা তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যতের পথে।

২০০৭ সাল রাজনীতির আগুনে টগবগ করে ফুটছে বাংলা ৷ অভিযোগ, রাজ্যের তিন দশকের বাম সরকার মানুষের কথা আর ভাবছে না৷ সিঙ্গুরে জোর করে জমি নিয়ে তারা টাটা-কে দিতে চাইছে কারখানা গড়ার জন্য৷ অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে একই কারণে পুলিশ গুলি চালিয়েছে৷ মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন সাধারণ মানুষের৷ রাজ্যের তৎকালীন বিরোধীনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার মোড়ে অনশনে বসেছেন৷ কিন্তু এ সবের সঙ্গে নকশালবাড়ির সম্পর্ক কী?

বাংলার ছাত্র রাজনীতির কথা বলতে গেলে নকশালবাড়ি আজও প্রাসঙ্গিক৷ ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজের দেওয়াল লিখনে তাই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রতিবাদেও নকশালবাড়ির প্রসঙ্গ উঠে আসে৷ যে ছাত্ররা সেই দেওয়াল লিখেছিলেন, আগামীর ইতিহাসে তাঁদের অনেককেই দেখা যাবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে৷

স্বাধীনতার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রফ্রন্টে রাজনীতি নিয়ে একটু বেশিই হইচই৷ এবং বরাবরই সেখানে বাম রাজনীতির দাপট৷ পরবর্তীকালে যে বামনেতারা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করবেন ৩৪ বছর ধরে, তাঁদের প্রায় সকলেই ছাত্র আন্দোলনের ফসল৷ জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে সূর্যকান্ত মিশ্র, সকলেই ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন কংগ্রেস আমলে৷ ১ পয়সা ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে একসময় তাঁরাই অবরুদ্ধ করেছেন কলকাতার রাজপথ৷ বাস জ্বলেছে, ট্রাম জ্বলেছে৷ প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস৷ বাম রাজনীতির ঢেউ আছড়ে পড়েছিল শহরের আনাচকানাচে৷ ষাটের দশকে সিটি, সুরেন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর কলেজের কংগ্রেসি ছাত্রদের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রদের সংঘর্ষ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷

সেই বাম রাজনীতি আরও জোড়ালো হয় ষাটের দশকের শেষ পর্ব থেকে৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রদের সংসদ নীতিগত এবং আদর্শগত অবস্থান থেকে দু’ভাগে ভেঙে যায়৷ একদল থেকে যান পুরনো মতাদর্শ নিয়ে৷ অন্য দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ‘নকশাল’ নামে৷ বস্তুত, উত্তরবঙ্গের নকশালবাড়ি নামক একটি ছোট্ট গ্রামের কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই অতি বাম এই ছাত্রেরা নকশাল নামে পরিচিত হন৷ তাত্ত্বিকভাবে যাঁরা চীনপন্থি বামপন্থায় বিশ্বাসী৷

সত্তর এবং আশির দশকের কলকাতা দেখেছে নকশালপন্থি ছাত্রদের হিংসাত্মক আন্দোলন৷ একদিকে যেমন তাঁরা হিংসার আশ্রয় নিয়েছে, অন্যদিকে বহু পুরনো বস্তাপচা সিলেবাস বদলে নতুন সিলেবাস তৈরির আন্দোলনও তাঁরা করেছে৷ বস্তুত, আন্দোলনের জেরে সত্তর সালে তৈরি হওয়া সেই সিলেবাসই এখনো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়৷ কিন্তু শুধুমাত্র সিলেবাস আন্দোলনেই আটকে থাকেনি সত্তরের নকশাল আন্দোলন৷ বহু ছাত্র সেই সময় কলেজের নিয়মমাফিক পঠনপাঠন ছেড়ে গ্রামে গিয়ে কৃষক এবং শ্রমিকদের মধ্যে আন্দোলন গড়ে তোলার সংকল্পে ব্রতী হন৷ বহু মেধাবী ছাত্র তখন এই কাজে নেমেছিলেন৷ অধিকাংশই সফল হননি৷ বোমা-গুলির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন৷ কেউ কেউ পালাতে বাধ্য হন ভিনদেশে৷ কেউ আবার মূলস্রোতে ফিরে আসেন রাজনীতির সঙ্গে সমস্ত সংস্রব ত্যাগ করার মুচলেকা দিয়ে৷ ষাট-সত্তর দশকের অন্যতম নকশালনেত্রী জয়া মিত্র কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷ শুনিয়েছেন, কেন এবং কীভাবে ছাত্রবয়সে নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁরা৷ জয়া বলেছেন, কোনো দলীয় স্বার্থে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, তাঁরা নকশাল আন্দোলন শুরু করেছিলেন সময়ের প্রয়োজনে৷ সমাজ বদলের লক্ষ্যে৷ হয়তো সেই আন্দোলন শেষপর্যন্ত সফল হয়নি কিন্তু তার অভিঘাত পরবর্তীকালে থেকে গিয়েছে সমাজ ব্যবস্থায়৷ শুধু তাই নয়, ছাত্ররা যে মূলস্রোতের রাজনীতির হাওয়া ঘুরিয়ে দিতে পারে, রাষ্ট্র সেই সময়ে তা টের পেয়েছিল৷

ঘটেছে অনেক কিছুই৷ সত্তর-আশির কলকাতা ভরে থেকেছে বারুদের গন্ধে৷ দেওয়াল রেঙেছে ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ মন্ত্রে৷ শুনেছে, ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’ স্লোগান৷ বরানগর ম্যাসাকারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য ছাত্রের৷ কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য বাম ছাত্রের৷ বিশেষত, জরুরি অবস্থার সময়ে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেল ভরে গিয়েছে নকশালপন্থি ছাত্রে৷ সাহিত্যও রচনা হয়েছে৷ সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষদের কবিতা ধ্বনিত হয়েছে মিছিলে, স্লোগানে৷ পোস্টারে লেখা হয়েছে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য, ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা’ কিংবা শঙ্খ ঘোষের কবিতা ‘লাইনেই তো ছিলাম বাবা’৷

৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে৷ জেল থেকে মুক্তি পান বহু নকশালপন্থি ছাত্র৷ কেউ কেউ মিশে যান মূলস্রোতের বাম রাজনীতিতে৷ অধিকাংশই রাজনীতি থেকে সরে যান৷ এই সময়পর্বেই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র রাজনীতির ধারাও খানিক বদলে যায়৷ এতদিন যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, বামপন্থি সেই ছাত্রেরা ক্ষমতার গন্ধ পান৷ রাতারাতি পশ্চিমবঙ্গের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কার্যত বিনা বাধায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলি সংসদ তৈরি করতে শুরু করে৷ কংগ্রেসের ছাত্র সংসদ টিকে থাকে হাতে গোনা কিছু কলেজে৷ ছাত্র আন্দোলনের আগুনে খানিক স্তিমিত হয়৷

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি আবার ঘুরতে শুরু করে৷ ততদিনে দু’দশকের বাম শাসন দেখে ফেলেছে পশ্চিমবঙ্গ৷ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কার্যত হয় না বললেই চলে৷ প্রেসিডেন্সি কিংবা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিবাম বা নকশালপন্থি ছাত্রদের ছোট ছোট ইউনিট থাকলেও অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তখন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর দখলে৷ নির্বাচন হয় না, মনোনয়ন হয়৷ ইংরেজিতে যাকে বলে সিলেকশন৷ যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন৷ বরাবরই প্রতিষ্ঠানবিরোধী রাজনীতির মঞ্চ হিসেবে পরিচিত এই দুই প্রতিষ্ঠানে তখনো নির্বাচন হচ্ছে৷ সংসদ তৈরি করছে নকশালপন্থি অতিবাম ছাত্রেরা৷ কিন্তু সার্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাদের কোনো জায়গা নেই৷ সরকারপন্থি ছাত্রদের তখন পরিচিত সমালোচনা ছিল, প্রেসিডেন্সির বাইরে ট্রামলাইনের ওপারে অতিবামদের কোনো জায়গা নেই৷

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফের পশ্চিমবঙ্গে নকশালপন্থি ছাত্রদের আগুন জ্বলে ওঠে৷ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে আন্দোলন৷ মেধা পাটকরের মতো বামপন্থি অ্যাক্টিভিস্টরা সমর্থন দেন নকশালপন্থি ছাত্রছাত্রীদের৷ তথ্য ঘাঁটলে দেখা যাবে, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রথম পর্বে তৃণমূল নেতারা নন, গ্রেফতার হচ্ছিলেন নকশালপন্থি ছাত্রছাত্রীরাই৷ আটক ছাত্রদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার লালবাজার থেকে মুক্ত করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট মানুষেরা৷ অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, শঙ্খ ঘোষেরা মিছিল করে পৌঁছে গিয়েছিলেন লালবাজারে৷ প্রথম পর্বের সেই আন্দোলনে নকশালপন্থি ছাত্ররা প্রভূত সমর্থন পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবী এবং নাগরিক সমাজের কাছ থেকে৷ অভিযোগ, আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বে তৃণমূল ছাত্রদের আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করে৷ এবং লড়াইটা হয়ে দাঁড়ায় সিপিএম-তৃণমূলের৷ যার ফলাফল, ২০১১ সালে তৃণমূলের জয় এবং সিপিএম-এর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই বাম আমল থেকেই ছাত্র আন্দোলনের ধারা ক্রমশ বদলে গেছে পশ্চিমবঙ্গে৷ মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলি চেষ্টা করেছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভবিষ্যতের নেতা তৈরির কারখানা হিসেবে গড়ে তুলতে৷ ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লোভ দেখানো হয়েছে৷ ফলে অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী দল তৈরিই হতে পারেনি৷ যেখানে হয়েছে, সেখানে সংঘর্ষ হয়েছে৷ অধ্যক্ষ ঘেরাও হয়েছেন ছাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে৷ সিপিএম-এর সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কথায় ওঠাবসা করেছেন ছাত্রনেতারা৷

‘পরিবর্তন’-এর পরেও সেই একই ছবি৷ আগে কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ দখলে রাখত বামপন্থি ছাত্ররা৷ এখন সেই সমস্ত সংসদই তৃণমূলের ছাত্রদের দখলে৷ আগের মতোই এখনো নির্বাচন হয় না অধিকাংশ জায়গায়৷ বিরোধীদের তৈরিই হতে দেওয়া হয় না৷ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, কারণ, ছাত্ররা এখন শিক্ষকদেরও ছাড়ছে না৷ শিক্ষক নিগ্রহ, অধ্যক্ষকে পেটানোর মতো ঘটনাও ঘটছে প্রায় প্রতিদিন৷ যদিও প্রেসিডেন্সি, যাদবপুরের ক্যাম্পাসগুলিতে এখনো সে ঘটনা ঘটেনি৷ এখনো সেখানে নির্বাচন হয়৷ এখনো তাদের বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা রয়েছে৷ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘হোক কলরব’ আন্দোলন হয়েছে যাদবপুরে৷

স্বাধীনতার আগে এক বিশিষ্ট রাজনীতিক বলেছিলেন, ‘‘বাংলা আজ যা ভাবে, বাকি ভারত তা ভাবে আগামিকাল৷” ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে এখনো সে ধারা খানিক অটুট৷ ভারতের অন্যান্য প্রদেশের বিখ্যাত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলির রাজনীতি এখনো অনেকটাই বাংলা নিয়ন্ত্রণ করে৷ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ-এর বামপন্থি ছাত্রদের একটা বড় অংশই এখনো বাঙালি৷ সম্প্রতি কানহাইয়া কুমারদের আন্দোলনে তাই জেএনইউ পৌঁছে গিয়েছিলেন যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির ছাত্ররাও৷ বিজেপির বিরুদ্ধে রীতিমতো একটা ফ্রন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল জেএনইউ-এর আন্দোলনকে ঘিরে৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারাও খানিক সেরকম৷ সেখানেও বামপন্থি রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বাঙালিরা৷ তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সেখানে চরম৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণপন্থি রাজনীতির চেহারাও নেহাত হালকা নয়৷ প্রতিবছর ছাত্র নির্বাচনে লড়াই হয় সমানে সমানে৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের প্রেক্ষিতেও ছাত্র আন্দোলনের চেহারা অনেকটাই বদলেছে৷ মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলিই এখন ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে৷ তাই পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশির দশকের মতো দুনিয়া বদলে দেওয়ার আদর্শবাদী স্লোগান আর শোনা যায় না ছাত্রদের মুখে৷ অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আদৌ ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে৷ কেউ কেউ বলছেন, রাজনীতি থাক, কিন্তু বদলাক তার চরিত্র৷ মূলস্রোতের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হোক ছাত্র রাজনীতি৷ ছাত্ররা নিজেদের কথা বলুক৷ একসময় যা বলেছে৷ তৈরি হোক ছাত্র রাজনীতির একটা নতুন ধারা৷ ক্যাম্পাসগুলোতে মূলস্রোতের রাজনীতির কারখানা বন্ধ হোক৷
মনে রাখতে হবে আজ যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উঠে আসাও কিন্তু ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির একটি স্লোগান নির্বাচন কমিশন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল ” এই তৃণমূল আর না, আর না” স্লোগানটা অবশ্য তৈরি করেছিলেন বাম ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক ছাত্রী। পরে অবশ্য আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নিজের মত সেটাকে রেকর্ডিং করেন । বিজেপির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই রাজ্যে।
রাজ্যে গেরুয়া ঝড় ওঠার পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। কে বলতে রাজ্যের বা দেশের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী উঠে আসবেনা সেই নেতৃত্বের হাত ধরে। তবে তার উত্তর দেবে সময় তাই তার জন্য অপেক্ষাই শ্রেয়।