“সুসংহত শিশু বিকাশ পরিষেবা কর্মসূচি (আইসিডিএস)”

    0
    81

    pib : প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি (সিসিইএ) ১.৪.২০১৭ থেকে ৩০.১১.২০১৮ পর্যন্ত অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা, কিশোরীদের জন্য প্রকল্প, শিশু সুরক্ষা পরিষেবা এবং জাতীয় শিশু আবাস পরিষেবা কর্মসূচিগুলিকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এর জন্য ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সুসংহত শিশু বিকাশ পরিষেবা কর্মসূচির (আইসিডিএস) আওতায় এইসব কর্মসূচিগুলি পরিচালিত হয়ে থাকে।

    বৈশিষ্ট্য :

    • অনুমোদিত কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে :
    1. অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা
    2. কিশোরীদের জন্য প্রকল্প
    • শিশু সুরক্ষা পরিষেবা
    1. জাতীয় শিশু আবাস কর্মসূচি

     

    • মন্ত্রিসভা আরও যে সব বিষয়গুলি অনুমোদন করেছে, তা হল :
    1. কিশোরীদের জন্য বিশেষ প্রকল্প রূপায়ণের সঙ্গে সঙ্গে তার আওতায় পর্যায়ক্রমে ১১-১৪ বছর বয়সী স্কুলছুট বালিকাদের জন্য প্রকল্পও রূপায়ণ করা হবে।
    2. ১১-১৪ বছর বয়স্ক স্কুলছুট বালিকাদের জন্য বর্তমানে চালু কিশোরী শক্তি যোজনাকে পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হবে।

     

    • মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে কেন্দ্রীয় ক্ষেত্র থেকে জাতীয় শিশু আবাস প্রকল্পটিকে পরিবর্তন করে কেন্দ্রের সহায়তাপ্রাপ্ত এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে, ব্যয় ভাগাভাগি করে একটি প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। সমস্ত রাজ্য এবং বিধানসভা সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৬০:৪০ ভিত্তিতেব্যয় বহন করা হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি ও হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ব্যয়ের এই অনুপাত হবে ৯০:১০ এবং বিধানসভা-বিহীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ১০০ শতাংশ হারেই কেন্দ্রীয় সরকার এর ব্যয় বহন করবে। বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মাধ্যমে এই প্রকল্পের রূপায়ণ না করে, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এগুলি রূপায়ণ করবে।

     

    প্রভাব :

    ওপরে উল্লিখিত প্রকল্পগুলির কোনটিই নতুন নয়, দ্বাদশ যোজনাকালের সময় থেকেই এগুলি চলছে। এই কর্মসূচিগুলিতে যথাযথভাবে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অপুষ্টি, রক্তাল্পতা এবং কম ওজনের শিশু প্রসবের মতো সমস্যা কমানোর চেষ্টা করার কথা ভাবা হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরী বালিকাদের ক্ষমতায়ন, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সুরক্ষা, কর্মরত মায়েদের শিশু-সন্তানদের দিনের বেলায় থাকার জন্য নিরাপদ আবাসের ব্যবস্থার সংস্থানও এই কর্মসূচিগুলিতে রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও ভালোভাবে নজরদারি ও সমন্বয়সাধন করে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মসম্পাদন, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই প্রকল্প রূপায়ণে উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে এইসব প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে, তাও সুনিশ্চিত করা হবে।

     

    সুবিধাপ্রাপক :

    ১১ কোটিরও বেশি শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং স্তনদাত্রী মা ও কিশোরী বালিকা এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবে।

     

    আর্থিক ব্যয়বরাদ্দ :

    ১.৪.২০১৭ থেকে ৩০.৪.২০১৮ পর্যন্ত এইসব ছোট ছোট প্রকল্পের জন্য নিম্নলিখিতভাবে আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    সহায়ক প্রকল্পের নাম অনুমোদিত বরাদ্দের পরিমাণ
    অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা ৩৪৪৪১.৩৪
    জাতীয় পুষ্টি মিশন (প্রস্তাবিত) ৪২৪১.৩৩
    কিশোরী বালিকাদের জন্য প্রকল্প ১২৩৮.৩৭
    শিশু সুরক্ষা পরিষেবা ১০৮৩.৩৩
    জাতীয় শিশু আবাস প্রকল্প ৩৪৯.৩৩
    মোট ৪১৩৫৩.৭০

     

    রূপায়ণের কৌশল এবং লক্ষ্যমাত্রা :

    সারা দেশে আগে থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা এবং শিশু সুরক্ষা পরিষেবার কাজ চলছে। কিশোরী বালিকাদের জন্য প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে প্রসারিত হবে। জাতীয় শিশু আবাস প্রকল্পটি ২৩৫৫৫টি শিশু আবাসে রূপায়িত হবে। জাতীয় পুষ্টি মিশন-এর জন্য পৃথকভাবে অনুমোদন নেওয়া হবে।

    অন্তর্ভুক্ত রাজ্য/জেলা :

    সারা দেশে আগে থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা এবং শিশু সুরক্ষা পরিষেবার কাজ চলছে। জাতীয় পুষ্টি মিশন-এর কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু করা হবে। অনুরূপভাবে কিশোরী বালিকাদের জন্য প্রকল্পটিও পর্যায়ক্রমে প্রসারিত হবে।

     

    প্রেক্ষাপট :

    ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে সরকার বর্তমানে প্রচলিত কর্মসূচিগুলির কিছুটা রদবদল করেছে এবং এগুলিকে সুসংহত শিশু বিকাশ পরিষেবা কর্মসূচির ছাতার তলায় সহায়ক কর্মসূচি হিসেবে আনা হয়েছে। যাদের প্রয়োজন, সেইসব শিশুদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে এইসব সহায়ক কর্মসূচিগুলিকে চালিয়ে যাওয়া দরকার। এইসব কর্মসূচিগুলির লক্ষ্য হচ্ছে নিম্নরূপ :

    1. অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা (আইসিডিএস)-র মাধ্যমে ছ’বছরের নিচের শিশুদের সর্বাঙ্গীন বিকাশ এবং এই কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপক শিশুরাই। এছাড়া, গর্ভবতী এবং স্তনদাত্রী মায়েদের কল্যাণের জন্যও এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন ধরনের সংস্থান রয়েছে।

     

    1. কিশোরী বালিকাদের জন্য প্রকল্পটিকিশোরীদের শিক্ষা, পুষ্টি, সুস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত যথাযথ ধারণার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন এবং তাদেরকে স্বনির্ভর ও ভবিষ্যতের উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে। স্কুলছুট বালিকাদের অঙ্গনওয়াড়ি, প্রচলিত/অপ্রচলিত শিক্ষার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন ধরনের জন-পরিষেবা বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের কথা ভাবা হয়েছে।

     

    1. শিশু সুরক্ষা পরিষেবার লক্ষ্য হচ্ছে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। যত্ন এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষতির সম্ভাবনা হ্রাস করা। এইসব শিশুদের যাতে কোনভাবেই শোষণ, উপেক্ষা, মারধর, পরিত্যাগ অথবা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা না হয়, তার জন্য অ-প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সরকার ও নাগরিক সমাজের যৌথ অংশীদারিত্বে একটি উপযুক্ত মঞ্চ গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে। একইসঙ্গে, শিশুদের বিকাশ সংক্রান্ত সব ধরনের সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে এই পরিষেবা শুরু করা হয়েছে।

     

    1. জাতীয় শিশু আবাস প্রকল্পটি কর্মরত মহিলারা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের কাজের সময় সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে যেতে পারেন, মূলতঃ সেই কথা ভেবেই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং তাঁরা যাতে চাকরি-বাকরির কথা ভাবতে পারেন, সেই ধরনের পরিবেশ গড়ে তোলার কথাও ভাবা হয়েছে। একইসঙ্গে, ছ’মাস থেকে ছ’বছর বয়সের শিশুদের সুরক্ষা এবং বিকাশের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    LEAVE A REPLY