ভোট রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়া

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক: কবি বলেছেন মূঢ়, ম্লান, মূক মুখে দিতে হবে ভাষা সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হল এখন আর কারুর মুখে ভাষা জোগাতে হয়না। হাতে খড়ি থুড়ি ইন্টারনেট হলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অবাধ অনুপ্রবেশ । বাস্তবিকই আজ পৃথিবীটা ছোট হতে হতে ড্রয়িংরুমে রাখা বোকাবাক্স থেকে এখন হাতের মুঠোয় হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বন্দি। সকাল থেকে রাত… চলছে স্টেটাস আপডেট। বাসে পাশের সিটে বসে থাকা মুখচোরা ছেলেটি হঠাৎ করে কবি বা সাহিত্যিক হয়ে গিয়েছে। উঠছে প্রতিবাদের ঝড়… পড়ে যাচ্ছে সরকার। নির্বাক অবশেষে হয়ে উঠছে সবাক। সত্যিই তো অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি।
সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তিনটি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে। সুধী পাঠক ভেবে দেখুন জনমানসে কি অসীম প্রভাব সোশ্যাল মিডিয়ার। তবে সোশ্যাল মিডিয়ারও কি কুপ্রভাব নেই। যাচাই করার বালাই নেই,ন্যায়, নীতির ধার না ধরেই আবেগের স্রোতে গা ভাসালেই হল।
গত কয়েক মাস ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ওই মাধ্যমগুলিতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত প্রচারমূলক অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ।
রাজনীতিকদের হিসেব সহজ। যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশকেও যদি প্রভাবিত করা যায়, তাহলেই কেল্লা ফতে। এই ভেবে সবকটি দল সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসে আছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী বিজেপি। তারপরেই আছে কংগ্রেস। বাকিরাও চেষ্টা করছে যে যার সাধ্যমতো। এই প্রথমবার ফেসবুক, ট্যুইটার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতীয় রাজনীতিতে। হারিয়ে যাচ্ছে দেওয়াল লিখন এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালটাই সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম।
এখনও পর্যন্ত ট্যুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ৬০ লক্ষ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যতীত সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি অনুগামী আর কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের নেই। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ট্যুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন ২০১৫ সালে। তাঁর ফলোয়ার ৯০ লক্ষ।
আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী সকলেরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব পাতা রয়েছে। খবরের কাগজ কাল কি ছাপবে তার পরোয়া আজ আর করেনা এখনকার প্রজন্ম। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সবকিছুর লাইভ আপডেট মেলে । দরকার কি খবরের কাগজ বা টেলিভিসনের পর্দায় চোখ রাখার! হাতে একটা স্মার্ট ফোন থাকলেই তো দুনিয়া আপনার হাতের মুঠোয়। তাই দেশের রাজনীতির কর্তাব্যক্তিরাও আজ সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর। হয়ত অতি কথন হয়ে যাবে তবু কে বলতে পারে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও মূল চালিকাশক্তি হবে সোশ্যাল মিডিয়া। হতেই পারে তা শুধু সময়ের অপেক্ষা ।