বড়ই দীর্ঘ ও গূঢ় তার অনুধ্যায়, ৯৭ তম জন্মদিনে ‘রায়’ বাবু

    0
    60

    মৌনী মন্ডল : যেহেতু তাঁর জন্মদিন তাই চতুর্দিকেই হুলুস্থুলুস কান্ড! কে কিভাবে তাঁকে স্মরণ করবেন সেসবের ধুম লেগে গেছে। এখন সোস্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই ধুন্দুমারটা একটু বেশিই প্রকট। নাহলে সারা বছর তিনি একা নিভৃতে কে জানে কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়ান! হতে পারে বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়ির বারান্দায়, নিজের ঘরে, উঁকি মেরে দেখেন তাঁর নিজেরই ফ্রেম বন্দি ছবি, ফু দিয়ে ঝেড়ে হাতে তুলে নেন তাঁর সাধের ‘খেরোর খাতা’, কুর্তার কোনা দিয়ে মুছে নেন ক্যামেরার লেন্স, চোখের কোন। আবার হয়তো দেখা করতে চলে যান প্রিয় বন্ধুদের সাথে। কুরশোয়া, রেঁনয়ার সাথে একান্তে চা খেতে খেতে অন্যমনস্ক হয়ে বলে ফেলেন ‘কাট…কাট..! ক্যামেরা…রোল… অ্যাকশন!’

    ২রা মে ১৯২১, সুকুমার রায় টেলিগ্রাম করে তাঁর পরিচিতকে জানাচ্ছেন ‘খোকা বর্ন লাস্ট নাইট…অল ওয়েল’। জন্মগ্রহন করেন সত্যজিৎ রায়। তিনি ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর নাতি এবং সুকুমার রায়ের সন্তান। এই পরিচয়ে তিনি পরিচিত হবেন এমন দুরাশা তাঁর কখনই ছিলো না।তাঁর ঠাকুরদা কে ছিলেন, বাবা কে ছিলেন অথবা তিনি কে ছিলেন তা কাররই অবিদিত নয়, সে প্রসঙ্গে গিয়ে লাভ নেই।হ্যাঁ, তাঁর মা সুপ্রভা রায় ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী ও হস্তশিল্পে পারদর্শী মহিলা। অল্প বয়সেই(তিন বছর) বাবাকে হারিয়ে মায়ের কাছে থেকে দৈন্যের মধ্যে পড়াশোনা করে তিনি নিজ গুনে হয়ে উঠেছেন সার্বত্রিক, বিশ্ববাসীর ‘সত্যজিৎ রায়’।

    কি কি সিনেমা তিনি করেছেন, কি কি বই তিনি লিখেছেন, কি কি ছবি তিনি এঁকেছেন, এমন কি তিনি কী কী ভেবেছেন সে বিষয়েও সব তথ্য পাওয়াটা কোনো বিশাল ব্যাপার নয়।বিষয়টা হল এই যে, আজ তাঁর ৯৭বছরের জন্মদিন ঘিরে তাঁকে নিয়ে এতো চর্চা, এতো উন্মাদনা তা তিনি তাঁর আজীবন ফুরসৎহীন ,অক্লান্ত ভাবনা ও পরিশ্রমের জন্যেই হয়তো দেখে যেতে পারলেন না! তবে শিল্পীদের যাওয়া-আসার হিসেব হয়না, মুল্যায়ন হয় শুধু শিল্পকর্মের।

    আজ জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িতে তোলা কয়েকটি ছবি এখানে দিলাম। সাধারন মানুষ এবং বিশেষ ব্যাক্তিত্বরা হাজির হয়েছহিলেন তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা দিতে। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

     

    LEAVE A REPLY