প্রথম বাজেট পেশ : কতটা সফল হবেন দেশের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী !

খোঁজখবর,ওয়েব ডেস্ক : ইন্দিরা গান্ধির পর নির্মলা সীতারমণই প্রথম একজন মহিলা যিনি পূর্ণ মন্ত্রী রূপে অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পেলেন ৷ ১৯৭০-৭১ সালে প্রধানমন্ত্রীত্বের সঙ্গে সঙ্গে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাতেন ইন্দিরা গান্ধি ৷ স্বাভাবিক ভাবেই মোদী সরকারের সেকেন্ড ইনিংসে যখন অর্থমন্ত্রকের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন নির্মলা সীতারমণ বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক।
কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার কথা আগামী ৫ জুলাই। অর্থ মন্ত্রক আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পেশ হওয়া অর্ন্তবর্তীকালীন বাজেটের বরাদ্দ কার্যত অপরিবর্তিত রাখা হবে। এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে মন্ত্রক।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, প্রথমবারের জন্য বাজেট পেশ করতে গিয়ে নির্মলাকে একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে অর্থনীতির মন্দাভাব দূরীকরণের উপায় স্থির করা, রফতানি বাড়ানো, নতুন চাকরি সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ, কৃষিক্ষেত্রের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা ইত্যাদি।

প্রথম মোদি সরকারের ক্যাবিনেটে ছিলেন প্রথম মহিলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৷ ১৯৮২ সালে ইন্দিরা গান্ধির পর বহুবছর বাদে একজন ভারতীয় মহিলার দায়িত্বে ছিল ভারতের সুরক্ষা ৷ সফলভাবে সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করার পর এবার ফের গুরুত্বপূর্ণ ও নয়া ভূমিকায় নির্মলা সীতারমণ ৷ আজ সফল রাজনীতিবিদ, সাংসদ ও সর্বপরি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ৷ নির্মলা সীতারমণের পেশাগত জীবনের শুরু হয়েছিল একজন সেলস গার্ল হিসেবে ৷

এরপর দীর্ঘ দিনের সঙ্গী ডঃ পরাকালা প্রভাকরের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন নির্মলা সীতারমণ ৷ জওহরলাল নেহেরু ইউনির্ভাসিটিতেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় নির্মলা সীতারমণের ৷ এরপর পিএইড ডিগ্রির জন্য লন্ডনে যান ডঃ প্রভাকর ৷ স্বামীর সঙ্গেই টেমসের পাড়ে সংসার পাতেন নির্মলা ৷রাইজিং ইন্ডিয়ার মঞ্চে নির্মলা সীতারমণ এরপর দীর্ঘ দিনের সঙ্গী ডঃ পরাকালা প্রভাকরের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন নির্মলা সীতারমণ ৷ সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লন্ডনের এক হোম স্টোরে সেলস গার্লেরও কাজ করেছেন নির্মলা ৷ পরে অবশ্য তিনি লন্ডনে একটি সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজার পোস্টে কাজ করতেন ৷ ২০০৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যও ছিলেন নির্মলা সীতারমণ ৷ সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লন্ডনের এক হোম স্টোরে সেলস গার্লেরও কাজ করেছেন নির্মলা ৷ সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লন্ডনের এক হোম স্টোরে সেলস গার্লেরও কাজ করেছেন নির্মলা ৷ ৷ ২০০৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যও ছিলেন নির্মলা সীতারমণ ৷
তবে মোদী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বাজেট পেশ করার সময় নির্মলার পূর্বসুরী অর্থমন্ত্রী অরুণ জেঠলি বা ইউপিএ আমলের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের সঙ্গে তুল্যমূল্য তুলনা টানা হবে এটা নির্মলা ভালোই জানেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্বভার বুঝে নেওইয়ার পরেই যে ভাবে তিনি দুর্নীতি পরায়ন আয়কর অফিসারদের বিরুদ্ধে সাফাই অভিযান শুরু করেছেন তাতে তিনি যে বড় সহজ ঘাঁটি নন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ভালোভাবে। এখন দেখার নিজের প্রথম বাজেটের বৈতরণী কতটা ভালোভাবে উতরণ তিনি।

রাজ্যে পদ্ম শিবিরের বাড়বাড়ন্তে কতটা সুরক্ষিত সংখ্যালঘু সমাজ !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার আগেই সেই বহু চর্চিত সবকা সাথ, সবকা বিকাশ সবকা বিশ্বাস এর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এখানেই উঠে আসছে একঝাঁক প্রশ্ন। দেশে বিশেষত আমাদের এই রাজ্যে পদ্ম শিবির আশাতীত ভালো ফল করার পর সংখ্যালঘুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অনেকের মতে, এখনই গেল গেল রব তোলার কিছু নেই। কেউ কেউ শঙ্কার কারণ দেখছেন।

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ফল নিয়ে বাড়তি কৌতূহল ছিল। অনুমান সত্যি করে এই রাজ্যে আশ্চর্য উত্থান হয়েছে বিজেপির। ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জিতেছে তারা। সেই ধাক্কায় রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ২২-এ। শুধু আসনের বিচারে নয়, প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ১৩০টিতে এগিয়ে আছে তারা। এই ফলের পর জোর আলোচনা চলছে তবে কি ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে গেরুয়া শিবির। অবশ্য তার উত্তর দেবে সময়।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে কি না, তা পরে জানা যাবে। কিন্তু, লোকসভা ভোটে তাদের উত্থান আরও একটি জরুরি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সেটা হল সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা। ভারতের যে সব প্রদেশে মুসলিমদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তার মধ্যে অন্যতম এই বাংলা। দেশে তাদের সংখ্যা মোট জনসমষ্টির ১৫ শতাংশের কম হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা প্রায় ৩০ শতাংশ। এমন একটি রাজ্যে বিজেপির অগ্রগমন অনিবার্য প্রশ্নটি তুলে ধরেছে, সংখ্যালঘুদের ভবিষ্যৎ কি এখানে নিরাপদ? এর উত্তরে সবাই গেল গেল রব তুলতে রাজি নন।

অনেকেই বাংলার পরম্পরার উপর ভরসা রাখছেন, যেখানে ধর্মের থেকে সংস্কৃতি বেশি গুরুত্ব পায়। বাংলা থেকে উর্দুতে অনুবাদের কাজ করেন সাবির আহমেদ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “সেই সময়” উপন্যাস অনুবাদ করেছেন তিনি। সাবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আমাদের রাজ্যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হয় না। এখানে সংস্কৃতির জোর অনেক বেশি। মৌলবাদী শক্তি পশ্চিমবঙ্গে তাই কখনও দাঁত ফোটাতে পারেনি। তাই এখানে ধর্ম দিয়ে বিভেদ তৈরি করা এত সহজ নয়।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে “আমাদের রাজ্যে সবাই মিলেমিশে থাকে। দেশের অন্যত্র হিংসা হলেও এখানে তার আঁচ পড়ে না। তাই বিজেপির শক্তি বাড়ায় পশ্চিমবঙ্গে দুই সম্প্রদায় লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে, এটা ভাবা ঠিক নয়।”

ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। সেখানেও রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এই রাজ্যগুলিতে বড়সড় গন্ডগোল হয়নি বটে। তবে গুজরাত থেকে আসাম, সরকারি নানা কাজকর্মে হিন্দুত্বের প্রভাব স্পষ্ট। গো-বলয়ে গো-রক্ষকদের দাপাদাপিও বেড়েছে। বাড়ির ফ্রিজে গোমাংস আছে, এই সন্দেহে উত্তরপ্রদেশে মহম্মদ আখলাককে মারা হয়েছে। বিজেপি সরকার এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করলেও তা সংখ্যালঘুদের মনে কি আতঙ্ক তৈরি করে না? প্রাক্তন সাংসদ, প্রবীণ রাজনীতিক সর্দার আমজাদ আলির মতে, এতে ভয় তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এখনই সেই ভয়ের কারণ তৈরি হয়ে গিয়েছে। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, “বিজেপি এখানে শক্তি বাড়িয়েছে, এটাই সব নয়। তারা কীভাবে প্রচার চালাচ্ছে, সেটা বিচার করা জরুরি। বিজেপি জয় শ্রীরাম স্লোগান সামনে রেখেছে। একটা বিশেষ ধর্মের মানুষকে কাছে টেনে মেরুকরণের জন্য একে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ থাকতেই পারে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রথম ভাষণে বলেছেন, সবার সঙ্গে সবার উন্নয়নের স্লোগানে তিনি এ বার সবার আস্থা অর্জনকেও জুড়তে চান। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে দেশের মুসলিমদের বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি। ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘুদের কিছুটা সমর্থনও এ বার বিজেপি পেয়েছে। নইলে দেশের মুসলিম অধ্যুষিত ৯০টি জেলার ৭১টি আসনের মধ্যে ৪১টিতে বিজেপি জয় পেত না। সম্ভবত মোদী সরকারের তিন তালাক প্রথা বাতিলের উদ্যোগ সংখ্যালঘু মহিলাদের প্রভাবিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সবার আস্থা অর্জনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সর্দার আমজাদ আলি। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি যদি সত্যিই সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে চাইত তাহলে তাদের আরও বেশি সংখ্যায় প্রার্থী করত, তাদের জিতিয়ে আনত লোকসভায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব বেশি থাকত। শুধু সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের ভার দেওয়া হয়েছে একজনকে। এটা থেকে সদিচ্ছার প্রমাণ মেলে না।”

পশ্চিমবঙ্গে ভবিষ্যতে যদি মেরুকরণ তীব্রতর হয়, বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলেও দুই সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই অনেকে মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে “বাংলায় সাংস্কৃতিক চেতনা প্রখর। ধর্মের উপরে তার জায়গা। তাই ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান তৈরি হওয়ার পর ভাষার দাবিতে ভেঙে গিয়েছে। বাঙালির কাছে ইসলামের থেকে মাতৃভাষা, সংস্কৃতি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও তাই ধর্ম নিয়ে বিবাদ বড় আকার নেবে না।” “হিন্দুত্বের বোধ জাগানোর চেষ্টা করা হলেও গোবলয়ের মতো ধর্মান্ধতা এখানে নেই। ধর্ম নিয়ে মাতামাতি ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু, তাতে পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হবে না। তাছাড়া প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের ভালোমন্দ উপেক্ষা করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যাবে না, এটা বিজেপি নেতৃত্বও জানেন।”

মহামারির মত ছড়াচ্ছে কিশোর- কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক :  শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু। প্লাস্টিকে শ্বাসরোধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে জিডি বিড়লা স্কুলের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী কৃত্তিকার। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসছে তথ্য। মেধাবী ছাত্রী কৃত্তিকা কেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে আত্মহননের পথ বেছে নিল। কেরিয়ারের তুঙ্গে পৌছানোর চাপ নাকি বাবা, মা-এর আকাশছোঁয়া প্রত্যাশার চাপ বড় বেশি একা করে দিচ্ছে এই প্রজন্মকে বড় বেশি করে অসহিষ্ণু করে তুলছে বর্তমান প্রজন্মকে , যার অন্তিম পরিনতি আত্মহত্যা ।
রিপোর্টে উল্লেখ, আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল কৃত্তিকা। প্লাস্টিকের ফলে শ্বাসরোধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে। বাম হাতের শিরা কাটা ছিল। নিজেই হাতের শিরা কেটেছিল কৃত্তিকা। ডান হাতের আঙুলে জোর কিছু চেপে ধরার দাগ রয়েছে। কোনও ধারালো, তীক্ষ্ম কিছুকে জোরে চেপে ধরলে এ ধরনের দাগ হয়ে থাকে।

গবেষণায় বলছে কিশোর কিশোরীদের যারা অবহেলা, কটূক্তি, অপরাধ প্রবণতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয়- তারা আত্মঘাতী এবং আত্মহত্যা প্রবণ বেশি হয়ে থাকে। লন্ডনের কিংস কলেজের একটি গবেষণায় এমন ফলাফলই দেখা গেছে।

তবে এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, কৈশোর বয়সে এমন সব সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাদের আত্মহত্যার প্রবণতাও বন্ধ করা যেতে পারে।পৃথিবী জুড়েই কিশোরদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ আত্মহত্যা এবং আত্ম-পীড়ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে এমন চিত্রই পাওয়া যায়:আত্মহত্যা এবং আত্ম পীড়নের কারণে আনুমানিক ৬৭ হাজার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

– ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও কিশোর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান দুইটি কারণ এগুলোই।আত্ম পীড়নের প্রবণতা কিছুটা পরিণত বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী পরিণত কিশোরীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হল এই আত্মহত্যা ও আত্মপীড়ন।

গবেষণায় দেখা গেছে এক তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী গুরুতর নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকে।এ বিষয়টিকে ঘিরে একটি দীর্ঘ মেয়াদী গবেষণা চালানো হয় । ১৯৯৪-৯৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জন্ম নেয়া দুই হাজার ২৩২ জন যমজদের দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।সেখানে তাদের বিভিন্নভাবে এবং ব্যাপক হারে নিপীড়নের শিকার হওয়ার প্রমাণ মেলে।তাদের বয়স যখন ১৮ বছর হয় তখন তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কৈশোরকালীন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের বিষয়ে সাক্ষাতকার নেয়া হয়। সেসব ঘটনার মধ্যে ছিল নির্যাতন, অবহেলা, যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, ভাই বা বোনের দ্বারা নির্যাতন, সাইবার নিপীড়ন ইত্যাদি।

গবেষণা থেকে উঠে আসা চিত্রে দেখা গেল যে, এক তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী তাদের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে অন্তত একবার গুরুতর নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকে।আর অন্তত ৭% দুই থেকে তিন ধরনের গুরুতর নিপীড়নের শিকার হয়। প্রায় এক পঞ্চমাংশের ( ১৮.৯%) ক্ষেত্রে ছিল কিছু স্ব-ক্ষতিকারক চিন্তা ও আচরণ।
মহামারীর মত ছ্বড়াচ্ছে কিশোর – কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা

যেসব কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এমন বিষয় ঘটেনি তাদের তুলনায় এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এ ধরণের চিন্তাভাবনা বেশি ছিল।

যারা অতিরিক্ত নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আত্ম-পীড়নের ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়েছে এবং আত্মহত্যার চেষ্টার ঝুঁকি বেড়েছে তিনগুণ।

তিন বা ততোধিক ধরনের নিপীড়নের শিকারে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক কিশোর আত্মঘাতী ভাবনা এবং আত্ম-নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছিল। আর এর এক চতুর্থাংশ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু, পারিবারিক এবং ব্যক্তিগতভাবে এই ঝুঁকিগুলোর মোকাবিলা করার পরেও এমন অভিজ্ঞতার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আত্মঘাতী ভাবনা বা আত্ম-পীড়নের প্রবণত বাড়তে দেখা গেছে, যদিও তারা আত্মহত্যার চেষ্টা আর করেনি।

নিপীড়নের শিকার হওয়ার হাত থেকে কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করার কিছু উপায় গবেষণায় উঠে আসে।

তারমধ্যে রয়েছে-স্কুলভিত্তিক কটূক্তি নিরোধ পদক্ষেপ নেয়া, পারিবারিক সহায়তা কর্মসূচি এবং কমিউনিটিতে সুরক্ষা উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের আত্মঘাতী ভাবনা ও কাজে ক্ষতির সম্ভাবনা হ্রাস করা।

এই সাথে এটিও বলা হয়েছে যে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বয়:সন্ধিকালের অকাল মৃত্যু ঠেকানোর সাথে সাথে আগে থেকে বিদ্যমান সমস্যাগুলোরও মোকাবিলা করতে হবে।

মনোবিদরা বলেন আমাদের গবেষণাতে দেখা গেছে যে কৈশোরে নির্যাতনের ঘটনা তাদেরকে আত্ম-পীড়ন ,আত্মহত্যা এবং তার চেষ্টার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা বাজে ব্যবহার, কটূক্তি, সাইবার বুলিং বা অন্যান্য নিপীড়নের মুখোমুখি হয়।” এক্ষেত্রে বিষয়গুলোকে সামনে আনলে আর তাদের পাশে থাকলে তাদেরকে এমন প্রবণতা থেকে বের করে আনা সম্ভব বলে মনে করেন মনোবিদরা
তার মতে, অল্প বয়সীদের সাথে এধরনের কাজ আরও বিস্তৃতভাবে হওয়া উচিৎ। কেননা নির্যাতিত কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য দুর্বল থাকে আর তাদের আত্ম নিপীড়নের হারও থাকে বেশী।

রাজনৈতিক স্বার্থেই দূরে যাবে বর্ণভেদের রাজনীতি বলছে সমীক্ষা !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : আচ্ছা দেশ জুড়ে কি জাতপাতের রাজনীতি পাততাড়ি গোটাচ্ছে, এমন একটা প্রশ্ন আচমকা শুনলে বিষম খাওয়া স্বাভাবিক। আসলে লোকসভা নির্বাচনের পর একটি সংস্থার সমীক্ষায় এমনটাই তথ্য বা পরিসংখ্যান যা বলুন না কেন উঠে আসছে।

সম্প্রতি ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটি’র (সিএসডিএস) ভোট পরবর্তী সমীক্ষা রিপোর্টে পরিসংখ্যান দিয়ে কিন্তু দেখানো হয়েছে, এসপি-বিএসপি-র পরাজয়ের কারণ অন্য। এই দলগুলির পুরানো ভোটব্যাঙ্কেই ক্ষয় ধরেছে। এসপি-র যাদব এবং বিএসপি-র দলিত ভোট অনেকটাই টেনে নিতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি।

রাজনৈতিক শিবিরে অতএব প্রশ্ন উঠছে, জাতপাতের রাজনীতি কি তা হলে শেষ হয়ে আসছে? লালুপ্রসাদ, অখিলেশ, মায়াবতীর মতো নেতাদের আধিপত্য বজায় রাখতে না-পারা কি সেটাই চিহ্নিত করছে না? পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্নও সামনে আসছে। একমাত্র দাক্ষিণাত্য ছাড়া (যেখানে আঞ্চলিক দলগুলির জাত্যভিমান প্রখর) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক দলগুলির কি তবে বিপদঘন্টা বেজে গেল? এই তালিকায় তৃণমূলও রয়েছে কি? তা নিয়েও আলোচনায় সরগরম রাজধানী।

আপাতত উত্তরপ্রদেশকে নিয়ে সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, হিন্দু মুসলমান মেরুকরণের জেরে মুসলমান ভোটব্যাঙ্ক মোটামুটি ধরে রাখতে পারলেও যাদবদের কিন্তু হারিয়েছেন অখিলেশ। অথচ যাদব এবং মুসলিমই ছিল মুলায়ম সিংহদের সাবেকি শক্তি। আগের লোকসভা ভোটেও ৭৫ শতাংশ যাদব ভোট পেয়েছিল এসপি। কিন্তু এ বার এসপি-র যাদব ভোটের ১০ শতাংশেরও বেশি চলে গিয়েছে বিজেপির বাক্সে, মন্ডল-কমন্ডল রাজনীতি শুরু হওয়ার পর কখনও যেটা হয়নি।

অন্য দিকে মায়াবতীর জাটভ ভোটের ১৮ শতাংশ পেয়েছে বিজেপি। সমীক্ষায় প্রকাশ, জাটভ সম্প্রদায়ভুক্ত নয় এমন দলিত ভোটেরও মাত্র ৩৯ শতাংশ গিয়েছে বিএসপি এবং ৪৬ শতাংশ গিয়েছে এসপি প্রার্থীর কাছে। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, অর্ধেকেরও বেশি দলিত ভোট (যারা জাটভ নন) পেয়েছে বিজেপি। আবার যারা যাদব নন, এমন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির একটি বিরাট অংশের ভোটও (৭২ থেকে ৭৫ শতাংশ) পেয়েছে বিজেপি।

কী ভাবে? রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, ছোট ছোট দলিত গোষ্ঠী এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিকে জাতের ঊর্ধ্বে উঠিয়ে এনে হিন্দুত্বের মঞ্চে নিয়ে আসতে পেরেছে বিজেপি। আঞ্চলিক দলগুলির দীর্ঘদিনের ব্যর্থতাই সেটা সম্ভব করেছে। সামাজিক ন্যায়কে সামনে রেখে উঠে আসা এসপি এবং বিএসপি ক্রমশ তাদের মূল মন্ত্র থেকে সরে এসেছে। পিছড়ে বর্গকে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে গড়ে তুলতে পারেননি মায়া মুলায়ম। বরং আঞ্চলিক আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের নামে তৈরি হয়েছে বাহুবলীকেন্দ্রিক রাজনীতি। পাশাপাশি দরিদ্র যুবসম্প্রদায় যে আর জাতপাতের রাজনীতিতে আস্থা রাখছেন না, সেটিও স্পষ্ট। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা না মিটিয়ে জাতপাতকেই মোক্ষ করতে মানুষ যে নারাজ, তা ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশের বিধান সভা ভোটে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে জাত্যাভিমানকে দূরে ঠেলে কি দেশের দলিত বা পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীগুলিকে কতটা আপন করে নিতে পারবে বিজেপির মত উগ্র হিন্দুত্বের ধ্বজা ধরা দল । তবে তা তার হয়ত একমাত্র দিতে পারে ভবিষ্যৎ ।

আজীবন নিজেকে তরুণ দেখতে চায় চাইলে খান এই সব খাবার

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্ক ঃমুসবা তিন্নি :  আজীবন নিজেকে তরুণ দেখতে চায় এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। নিজেকে তরুণ দেখতে যারা ভালোবাসেন তাহলে জেনে নিন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যেগুলো খাওয়া শুরু করলে ত্বকের বয়স তো কমবেই, সেই সঙ্গে জিনের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করবে যে তার প্রভাবে শরীরেরও বয়স কম দেখাবে।

এই খাবারগুলি খেলে কিন্তু বাস্তবিকই বয়স ধরে রাখা সম্ভব। কথাটা শুনে বিশ্বাস হচ্ছে না নিশ্চয়? ভাবছেন খাবারের সঙ্গে বয়সের কী সম্পর্ক, তাই তো! আসলে বেশ কিছু খাবারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেমন ধরুন নিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা বয়স তো কমায়, সেই সঙ্গে শরীরকেও চাঙ্গা রাখে।

মাছ: যেমনটা আমরা সকলেই জানি যে মাছে রয়েছে ওমেগা-ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদানটি শরীরের অন্দরে যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতে দারুন কাজে আসে। ফলে শরীরের বয়স বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই সপ্তাহে দুবার অন্তত মাছ খান। এমনটা করলে দেখবেন স্ট্রোক এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমবে। ফলে বাড়বে আয়ু।

টমেটো: লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে টমেটোতে, যা ত্বকের বয়স কমায়। শুধু তাই নয়, স্টমাক, লাং এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে প্রতিরোধ করতেও এই সবজিটি দারুন কাজে আসে।

দই : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দই খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে রিবোফ্লাবিন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি১২ এর মাত্রাও বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে শরীরের বয়স কমে চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: শরীরের বয়স কমাতে এই উপাদানটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই দেহকে রোগমুক্ত রাখার পাশাপাশি শরীর এবং ত্বকের বয়স যদি ধরে রাখতে চান, তাহলে রোজের ডায়েটে মটরশুঁটি, ডাল, ব্রকলি, ছোলা, অ্যাভোকাডো এবং ওটমিলের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখতে ভুলবেন না যেন!

অলিভ অয়েল : অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর এই তেলটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করার পাশাপাশি বয়সজনিত নানা অসুবিধা কমাতেও দারুন কাজে আসে। তাই প্রতিদিনের ভোজ্য তেল হিসেবে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

গ্রিন টি: প্রতিদিন এক কাপ করে গ্রিন টি পান করলে শরীরে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রবেশ ঘটে। আর যেমনটা আমাদের সকলেই জানা যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজ, এমনকি অ্যালঝাইমার রোগ আটকাতে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

জাম: এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা বয়স বাড়ার গতিকে আটকায়। শুধু তাই নয়, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি এবং অবশ্যই ব্ল্যাক বেরি শরীরের সার্বিক গঠনের উন্নতি ঘটাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মটরশুঁটি: হার্টকে নানা ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে বাঁচানোর পাশাপাশি শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মটরশুঁটির কোনো বিকল্প নেই। তাই আপনি যদি দীর্ঘদিন জোয়ান থাকতে চান, তাহলে এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই খাবারটি।

সবুজ শাকসবজি: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কপি পাতা এবং পালং শাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা সেলের ক্ষয় আটকে ত্বক এবং শরীরে বয়স ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বাদাম: শরীরকে ভাল রাখতে উপকারি ফ্যাটেরও প্রয়োজন পড়ে। তাই প্রতিদিন বাদাম খান মুঠো ভরে।

শস্যদানা: ঝাড়াই করা শস্য দানার পরিবর্তে যদি হোল গ্রেন খাওয়া যায়, তাহলে বয়স বাড়ার হার অনেকটাই হ্রাস পায়। শুধু তাই নয় এই ধরনের খাবার বয়সজনিত নানা রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমায়, বিশেষত হার্টের রোগ হওয়ার পথ আটকায়।

 

রাজ্যে বহমান হিংসাত্মক আন্দোলনের ধারা !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : এনআরএসে সোমবার থেকে জুনিয়র চিকিৎসক নিগ্রহের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন এখন সর্বভারতীয় চেহারা নিয়েছে,আন্দোলনের আতুঁরঘর সেই বাংলা থুরি কলকাতা। আসলে বাংলার এই আন্দোলন বা বলা ভাল তার রাজনৈতিক পরিমার্জন কোন নতুন ঘটনা নয়। নিরাপত্তার দাবিতে যে কর্মবিরতি জুনিয়র চিকিৎসকরা শুরু করেছিলেন তা ক্রমশ ধূমায়িত হয়েছে। তাতে রাজনীতির প্রলেপ লেগেছে। আসলে বাংলায় একটা প্রবাদ বহুদিন ধরেই চালু আছে সেটা হল ” রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়”, আজ যখন মাত্র তিনদিন বয়সী শিশু পুত্র কে হারিয়ে শোকে পাগল বাবা, মা প্রশ্ন তোলেন “আমার ছেলেটার কি দোষ ছিল, ও কেন অকালে চলে গেল সামান্য চিকিৎসাটুকু না পেয়ে তখন আমাদের হয়ত মাথা নীচু করা ছাড়া কোন উপায় থাকেনা। তবে আমাদের রাজ্যে এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট কোন নতুন ঘটনা বা প্রেক্ষিত নয়। খাদ্য আন্দোলন, এক পয়সা ভাড়া বাড়ানোর জন্য ট্রাম পোড়ানো, নকশাল আন্দোলন কত কিছুই না আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

অবশ্য আমাদের রাজ্যে হিংসাত্মক ঘটনাবলির এই আধিক্য কিন্তু হঠাৎ করে হয়নি। এই ঐতিহ্য সমানে চলছে। আমরা রাজ্যবাসীরা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বলে ঢাক পেটাই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা আমাদের এই বঙ্গদেশেও তো কম কিছু হয়নি। ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল কলকাতা এবং নোয়াখালিতে, তা অবশ্যই বাঙালির পক্ষে লজ্জাজনক। ১৯৪৬ সালের আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে’র নামে যে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল, তাতে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন বহু মানুষ। লক্ষাধিক মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। সেই বছরই অক্টোবর মাসে বীভৎস দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল পূর্ববঙ্গের নোয়াখালিতে। সেখানেও পাঁচ হাজারের বেশিসংখ্যক মানুষের জীবনহানি হয়েছিল। ঘরছাড়া হন লাখো মানুষ। অবশ্য তা স্বাধীনতার আগের কথা।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালেও আমাদের পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও অন্যান্য হিংসার ঘটনা নেহাত কিছু কম হয়নি। বামপন্থীদের খাদ্য আন্দোলনের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন অনেকে। আবার আন্দোলনের নামে ট্রাম-বাস পোড়ানো হয়েছে অনেক। এটাও হিংসাত্মক রাজনীতি। ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে যুক্তফ্রন্ট। সেই যুক্তফ্রন্টে সিপিআইএম-এর দাপট ছিল বেশি। সেই আমলেই শুরু হয় হিংসাত্মক নকশালবাড়ি আন্দোলন। ১৯৬৯ সালে ক্ষমতায় আসে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট। তখন নকশালবাড়ি আন্দোলন রীতিমতো তুঙ্গে। একদিকে সিপিআইএম, একদিকে কংগ্রেস, একদিকে নকশালপন্থীরা। এই বাংলার তখন রীতিমতো বেহাল অবস্থা। এই সময়টা যাঁরা প্রত্যক্ষ করেননি, তাঁরা বুঝে উঠতে পারবেন না যে সামগ্রিক পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। আজকের প্রজন্ম তা জানলেও সেদিনের যারা তরুণ ছিলেন আজ যাঁরা প্রবীণ তাঁদের স্মৃতিতে আজও উজ্বল নকশাল আন্দোলনের কালো দিনগুলির কথা। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু হয়। এর আগে ১৯৬৮ সালেও এ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ছিল কিছুদিনের জন্য। রীতিমতো টালমাটাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সেই সময়কাল জুড়ে।

১৯৭২ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয় রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। রীতিমতো গা-জোয়ারি করে, অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনিয়ে-দেখিয়ে আসলে সেবার নির্বাচনের নামে বিশাল প্রহসনই হয়েছিল। আবার রাষ্ট্রপতি শাসনকালে এবং পরবর্তীতে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের শাসনকালে এ রাজ্যে নকশাল আন্দোলন দমনের নামে যে পথ অবলম্বন করা হয়েছিল, তাতে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয়েছিল রাজ্যবাসীকে। অবশ্য নকশালপন্থীদের হাতেও কম কিছু খুনখারাপির ঘটনা ঘটেনি। আমাদের রাজ্যে সেই খুনোখুনির রাজনীতির ইতিহাস সত্যিই ভয়াবহ। এরপর ১৯৭৫ সালে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধি। সেই সুবাদেও রাজনৈতিক অত্যাচারের ঘটনাও কিছু কম নয়।

১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন জিতে এ রাজ্যে সিপিএমের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। ৩৪ বছরের বাম আমলেও বহু রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে আমাদের রাজ্যে। কলকাতায় বিজন সেতুর ওপর ১৯৮২ সালের ৩০ এপ্রিল জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ১৬ জন আনন্দমার্গী সন্ন্যাসী ও একজন সন্ন্যাসিনীকে। ১৯৭৯ সালে মরিচঝাঁপিতে বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের উচ্ছেদ করতে বামফ্রন্টের পুলিশ যে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছিল সেটাও ছিল অভাবনীয়। পরবর্তীকালেও বাম শাসন চলাকালীন হিংসাত্মক ঘটনাবলি ঘটেছে অনেকই। নেতাই-এর ঘটনা, সিঙ্গুরের ঘটনা, নন্দীগ্রামের ঘটনা ভুলে যাবার কথা নয় কারও।

শেষমেশ পরিবর্তন তো ঘটল ২০১১ সালে। এমনটা যেন হবারই ছিল। ৩৪ বছরের বাম জামানাকে ধূলিস্যাত করে ক্ষমতায় এল তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ মানুষের অনেকটাই ভরসা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। কিন্তু সেই আস্থা, সেই বিশ্বাস, সেই ভরসাক্ষেত্রে ধীরে হলেও কি ভাঙন দেখা দিয়েছে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা! পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ধরে গণতন্ত্র যেভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে শাসকদলের দৌরাত্মে, তা রীতিমতো অভাবনীয়। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ভালো ফল করেছে গেরুয়া শিবির। ১৮ টা আসন পেয়েছে তারা।
আজও সেই ট্রাডিশ্যান বহমান। নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক হিংসার বলি প্রাণ হারানোর ঘটনাও কম দেখলোনা রাজ্যবাসি। খুব সম্প্রতি সন্দেশখালির ঘটনায় সেই চাপানউতোর আরও বেড়েছে। এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি থেকে শুরু হওয়া থেকে ক্রমবর্ধমান ঘটনা পরম্পরা হয়ত তারই নীরব সাক্ষী।

ভারতীয় রাজনীতির পিকের হাতেই এবার জোড়াফুলের রণকৌশল !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক: লোকসভা ভোটে রাজ্যে নজিরবিহীন ধাক্কা খাওয়ার পর নির্বাচনী কৌশলী বা ইলেকশন স্ট্রাটেজি মেকার প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে প্রশান্তের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, এক মাস পর থেকে মমতার সঙ্গে কাজ শুরু করবেন প্রশান্ত কিশোর।

লোকসভা ভোটে ১৮টি আসনে জেতার পর বাংলায় স্বভাবিক ভাবেই ব্যাপক উত্থান হয়েছে বিজেপির । তৃণমূল ছেড়ে বহু নেতা-কর্মী যোগ দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরে। এহেন পরিস্থিতিতে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে কঠিন লড়াই। সেই লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রথের রশি ধরতে চলেছেন এককালে মোদীর নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর। ।সূত্রের খবর, এক মাস পর থেকে কাজ শুরু করে দেবেন প্রশান্ত কিশোর।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নওঠা স্বাভাবিক কে এই প্রশান্ত কিশোর যাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃ্ত্বের এত মাথাব্যাথা। ২০১৪ সালে ‘অচ্ছে দিন’-এর স্লোগান দিয়ে গোটা দেশে ‘ব্র্যান্ড মোদী’র উত্থান। আর মোদীর ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ভাবমূর্তি তৈরির নেপথ্যে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। ২০১৪ সালে তিনিই ছিলেন মোদীর নির্বাচনী কৌশলী। হিরে চিনতে ভুল হয়নি নরেন্দ্র মোদীর। নির্বাচনী ফলাফলেই তা স্পষ্ট হয়েছে। এরপর নীতীশ কুমারের সঙ্গে কাজ করেন প্রশান্ত। প্রবল মোদী ঝড় বিহারে রুখে দিতে সমর্থ হয়েছিল মহাজোট। তাঁকে বিহারের ক্যাবিনেট পদমর্যাদাও দিয়েছিলেন নীতীশ। কিন্তু বিজেপির আপত্তিতে সেই পদে বেশিদিন থাকতে পারেননি প্রশান্ত।

সদ্য অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবুর দলকে কুপোকাত করেছেন জগন্মোহন রেড্ডি। বিধানসভা ভোটে ১৭৫টি আসনের মধ্যে ১৫০টিই জিতেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস। আর জগন্মোহনের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। সেই প্রশান্ত কিশোরই এবার মমতার স্ট্র্যাটেজিস্ট।সাফল্যের মধ্যে প্রশান্তের ব্যর্থতা নেই, এমনটা নয়। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে প্রশান্তকে কাজে লাগিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছিল সপা-কংগ্রেস জোট। তবে বাংলার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে পেশাদার রণনীতিকার নিয়োগের সিদ্ধান্ত বেনজির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কোনও রাজনৈতিক দলের ভোট পরিচালনার কৌশল ঠিক করে দেওয়া এবং প্রচার-পর্বকে সেই ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেশাদারি দক্ষতা আছে প্রশান্ত কিশোরের। ২০১৪ সালে দেশে নরেন্দ্র মোদী, ২০১৫ সালে বিহারে নীতীশ কুমার, ২০১৭ সালে পঞ্জাবে অমরিন্দর সিংহ এবং সর্বশেষ ২০১৯-এ অন্ধ্রপ্রদেশে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে জগন্মোহন রেড্ডির দলের জয়— প্রতিটির নেপথ্যেই ছিল তাঁর ভূমিকা। পদ্ম শিবিরের এহেন উঠে আসায় আক্ষরিক ভাবেই জোড়া ফুল শিবিরে এখন খোঁজ পড়েছে রণনীতি মেকারের ।
কিন্তু কে এই প্রশান্ত কিশোর? তাঁর সাফল্যের রসায়নই বা কী? দেশের রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত পিকে নামেই। ধুরন্ধর মস্তিষ্ক প্রশান্তের, গতিপ্রকৃতি বা জনগনের নাড়ি বুঝতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। এমনটাই বলেন পিকে কে কাছ থেকে দেখা লোকজনেরা। জন্ম বিহারের রোহতাস জেলার কোরান গ্রামে। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর তাঁর বাবা পাকাপাকি ভাবে চলে যান বিহারেরই বক্সারে। অন্য দিকে ইঞ্জিনয়ারিং পড়তে হায়দরাবাদে যান প্রশান্ত। পড়াশোনার পাঠ চোকানোর পর কাজে যোগ দেন রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগে। কর্মস্থল ছিল আফ্রিকা। আট বছর চাকরির পর ২০১১ সালে ফিরে আসেন দেশে। তৈরি করেন নিজের সংস্থা সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট (সিএজি)। নিজের সংস্থায় নিয়োগ করেন আইআইটি-আইআইএম-এর পেশাদার লোকজনকে। পরের বছরই বিধানসভার ভোট গুজরাতে। ভোটের রণকৌশল তৈরি করতে এই প্রশান্ত কিশোরকেই নিয়োগ করেন তখনকার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

‘পিকে’র কাজটা সহজ ছিল না। কারণ ২০০১ সাল থেকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উন্নয়ন হলেও দীর্ঘদিন সরকারে থাকায় প্রশাসন বিরোধী হাওয়া ছিল। কিন্তু মোদীর সেই উন্নয়নের সঙ্গে ঐক্যের বার্তা জুড়ে ব্যাপক প্রচার-কৌশল রচনা করেন প্রশান্ত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গোটা গুজরাত জুড়ে প্রচারের এমন কৌশল তৈরি হয়, যাতে ফের ক্ষমতায় আসতে অসুবিধা হয়নি মোদীর। সেই সাফল্যের হাত ধরেই প্রশান্ত পান আরও বড় দায়িত্ব। গুজরাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরে নিজেকে তুলে ধরার দায়িত্বও তাঁর কাঁধেই সঁপে দেন মোদী। তার পরই তৈরি হয় ‘ব্লু প্রিন্ট’। মনে রাখা দরকার সারা দ্বেশে তোলপাড় তোলা বেরোয় ‘চায়ে পে চর্চা’, সেই সময়ই প্রশান্তের মস্তিষ্ক থেকে বেরোয় ছিল ‘রান ফর ইউনিটি’র মতো ‘মাস্টার স্ট্রোক’। আর সেই সবের হাত ধরেই দেশ জুড়ে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মোদী। ফল ২০১৪ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদে উত্তরণ।

কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলের মধ্যেই শুরু হয় সঙ্ঘাত। মূলত অমিত শাহ এবং দলের আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে মনোমালিন্যে মোদীর ‘সঙ্গ’ ছাড়েন প্রশান্ত। সেই সময়ই নিজের সংস্থা সিএজি পরিবর্তন করে গড়ে তোলেন ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপিএসি)। মার্কিন মুলুকের কানাডার সংস্থা পিএসির অনুকরণে নিজের সংস্থার নামকরণ করেন প্রশান্ত। মার্কিন মুলুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ভোটপ্রচার এবং রণকৌশল তৈরির পেশাদার কাজ করে এই সংস্থা।

এর মধ্যেই ২০১৫ সালের গোড়ায় যোগ দেন নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে। ওই বছরই বিহার বিধানসভার ভোট। জনতা পরিবার এবং কংগ্রেস মিলে মহাজোট তৈরি করে ভোটে লড়ে। তাতে বিপুল সাফল্য পায় মহাজোট। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। নীতীশের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়, ওই সময় অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে সেখানকার সমস্যা বুঝে নীতীশের বক্তব্যের বয়ান তৈরি করে দিতেন প্রশান্ত। তাতে এলাকাবাসীও মনে করতেন তাঁদের কথাই বলতেন নীতীশ। নীতীশকে প্রায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার জেরে এই সময়ই মূলত প্রচারের আলোয় আসেন প্রশান্ত। তার পরও নীতীশের উপদেষ্টা হিসেবে বেশ কিছু জনমুখী পরিকল্পনার রূপায়ন হয় তাঁর হাত ধরেই।

নীতীশের জেডিইউ-এর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ না করেও এ বার প্রশান্তের হাত ধরে কংগ্রেস। প্রথমেই দায়িত্ব পান ২০১৬ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের। তার আগের দু’টি নির্বাচনে হেরে কার্যত খাদের কিনারে কংগ্রেস। সেখান থেকে তুলে এনে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহের জয় নিশ্চিত করার কারিগর ছিলেন এই ‘পিকে’ই।

পরের বছরই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ভোট। আবার দায়িত্বে প্রশান্ত কিশোর। কেরিয়ারের প্রথম এবং একমাত্র ধাক্কা প্রশান্ত খেয়েছেন গোবলয়ের এই রাজ্যেই। কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করলেও তাঁর সেই রণনীতি পুরোপুরি ফ্লপ হয়। মাত্র সাতটি আসন পায় কংগ্রেস। প্রতিপক্ষ শিবিরে তিনশোরও বেশি আসন নিয়ে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। রাজনৈতিক শিবিরে কান পাতলেই অবশ্য শোনা যায়, ওই সময়ই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন পিকে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কাএবং কংগ্রেস রাজি হয়নি। প্রিয়াঙ্কা সেই সময় এলে কংগ্রেসের ফল কী হত, সেটা অন্য কথা। কিন্তু ব্যর্থতা ব্যর্থতাই তাই তাকে মানতেই হবে।
কিন্তু প্রশান্তের এই সাফল্যের রসায়ন কী? কার্যত প্রতিটি বুথ ধরে সমীক্ষা করে সেখানকার সমস্যা জেনে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, পেশাদারদের দিয়ে অভিনব প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা রূপায়ণের পন্থা বাতলে দেওয়া। এর সঙ্গে পক্ষের এবং বিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বুঝে সেই অনুযায়ী ঘুঁটি সাজানো। এর সঙ্গে বিভিন্ন রকম সমীকরণ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা, এবং খামতি দূর করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা করাও প্রশান্তের সাফল্যের চাবিকাঠি। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের দুবারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই উত্তরনের সিংহভাগ কৃতিত্ব কিন্ত টিম পিকে ওরফে প্রশান্তের। মেঘের আড়ালে মেঘনাদের মত থেকেই নিজের রণনীতি সাজান এই কৌশল নির্মাতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ২০২১- এ গড় সামলাতে কিন্তু প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষে পদ্মের দারস্থ হতেই হল জোড়াফুলকে।

বাংলার ছাত্র রাজনীতির ধারা

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : এদেশের ভূখণ্ডের জন্মের সঙ্গে মিশে আছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা৷ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-র শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি ও আন্দোলন সফল করায় তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম৷ আসলে আগামীর নেতা বা নেত্রীকে গড়ে দেয় ছাত্র রাজনীতি। আজকের রাজ্য রাজ্যনীতির অনেক সফল নেতা বা নেত্রী ছিলেন পোড় খাওয়া ছাত্রনেতা বা নেত্রী। আসলে তারাই যে নেয় স্পর্ধায় মাথা তুলবার ঝুঁকি। আপোসহীন লড়াই করার অটুট মানসিকতা তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যতের পথে।

২০০৭ সাল রাজনীতির আগুনে টগবগ করে ফুটছে বাংলা ৷ অভিযোগ, রাজ্যের তিন দশকের বাম সরকার মানুষের কথা আর ভাবছে না৷ সিঙ্গুরে জোর করে জমি নিয়ে তারা টাটা-কে দিতে চাইছে কারখানা গড়ার জন্য৷ অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে একই কারণে পুলিশ গুলি চালিয়েছে৷ মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন সাধারণ মানুষের৷ রাজ্যের তৎকালীন বিরোধীনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার মোড়ে অনশনে বসেছেন৷ কিন্তু এ সবের সঙ্গে নকশালবাড়ির সম্পর্ক কী?

বাংলার ছাত্র রাজনীতির কথা বলতে গেলে নকশালবাড়ি আজও প্রাসঙ্গিক৷ ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজের দেওয়াল লিখনে তাই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রতিবাদেও নকশালবাড়ির প্রসঙ্গ উঠে আসে৷ যে ছাত্ররা সেই দেওয়াল লিখেছিলেন, আগামীর ইতিহাসে তাঁদের অনেককেই দেখা যাবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে৷

স্বাধীনতার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রফ্রন্টে রাজনীতি নিয়ে একটু বেশিই হইচই৷ এবং বরাবরই সেখানে বাম রাজনীতির দাপট৷ পরবর্তীকালে যে বামনেতারা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করবেন ৩৪ বছর ধরে, তাঁদের প্রায় সকলেই ছাত্র আন্দোলনের ফসল৷ জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে সূর্যকান্ত মিশ্র, সকলেই ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন কংগ্রেস আমলে৷ ১ পয়সা ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে একসময় তাঁরাই অবরুদ্ধ করেছেন কলকাতার রাজপথ৷ বাস জ্বলেছে, ট্রাম জ্বলেছে৷ প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস৷ বাম রাজনীতির ঢেউ আছড়ে পড়েছিল শহরের আনাচকানাচে৷ ষাটের দশকে সিটি, সুরেন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর কলেজের কংগ্রেসি ছাত্রদের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রদের সংঘর্ষ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷

সেই বাম রাজনীতি আরও জোড়ালো হয় ষাটের দশকের শেষ পর্ব থেকে৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রদের সংসদ নীতিগত এবং আদর্শগত অবস্থান থেকে দু’ভাগে ভেঙে যায়৷ একদল থেকে যান পুরনো মতাদর্শ নিয়ে৷ অন্য দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ‘নকশাল’ নামে৷ বস্তুত, উত্তরবঙ্গের নকশালবাড়ি নামক একটি ছোট্ট গ্রামের কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই অতি বাম এই ছাত্রেরা নকশাল নামে পরিচিত হন৷ তাত্ত্বিকভাবে যাঁরা চীনপন্থি বামপন্থায় বিশ্বাসী৷

সত্তর এবং আশির দশকের কলকাতা দেখেছে নকশালপন্থি ছাত্রদের হিংসাত্মক আন্দোলন৷ একদিকে যেমন তাঁরা হিংসার আশ্রয় নিয়েছে, অন্যদিকে বহু পুরনো বস্তাপচা সিলেবাস বদলে নতুন সিলেবাস তৈরির আন্দোলনও তাঁরা করেছে৷ বস্তুত, আন্দোলনের জেরে সত্তর সালে তৈরি হওয়া সেই সিলেবাসই এখনো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়৷ কিন্তু শুধুমাত্র সিলেবাস আন্দোলনেই আটকে থাকেনি সত্তরের নকশাল আন্দোলন৷ বহু ছাত্র সেই সময় কলেজের নিয়মমাফিক পঠনপাঠন ছেড়ে গ্রামে গিয়ে কৃষক এবং শ্রমিকদের মধ্যে আন্দোলন গড়ে তোলার সংকল্পে ব্রতী হন৷ বহু মেধাবী ছাত্র তখন এই কাজে নেমেছিলেন৷ অধিকাংশই সফল হননি৷ বোমা-গুলির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন৷ কেউ কেউ পালাতে বাধ্য হন ভিনদেশে৷ কেউ আবার মূলস্রোতে ফিরে আসেন রাজনীতির সঙ্গে সমস্ত সংস্রব ত্যাগ করার মুচলেকা দিয়ে৷ ষাট-সত্তর দশকের অন্যতম নকশালনেত্রী জয়া মিত্র কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷ শুনিয়েছেন, কেন এবং কীভাবে ছাত্রবয়সে নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁরা৷ জয়া বলেছেন, কোনো দলীয় স্বার্থে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, তাঁরা নকশাল আন্দোলন শুরু করেছিলেন সময়ের প্রয়োজনে৷ সমাজ বদলের লক্ষ্যে৷ হয়তো সেই আন্দোলন শেষপর্যন্ত সফল হয়নি কিন্তু তার অভিঘাত পরবর্তীকালে থেকে গিয়েছে সমাজ ব্যবস্থায়৷ শুধু তাই নয়, ছাত্ররা যে মূলস্রোতের রাজনীতির হাওয়া ঘুরিয়ে দিতে পারে, রাষ্ট্র সেই সময়ে তা টের পেয়েছিল৷

ঘটেছে অনেক কিছুই৷ সত্তর-আশির কলকাতা ভরে থেকেছে বারুদের গন্ধে৷ দেওয়াল রেঙেছে ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ মন্ত্রে৷ শুনেছে, ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’ স্লোগান৷ বরানগর ম্যাসাকারে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য ছাত্রের৷ কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য বাম ছাত্রের৷ বিশেষত, জরুরি অবস্থার সময়ে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেল ভরে গিয়েছে নকশালপন্থি ছাত্রে৷ সাহিত্যও রচনা হয়েছে৷ সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষদের কবিতা ধ্বনিত হয়েছে মিছিলে, স্লোগানে৷ পোস্টারে লেখা হয়েছে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী সেই বিখ্যাত কবিতা, ‘প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য, ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা’ কিংবা শঙ্খ ঘোষের কবিতা ‘লাইনেই তো ছিলাম বাবা’৷

৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে৷ জেল থেকে মুক্তি পান বহু নকশালপন্থি ছাত্র৷ কেউ কেউ মিশে যান মূলস্রোতের বাম রাজনীতিতে৷ অধিকাংশই রাজনীতি থেকে সরে যান৷ এই সময়পর্বেই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র রাজনীতির ধারাও খানিক বদলে যায়৷ এতদিন যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, বামপন্থি সেই ছাত্রেরা ক্ষমতার গন্ধ পান৷ রাতারাতি পশ্চিমবঙ্গের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কার্যত বিনা বাধায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলি সংসদ তৈরি করতে শুরু করে৷ কংগ্রেসের ছাত্র সংসদ টিকে থাকে হাতে গোনা কিছু কলেজে৷ ছাত্র আন্দোলনের আগুনে খানিক স্তিমিত হয়৷

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি আবার ঘুরতে শুরু করে৷ ততদিনে দু’দশকের বাম শাসন দেখে ফেলেছে পশ্চিমবঙ্গ৷ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কার্যত হয় না বললেই চলে৷ প্রেসিডেন্সি কিংবা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিবাম বা নকশালপন্থি ছাত্রদের ছোট ছোট ইউনিট থাকলেও অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তখন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর দখলে৷ নির্বাচন হয় না, মনোনয়ন হয়৷ ইংরেজিতে যাকে বলে সিলেকশন৷ যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন৷ বরাবরই প্রতিষ্ঠানবিরোধী রাজনীতির মঞ্চ হিসেবে পরিচিত এই দুই প্রতিষ্ঠানে তখনো নির্বাচন হচ্ছে৷ সংসদ তৈরি করছে নকশালপন্থি অতিবাম ছাত্রেরা৷ কিন্তু সার্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাদের কোনো জায়গা নেই৷ সরকারপন্থি ছাত্রদের তখন পরিচিত সমালোচনা ছিল, প্রেসিডেন্সির বাইরে ট্রামলাইনের ওপারে অতিবামদের কোনো জায়গা নেই৷

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফের পশ্চিমবঙ্গে নকশালপন্থি ছাত্রদের আগুন জ্বলে ওঠে৷ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে আন্দোলন৷ মেধা পাটকরের মতো বামপন্থি অ্যাক্টিভিস্টরা সমর্থন দেন নকশালপন্থি ছাত্রছাত্রীদের৷ তথ্য ঘাঁটলে দেখা যাবে, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রথম পর্বে তৃণমূল নেতারা নন, গ্রেফতার হচ্ছিলেন নকশালপন্থি ছাত্রছাত্রীরাই৷ আটক ছাত্রদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার লালবাজার থেকে মুক্ত করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট মানুষেরা৷ অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, শঙ্খ ঘোষেরা মিছিল করে পৌঁছে গিয়েছিলেন লালবাজারে৷ প্রথম পর্বের সেই আন্দোলনে নকশালপন্থি ছাত্ররা প্রভূত সমর্থন পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবী এবং নাগরিক সমাজের কাছ থেকে৷ অভিযোগ, আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বে তৃণমূল ছাত্রদের আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করে৷ এবং লড়াইটা হয়ে দাঁড়ায় সিপিএম-তৃণমূলের৷ যার ফলাফল, ২০১১ সালে তৃণমূলের জয় এবং সিপিএম-এর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই বাম আমল থেকেই ছাত্র আন্দোলনের ধারা ক্রমশ বদলে গেছে পশ্চিমবঙ্গে৷ মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলি চেষ্টা করেছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভবিষ্যতের নেতা তৈরির কারখানা হিসেবে গড়ে তুলতে৷ ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লোভ দেখানো হয়েছে৷ ফলে অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী দল তৈরিই হতে পারেনি৷ যেখানে হয়েছে, সেখানে সংঘর্ষ হয়েছে৷ অধ্যক্ষ ঘেরাও হয়েছেন ছাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে৷ সিপিএম-এর সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কথায় ওঠাবসা করেছেন ছাত্রনেতারা৷

‘পরিবর্তন’-এর পরেও সেই একই ছবি৷ আগে কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ দখলে রাখত বামপন্থি ছাত্ররা৷ এখন সেই সমস্ত সংসদই তৃণমূলের ছাত্রদের দখলে৷ আগের মতোই এখনো নির্বাচন হয় না অধিকাংশ জায়গায়৷ বিরোধীদের তৈরিই হতে দেওয়া হয় না৷ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, কারণ, ছাত্ররা এখন শিক্ষকদেরও ছাড়ছে না৷ শিক্ষক নিগ্রহ, অধ্যক্ষকে পেটানোর মতো ঘটনাও ঘটছে প্রায় প্রতিদিন৷ যদিও প্রেসিডেন্সি, যাদবপুরের ক্যাম্পাসগুলিতে এখনো সে ঘটনা ঘটেনি৷ এখনো সেখানে নির্বাচন হয়৷ এখনো তাদের বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা রয়েছে৷ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘হোক কলরব’ আন্দোলন হয়েছে যাদবপুরে৷

স্বাধীনতার আগে এক বিশিষ্ট রাজনীতিক বলেছিলেন, ‘‘বাংলা আজ যা ভাবে, বাকি ভারত তা ভাবে আগামিকাল৷” ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে এখনো সে ধারা খানিক অটুট৷ ভারতের অন্যান্য প্রদেশের বিখ্যাত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলির রাজনীতি এখনো অনেকটাই বাংলা নিয়ন্ত্রণ করে৷ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ-এর বামপন্থি ছাত্রদের একটা বড় অংশই এখনো বাঙালি৷ সম্প্রতি কানহাইয়া কুমারদের আন্দোলনে তাই জেএনইউ পৌঁছে গিয়েছিলেন যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির ছাত্ররাও৷ বিজেপির বিরুদ্ধে রীতিমতো একটা ফ্রন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল জেএনইউ-এর আন্দোলনকে ঘিরে৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারাও খানিক সেরকম৷ সেখানেও বামপন্থি রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বাঙালিরা৷ তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সেখানে চরম৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণপন্থি রাজনীতির চেহারাও নেহাত হালকা নয়৷ প্রতিবছর ছাত্র নির্বাচনে লড়াই হয় সমানে সমানে৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের প্রেক্ষিতেও ছাত্র আন্দোলনের চেহারা অনেকটাই বদলেছে৷ মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলিই এখন ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে৷ তাই পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশির দশকের মতো দুনিয়া বদলে দেওয়ার আদর্শবাদী স্লোগান আর শোনা যায় না ছাত্রদের মুখে৷ অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আদৌ ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে৷ কেউ কেউ বলছেন, রাজনীতি থাক, কিন্তু বদলাক তার চরিত্র৷ মূলস্রোতের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হোক ছাত্র রাজনীতি৷ ছাত্ররা নিজেদের কথা বলুক৷ একসময় যা বলেছে৷ তৈরি হোক ছাত্র রাজনীতির একটা নতুন ধারা৷ ক্যাম্পাসগুলোতে মূলস্রোতের রাজনীতির কারখানা বন্ধ হোক৷
মনে রাখতে হবে আজ যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উঠে আসাও কিন্তু ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির একটি স্লোগান নির্বাচন কমিশন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল ” এই তৃণমূল আর না, আর না” স্লোগানটা অবশ্য তৈরি করেছিলেন বাম ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক ছাত্রী। পরে অবশ্য আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নিজের মত সেটাকে রেকর্ডিং করেন । বিজেপির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই রাজ্যে।
রাজ্যে গেরুয়া ঝড় ওঠার পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। কে বলতে রাজ্যের বা দেশের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী উঠে আসবেনা সেই নেতৃত্বের হাত ধরে। তবে তার উত্তর দেবে সময় তাই তার জন্য অপেক্ষাই শ্রেয়।

বিশ্বাসে বিশেষ জোর, সংখ্যালঘুরা আতংকে মানছেন কি মোদী !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্কঃ সংখ্যালঘুরা ভয়ের পরিবেশে আছে, ঘুরিয়ে স্বীকার করলেন নরেন্দ্র মোদী। তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে ভোটের প্রচার চালিয়েছেন। এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন যেন সংখ্যালঘুরা এদেশের নাগরিকই নন। পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ, নাগরিকত্ব, ৩৭০ধারা এমন সমস্ত বিষয় টেনে এনে নির্বাচনে সংখ্যালঘুদেরই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছেন মোদী-শাহরা। তারপর এদিন দ্বিতীয়বারের জন্য এনডিএ-র প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত হওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদীর সংখ্যালঘুদের কথা মনে পড়েছে। তিনি কার্যত মেনে নিয়েছেন, দেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্কের মনোভাব আছে। যদিও তাঁর দায় চাপিয়েছেন বিরোধীদের ঘাড়ে। বলেছেন, বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য সংখ্যালঘুরা ভয় পেয়েছেন এবং ব্যবহৃত হয়েছেন। এনডিএ সাংসদ এবং মন্ত্রীদের সামনে দীর্ঘ ৭৫মিনিটের বক্তব্য রাখার সময়ে মোদী সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জন করার জন্য দলের সাংসদদের পরামর্শ দিয়েছেন
পাঠক ভেবে দেখুন গোরক্ষার নামে কি ভাবে তান্ডব চালাচ্ছে স্বঘোষিত গোরক্ষদের দল। মোদীর পাঁচ বছরে শুধু গোরক্ষার নামেই নির্বিচার আক্রমণ হয়েছে সংখ্যালঘু, দলিতদের উপরে। পিটিয়ে, থেঁতলে খুন করা হয়েছে কিশোর থেকে বৃদ্ধকে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায়, হিন্দুত্ববাদীদের মদতে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই হামলা। পরিস্থিতি এমন জটিল আকার ধারন করেছিল যে দেশের শীর্ষ আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। মনে পড়ে কাঠয়ুয়া কান্ডের সেই নির্যাতিতা ছোট্ট মেয়েটির কথা, শুধুমাত্র সংখ্যালঘু হওয়ার অপরাধে সেই মেয়েটিকে গণধর্ষন করা হয়েছিল,তাতেও আশ মেটেনি বর্বরদের ওই ছোট্ট মেয়েটি হয়ত মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে চিরশান্তি পেয়েছিল কিন্তু দেশবাসি সহ ক্ষমতার অলিন্দে থাকা সবার দিকে ছুড়ে দিয়েছিল একরাশ প্রশ্ন জন্মসূত্রে সংখ্যালঘু হওয়াই কি একমাত্র অপরাধ ছিল ওই শিশুকন্যার! আজ যখন দেশের জনগণের রায় নিয়ে বিপুল আসনে জয় লাভ করে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন সংবিধানে মাথা ছোঁয়ান তখন কি কাঠুয়ার অকাল প্রয়াত নির্যাতিতার জন্য তার মায়ের চোখের জল পড়ে? তা অবশ্য জানার কোন উপায় নেই কারণ টা সংবাদমাধ্যমে হেডলাইন হয়না।
বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে মোদীকে তীব্র সমালোচিত হতে হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। এদিন তিনি পুরনো স্লোগান ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ এর সঙ্গে নতুন কথা জুড়ে বলেছেন ‘সব কা বিশ্বাস আসলে দিনের শেষে কোথাও একটা চোরা ভয়ের স্রোত কাজ করে কোথাও কি বিশ্বাসের ভিতটা একটু হলেও টলে গেল তাই পুরানো স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত হয় ” সবকা বিশ্বাস” আগামী পাঁচ বছরে শুধু ফাঁকা বুলি আওড়ে যে চিড়ে ভিজবেনা তা বুঝে গিয়েছেন মোদী। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নোটার ভোট, ভোটের নোটা !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্কঃ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দেশজুড়ে ৬৫ লক্ষেরও বেশি ভোটার নোটায় -য় ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রার্থীর প্রতি আস্থা না দেখিয়ে নোটার অপশনে ভোট দিয়েছে ৬৫,১৪, ৫৫৮ জন।২০১৩-র সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল ভোট দিতে গিয়ে কোন প্রার্থীকে পছন্দ না হলে সেটা ঘটা করে জানানোর একটা সুযোগ দিতে হবে ভোটারদের। ফলশ্রুতিতে ইভিএম-এর শেষ বোতামটা নির্দিষ্ট হয়ে গেল এর জন্য।

ভেবে দেখুন পাঠকরা ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, দল-নির্বিশেষে, নির্বাচকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, ইভিএম-এ ‘নোটা’-র বোতাম টিপে ভোটটি ‘নষ্ট’ যাতে না করা হয়, সে জন্য। তার মানে, ‘নোটা’ নিয়ে প্রথম প্রথম রাজনীতিবিদদেরও কোথাও একটা সন্দেহ নির্ঘাৎ ছিল। হয়তো বা ত্রাসও ছিল খানিক। কে জানে কার ভোটে ভাগ বসায়? তার অল্প আগেই, কী আশ্চর্য, ২০১৯-এর ভোটের আগে কোনও রাজনৈতিক নেতার মুখেই নোটাতঙ্কের কথা সেভাবে শোনা যায়নি।
কারও মনে হতে পারে যে তাঁর কেন্দ্রের কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থীই তাঁর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। কাউকে ভোট দেওয়াটাই তাই সঙ্গত নয়। ভোটার বাড়িতে থেকেও একই কাজটা করতে পারেন। কিন্তু দস্তুরমতো ভোটকেন্দ্রে এসে ‘নোটা’-য় বোতাম টেপার মধ্যে একটা স্পর্ধিত অভিব্যক্তি রয়েছে। রয়েছে রাজনীতিকদের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনের এক নীরব অথচ সোচ্চার প্রকাশ। এর একটা অন্য দিকও রয়েছে। কোনও প্রার্থীকে ভোট দিতে ইচ্ছে না হলেও, ভোট না দিয়ে বাড়িতে বসে থাকার মধ্যেও বিপদ থাকতে পারে। কারণ তাতে এই অনাস্থাটা সর্বসমক্ষে অনাবৃত হয়ে পড়ে। ‘নোটা’-র বোতামটা অনাস্থা প্রকাশের সুযোগের সঙ্গে দেয় কাঙ্ক্ষিত গোপনীয়তা এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিরাপত্তাও। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা বা শ্রদ্ধাশীল না হতেই পারি তবে ভোট দিতে না যাওয়ার মধ্যে যেন কোথাও একটা সোচ্চার বিরোধতা আছে ভোট মিটে গেলে তার আশু প্রভাব ভালো না হতেও পারে কি দরকার বাবা তার চেয়ে চুপচাপ গিয়ে নোটায় ছাপ মারাটাই অনেক শ্রেয়।

ব্রাজিল, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কলম্বিয়া, ইউক্রেন, সুইডেন, গ্রিস—- নানা দেশে ‘নোটা’-র ব্যবস্থা রয়েছে নানা ভাবে। দেশভেদে এর নাম-রূপও খানিকটা আলাদা। কোথাও ‘সবার বিরুদ্ধে’ (এগেইনস্ট অল), কোথাও আবার ‘কেটে দেওয়া ভোট’ (স্ক্র্যাচ্ ভোট), আবার কখনও বা ‘শূন্য ব্যালট’ (ব্ল্যাঙ্ক ব্যালট)। ভারতে ‘নোটা’-র সমর্থনের পারদ কিন্তু মোটামুটি আটকে আছে ১-২%-এর মধ্যে। অঞ্চলভেদে যদিও এই সমর্থনটাও বদলে যায় অনেকটাই। ২০১৫-র বিহার বিধানসভার নির্বাচনে ‘নোটা’ পেয়েছিল ২.৪৮% সমর্থন। সে বছরই দিল্লি বিধানসভায় ‘নোটা’-র সমর্থন মাত্র ০.৪০%। ২০১৪-র লোকসভায় ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন ‘নোটা’-তে। প্রায় ১.১%। হিসেব বলছে যে কোনও নির্বাচনে মোটের উপর ৮-১০% আসনে ‘নোটা’ ভোটের পরিমাণ বিজয়ী এবং দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর ভোটের ব্যবধানের চাইতে বেশি হয়। এ নিয়ে মিডিয়ায় হইচইও হয়। প্রতিটা রাজ্যের প্রত্যেকটা ভোটের পরে। তবে, এমন তো নয় যে ‘নোটা’ না থাকলে এই ভোটগুলি সব দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর ঘরে ঢুকতো। ‘নোটা’ না থাকলে এদের কেউ হয়তো ভোটই দিতেন না। বাকিদের ভোটগুলি হয়তো ভাগ হয়ে যেত বিভিন্ন প্রার্থীর মধ্যে।
নোটা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন যতই চলতে থাকুক না কেন নিন্দুকদের মুখে থুড়ি বিরোধীদের মুখে ছাই দিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসছে বিজেপি। ভারতের ভোট ব্যবস্থায় নোটা যে বেশ প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করে আসছে আম ভোটারের জীবনে সে কথা বলাই বাহুল্য।