মর্যাদা পুরুষোত্তম রাম ও রাজনীতি

    0
    132

    খোঁজখবর ঃ  ধর্মীয় উৎসব বাংলায় নতুন কিছু নয় এবং সেই উৎসব পালনের আধিক্যও প্রতি বছরই বাড়ছে৷ অনেক নতুন উৎসব যুক্ত হচ্ছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের ক্যালেন্ডারে৷ বাংলার সাধারণ মানুষেরা রামনবমী উপলক্ষ্যে পুজো করেন। উল্লেখ্য রামনবমী পালন  রাজ্যবাসী খুব একটা টের পেতেন না   কিন্তু গত বছর অস্ত্র মিছিলের জেরেই রামনবমীকে ঘিরে বাংলার ছবিটা বদলে গিয়েছে ৷ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ৷ একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন অস্ত্র ছাড়া মিছিল বের করার ৷ অপরদিকে, দিলীপ ঘোষ সরাসরি অস্ত্র মিছিলের ডাক দিয়েছেন ৷ তাই সমস্ত রীতিনীতিকে তুড়ি মেরে রামনবমী পালনে রাজ্যজুড়ে পথে নামল তৃণমূল কর্মীরা ৷  বীরভূমের সিউড়ির কড়িধ্যায় সকাল ৯টা থেকে রামনবমীর মিছিল বার করতে চলেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। মিছিলে যোগ দিতে শুরু হয়েছে জমায়েত, রয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। গতবছর রামনবমীতে এখান থেকেই শুরু হয়েছিল অস্ত্রমিছিল। তবে এবছর প্রশাসনের আবেদনে সাড়া দিয়ে অস্ত্রমিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে, রামপুরহাট হাইস্কুলের মাঠ থেকে তৃণমূলের নেতৃত্বে বার হবে রামনবমীর শোভাযাত্রা। ভাটশালা মোড়ে রামের পুজো করবেন রাজ্যের মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। হঠাৎ রামনবমী পালনের এত তোড়জোড় কেন তৃণমূলের । রামনবমী উপলক্ষ্যে মিছিল সাধারনত হিন্দু জাগরণ মঞ্চ করে থাকে । রামনবমী নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য-দুই শাসক দলের মধ্যে অলিখিত প্রতিযোগিতা। তৃণমূলের রামনবমী পালন আর খরচের বহর নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে সিপিএম নেতৃত্বে। জেলার সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা করছে তৃণমূল। সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হচ্ছে টাকা। প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন রামনবমী পালন করে। রামের মূর্তি গড়ে পুজোর পাশাপাশি মিছিলও বের হয়। আগে ছোটো হলেও গতবছর শোভাযাত্রা বেশ বড় হয়েছিল। আর তাতে বিজেপি বীরভূমি জমি পেয়ে যাবে বলে ঘুম উড়ে যায় তৃণমূলের। রামপুরহাটে রামনবমী পালনে তৃণমূলের শোভাযাত্রায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিতে চলেছেন। রাম নবমী উপলক্ষ্যে খাওয়ানো হবে খিচু়ড়ি। বিতরণ হবে লাড্ডু।  এদিকে, তৃণমূলের রামনবমী পালনে খুশি বিজেপি জেলা নেতৃত্ব। তৃণমূলের রামনবমী পালনের কথা শুনে জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চৌধুরি বলেন, “রাম হচ্ছে হিন্দুদের মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান। যারা হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করতে চায় তারা নানাভাবে রামনবমী উদযাপন করে। তৃণমূল কংগ্রেস এখন রামের শোভাযাত্রা পালন করছে। আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাম জন্মভূমি নিয়ে আর বিরোধিতা করবেন না। রাম মন্দির অযোধ্যায় হোক এটাই বোধহয় উনি চাইবেন। সংসদেও একথা সমর্থন করবেন। সিপিএমের সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রী কি বাংলায় গুজরাট মডেলের প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে চান?’

    LEAVE A REPLY