সংখ্যালঘু অধিকার দিবস – বিবিধের মাঝে মিলনই বাংলার পাথেয়

    0
    117

    খোঁজখবর :  সংখ্যালঘু অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটের মাধ্যমে তিনি সকল সংখ্যালঘুকে শুভেচ্ছা বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “সংখ্যালঘু অধিকার দিবসে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।” গত ছয় বছরে রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু উন্নয়নে নিয়েছে প্রচুর পদক্ষেপ। দেখে নেওয়া যাক গত ছয় বছরে এই সকল প্রকল্পের কিছু সফলতা।

    বাজেট বরাদ্দ ও সম্পদ সৃষ্টিঃ-

    · পরিকল্পিত বাজেট ২০১০-১১ তে ৪৭২ কোটি থেকে রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে ২০১৭-১৮ তে ২৮১৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

    · ৩১টি আইএমডিপি ব্লকে জরুরী পরিকাঠামোগত ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে আইএমডিপি-এর আওতায় ২০০ কোটিরও বেশী অর্থ ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    · দ্বাদশ পরিকল্পনা কালে, এমএসডিপি তহবিল কাজে লাগানোর সাপেক্ষে পশ্চিমবঙ্গ দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০১১-১৭ সময়কালে ১৫১টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জরুরী পরিকাঠামোগত ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ২৪০০ কোটিরও বেশী টাকা দেওয়া হয়েছে।

    · এই পরিকল্পনার আওতায় গ্রামীণ এলাকার জরুরী পরিকাঠামো বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১২০০০-এর বেশী শ্রেণীকক্ষ, ১২০০০-এর বেশী আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, ১০০০-এরও বেশী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৮০০০-এর বেশী পানীয় জল পরিষেবা কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে।

    সরকারি ক্ষেত্রে ও উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণঃ-

    · নতুন আইন প্রণয়ন করে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর তালিকা সম্প্রসারিত করে অতিরিক্ত ১০৭টি মুসলিম সম্প্রদায়কে তার অন্তর্ভুক্তকরা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার ৯৭%-এর বেশী অনগ্রসর শ্রেণী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সংরক্ষণের যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।

    · সাধারনের জন্য আসন সংখ্যা না কমিয়েই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান(শিক্ষায় সংরক্ষণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৭% সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রভূত উপকৃত হয়েছে।

    · অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীভুক্ত মানুষদের জন্য রাজ্য সরকারি চাকরিতেও ১৭% সংরক্ষণ প্রথা চালু করেছে।

    উন্নয়ন পর্ষদঃ-

    · পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে আরও গুরুত্ব আরোপ করতে পশ্চিমবঙ্গ পাহাড়িয়া সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ১০ কোটি টাকা প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বৃত্তি ও ঋণঃ-

    · ২০১১-১৭ সময়কালে ১ কোটি ২৪ লক্ষেরও বেশী সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রী বৃত্তি পেয়েছে (সর্বকালীন রেকর্ড), যা ২০০৫-১১ সময়কালের ৯ লক্ষের তুলনায় অনেক বেশী।

    · ২০০৫-১১ সময়কালের ১৭২ কোটি টাকার বৃত্তির তুলনায় ২০১১-১৭ সময়কালে ২৭১৪ কোটি টাকার বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

    · ২০০৫-১১ সময়কালের ১.৫ লক্ষের তুলনায় ২০১১-১৭ সময়কালে প্রায় ৭.৫ লক্ষ সংখ্যালঘু যুবক-যুবতী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসংস্থানের জন্য মেয়াদি ঋণ ও ক্ষুদ্র ঋণ পেয়েছে।

    · ২০০৫-১১ সালের ২৩০ কোটির তুলনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০৫৪ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ এবং ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষাগত উন্নতিঃ-

    · পার্ক সার্কাসে অতিরিক্ত ক্যাম্পাস-সহ নিউটাউনে অত্যাধুনিক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার প্রকল্প ব্যয় ৫১৭ কোটি টাকা।

    · যুবক-যুবতীদের কারিগরি শিক্ষা প্রদান ও চাকুরির সুযোগ তৈরীর জন্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ৮টি নতুন পলিটেকনিক ও ৩৯টি নতুন আইটিআই নির্মিত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৪টি নতুন পলিটেকনিক ও ২২টি নতুন আইটিআই তৈরী হয়েছে।

    · নতুন প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষাপ্রদানের উদ্দেশ্যে সারা রাজ্যে ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এমন ৯টি মাদ্রাসা কাজ শুরু করেছে।

    · সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের বৈদ্যুতিন সাক্ষরতা প্রদানের ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ দেশের কতিপয় রাজ্যের অন্যতম। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    · শিক্ষার অগ্রগতির লক্ষ্যে ৪০০কোটি টাকারও বেশী ব্যয়ে রাজ্য জুড়ে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৪১৯টি হোস্টেল তৈরী হয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৪৭টি হোস্টেল চালু হয়েছে গেছে।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও নিয়োগঃ-

    · বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক শিক্ষন প্রকল্পকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। মডিউলার এমপ্লয়েবিলিটি স্কিল-এর অনুসরণে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.৫লক্ষ যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ পেয়েছে। ৩০০০০ যুবক যুবতীর আর একটি দল বর্তমানে প্রশিক্ষণ পাচ্ছে।

    · সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘু যুবক যুবতী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির স্বনিযুক্তির সুযোগ তৈরীর জন্য ৭৫০ কোটি টাকারও বেশী ব্যয়ে ৩০২টি কর্মতীর্থ (মার্কেটিং হাব) তৈরী করা হয়েছে।

    আবাসনঃ-

    · পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য এবং রাজ্য সরকারের ‘সবার জন্য আশ্রয়’ অঙ্গীকার পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের আওতায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১.৫ লক্ষ আবাসন গৃহ গড়ে তোলা হয়েছে।

    ভাষার উন্নতিঃ-

    · সেইসব এলাকায় যেখানে ১০%-এর বেশী মানুষ উর্দু, নেপালি, গুরুমুখি প্রভৃতি ভাষায় কথা বলেন, সেখানে এই ভাষাগুলিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল অফিসিয়াল ল্যাঙ্গোয়েজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন প্রনয়নের ফলে এইসব ভাষায় কথা বলা মানুষের সরকারি দপ্তরে নিজেদের মাতৃভাষায় আদানপ্রদানের ব্যাপারে দীর্ঘদিনের দাবীপূরণ হয়েছে।

    · গত ছয় বছরে ওয়েস্ট বেঙ্গল উর্দু আকাদেমির বরাদ্দ পাঁচগুণ বাড়ানো হয়েছে।

    সংখ্যালঘু ভবনঃ-

    · সংখ্যালঘু কল্যাণ কার্যাবলী একীভূত করার জন্য প্রতিটি জেলা সদর দপ্তরে সংখ্যালঘু ভবন খোলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৯টি ভবন কাজ করছে।

    হজ তীর্থযাত্রাঃ-

    · ১০০ কোটি টাকা খরচে নিউ টাউনে ‘মদিনাতুল হুজ্জাজ’ নামে নতুন অত্যাধুনিক হজ ভবন নির্মিত হয়েছে।

    · গত ছয় বছরে রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহায়তায় প্রায় ৬০০০০ হজযাত্রী তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করেছেন। এটি একটি রেকর্ড।

    কবরখানার সীমানা প্রাচীরঃ-

    · মৃতদের মর্যাদা রক্ষার্থে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫০০ কবরখানার চতুর্দিকে সীমানা পাঁচিল তৈরী করা হয়েছে। এর জন্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশী দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ কবরখানার প্রাচীর সম্পন্ন হয়েছে।

    ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক কার্যকলাপঃ-

    · স্কুল ও মাদ্রাসাছুট ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমানো, টীকাকরণ, শৌচ ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরীতে সরকারকে সাহায্য করার জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ ওয়াকফ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৫০০০ ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে কাজে লাগিয়েছে। তারা ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা করার জন্যও বোর্ড অফ ওয়াকফকে সাহায্য করেছেন।

    LEAVE A REPLY