তীব্র গরমে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা জামাইদের

    0
    1566
    সুদীপ্ত আগুয়ান;পূর্ব মেদিনীপুর: তীব্র গরম,এর পাশাপাশি বাঙালির দরবারে এসে হাজির হয়েছে জামাইষষ্ঠি।তাই কার্যত ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জামাইদের।গতকয়েকদিন ধরে যেভাবে তীব্র তাপদাহ লেগে রয়েছে তাতে কার্যত মাথার ঘাম পায়ে পড়ছে জামাইদের।শুধু যে জামাইদের তা নয়।জামাইদের পাশাপাশি এখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন শাশুড়িরাও।তাই কার্যত দিশেহারা শাশুড়ি-জামাই উভয়েই।জামাইষষ্ঠির দিন জামাইরা কি খাবেন কি পরবেন সে নিয়ে যেমন এখন ব‍্যস্ত শাশুড়িরা তেমনই শাশুড়িদের কি উপহার দেবেন জামাইরা সে নিয়েও এখন ব‍্যস্ত জামাইবাবারা।
    জামাইষষ্ঠি মানে ধূতি-পাঞ্জাবি ও তার মাঝে হাতে এক হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে এক অন্য বাঙালিআনার পরিচয়।তবে বর্তমান আধুনিক প্রজন্মের জামাইদের কাছে এই বাঙালিআনা আজ যেন প্রায় মুছে যেতে বসেছে।তারা এখন ধূতি-পাঞ্জাবি ছেড়ে অভ‍্যস্ত জিন্স প‍্যন্ট,ঝাঁ চকচকে জামা ও রঙবেরঙের সানগ্লাসে।শুধু যে এই পরিবর্তন জামাইদের মধ্যে তা নয়।জামাইদের পাশাপাশি শাশুড়িরাও এখন অভ‍্যস্ত নাইটি,চুড়িদারে।আর মিষ্টির হাঁড়ি তো সে কবেই উঠে গেছে।তাই এখনকার জামাইরা বাঙালি জামাই নামকে ঘুঁচিয়ে স্মার্ট জামাইয়ে পরিণত হয়েছে।জামাই হল মেয়ের বর।তাই মেয়ের বরকে এমন দিনে কেনইবা ঘটা করে আদর যত্ন করা হয়?এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়,জামাইষষ্ঠী পার্বণটি লোকায়ত ও সামাজিক প্রথা হলেও মূলত এটি ষষ্ঠী দেবীর পুজো।জামাইয়ের মঙ্গলকামনায় শাশুড়ি ষষ্ঠীর ব্রত পাঠ করেন। জামাইষষ্ঠীর নির্ধারিত দিনটিতে অনেক পরিবারেই শাশুড়িরা মা ষষ্ঠীর পুজোর আয়োজন করেন। কোথাও প্রতিমার ছবিতে, কোথাও বা ঘটে। মা ষষ্ঠী মাতৃত্বের প্রতীক। বিড়াল তাঁর বাহন।ষষ্ঠীপুজোর থালায় পান সুপুরি ধান দুব্বো, ফলফলাদি অর্থাৎ গ্রীষ্মের জোগান যা যা রয়েছে সেই আম জাম কাঁঠাল তরমুজ লিচু ইত্যাদি এবং অবশ্যই তালপাতার একটি নতুন পাখা রাখা হয়। এ ছাড়াও ঘরের বাইরে কোনও দালান বা খোলা জায়গায় বট ও করমচা গাছের ডাল পুঁতে প্রতীকী অর্থে অরণ্য রচনা করে পুজো-আর্চা করা হয়। সে জন্যই এই ষষ্ঠীকে অন্য অর্থে ‘অরণ্যষষ্ঠী’ও বলা হয়।সেকালের এক প্রবচনে ছিল “পুড়বে মেয়ে,উড়বে ছাই তবেই মেয়ের গুন গাই”।আদ‍্যিকালের এই প্রবচন শুনতে হয়তো বর্তমান প্রজন্মের একটু বোকা বোকা লাগবে ও গায়ে জ্বালা ধরবে,কিন্তু সেকালের শাশুড়িদের মুখে ছিল এই প্রবচনের প্রচলন। রোজ ভ‍্যলেনটাইনস ডে,গোলাপ ডে ইত্যাদি নানা ডে পালিত হয়ে থাকে।তবে জামাই ডে পালন হয় বলে মনে হয় শোনা যায় না।তাই এই জামাইষষ্ঠিকে জামাই ডে বলে ভাবতে চান জামাইরা।শ্বশুর বাড়ি মানে যে শুধু শাশুড়ির আদর তা নয়।এর পাশাপাশি থাকে শালা-বউদের সাথে লেগেই থাকে মজার মজার খুনসুটি।এই দিন জামাইবাবুকে নিয়ে সেলিব্রেট করা তাদের কাছে এক অন্য মাত্রা যোগ করা।খেতে বসে সেদিনের সেই প্রবচন “হ‍্যাঁঙলা জামাই খেয়েছে,ধূতি খুলে গিয়েছে” আজও শালা-বউদের মুখেমুখে প্রায় শোনা যায়।হ্যাংলা জামাই শালা-বউদের দেখে চক্ষুলজ্জার খাতিরে এমন নির্লিপ্ত ভাব করে খেতে বসে, যাতে সকলে তাকে আর একটু খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করে।আর এই সুযোগে জামাইদের নিয়ে এক অন্য মজার মাত্রা যোগ করে শালা-বউরা।ফলে বলা যায় শালা-বউরা এদিন জামাইবাবুদের নিয়ে মাতে এক অন্য মাত্রায়।তাই সেকালের এক লোকসংগীতে জামাই ও শালা-বউয়ের এই রসিকতা নিয়ে বলা আছে, “ বলি ও ননদি, আর দু’মুঠো চাল ফেলে দে হাঁড়িতে ঠাকুরজামাই এল বাড়িতে!”
    সব মিলিয়ে ঠাট্টা ও রসিকতার মাঝে বাঙালির এই জামাইষষ্ঠি।তবে তীব্র গরমে জামাইদের মনে এই রসিকতার আঁচ কতটা ছুঁতে পারবে সে টাই একমাত্র প্রশ্ন।তবে সে যাই হোক ভুরিভোজে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেটাই চাইছে জামাই সম্প্রদায়েরা।ফলে গরমের মধ্যে জামাইদের জন্য মাথায় ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে শাশুড়িদের।
    ছবি:-প্রতীকি

    LEAVE A REPLY