বিশ্বাসে বিশেষ জোর, সংখ্যালঘুরা আতংকে মানছেন কি মোদী !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্কঃ সংখ্যালঘুরা ভয়ের পরিবেশে আছে, ঘুরিয়ে স্বীকার করলেন নরেন্দ্র মোদী। তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে ভোটের প্রচার চালিয়েছেন। এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন যেন সংখ্যালঘুরা এদেশের নাগরিকই নন। পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ, নাগরিকত্ব, ৩৭০ধারা এমন সমস্ত বিষয় টেনে এনে নির্বাচনে সংখ্যালঘুদেরই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছেন মোদী-শাহরা। তারপর এদিন দ্বিতীয়বারের জন্য এনডিএ-র প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত হওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদীর সংখ্যালঘুদের কথা মনে পড়েছে। তিনি কার্যত মেনে নিয়েছেন, দেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্কের মনোভাব আছে। যদিও তাঁর দায় চাপিয়েছেন বিরোধীদের ঘাড়ে। বলেছেন, বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য সংখ্যালঘুরা ভয় পেয়েছেন এবং ব্যবহৃত হয়েছেন। এনডিএ সাংসদ এবং মন্ত্রীদের সামনে দীর্ঘ ৭৫মিনিটের বক্তব্য রাখার সময়ে মোদী সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জন করার জন্য দলের সাংসদদের পরামর্শ দিয়েছেন
পাঠক ভেবে দেখুন গোরক্ষার নামে কি ভাবে তান্ডব চালাচ্ছে স্বঘোষিত গোরক্ষদের দল। মোদীর পাঁচ বছরে শুধু গোরক্ষার নামেই নির্বিচার আক্রমণ হয়েছে সংখ্যালঘু, দলিতদের উপরে। পিটিয়ে, থেঁতলে খুন করা হয়েছে কিশোর থেকে বৃদ্ধকে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায়, হিন্দুত্ববাদীদের মদতে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই হামলা। পরিস্থিতি এমন জটিল আকার ধারন করেছিল যে দেশের শীর্ষ আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। মনে পড়ে কাঠয়ুয়া কান্ডের সেই নির্যাতিতা ছোট্ট মেয়েটির কথা, শুধুমাত্র সংখ্যালঘু হওয়ার অপরাধে সেই মেয়েটিকে গণধর্ষন করা হয়েছিল,তাতেও আশ মেটেনি বর্বরদের ওই ছোট্ট মেয়েটি হয়ত মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে চিরশান্তি পেয়েছিল কিন্তু দেশবাসি সহ ক্ষমতার অলিন্দে থাকা সবার দিকে ছুড়ে দিয়েছিল একরাশ প্রশ্ন জন্মসূত্রে সংখ্যালঘু হওয়াই কি একমাত্র অপরাধ ছিল ওই শিশুকন্যার! আজ যখন দেশের জনগণের রায় নিয়ে বিপুল আসনে জয় লাভ করে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন সংবিধানে মাথা ছোঁয়ান তখন কি কাঠুয়ার অকাল প্রয়াত নির্যাতিতার জন্য তার মায়ের চোখের জল পড়ে? তা অবশ্য জানার কোন উপায় নেই কারণ টা সংবাদমাধ্যমে হেডলাইন হয়না।
বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে মোদীকে তীব্র সমালোচিত হতে হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। এদিন তিনি পুরনো স্লোগান ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ এর সঙ্গে নতুন কথা জুড়ে বলেছেন ‘সব কা বিশ্বাস আসলে দিনের শেষে কোথাও একটা চোরা ভয়ের স্রোত কাজ করে কোথাও কি বিশ্বাসের ভিতটা একটু হলেও টলে গেল তাই পুরানো স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত হয় ” সবকা বিশ্বাস” আগামী পাঁচ বছরে শুধু ফাঁকা বুলি আওড়ে যে চিড়ে ভিজবেনা তা বুঝে গিয়েছেন মোদী। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।