বাংলার আদিবাসীদের অপমান করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী: মমতা

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্ক ঃ বাঘের মৃত্যু নিয়ে বাংলার আদিবাসীদের অপমান করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এমন টাই বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যা্লয় । তিনি বলেন,  আমার সবচেয়ে খারাপ লাগছে, যে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একটা কমিউনিটি নিয়ে তাঁর যে তীর্যক মন্তব্য, আদিবাসীরা চোরাকারবারি বা আদিবাসীরা শিকার করে বা আদিবাসীরা অত্যাচার করে লোকের ওপর, আমি মনে করি এর জন্য ওনার আদিবাসীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।এদের মতো লোক যদি মন্ত্রীসভায় থাকে, গভর্নমেন্টের বিপদ তো বটেই, ভারতবর্ষেরও আগামী দিনে খুব বিপদ। আমি ওনার এই মন্তব্যকে টোটাল খণ্ডন করছি, এবং আমি তীব্র ভাষায় নিন্দা করছি। আদিবাসী ভাই বোনেরা আমাদের সম্পদ।আমাদের এখানে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, বীরভূম থেকে শুরু করে প্রচুর জঙ্গল আছে, সেই জঙ্গলগুলোকে ফরেস্টের লোকেরা জীবন দিয়ে রক্ষা করে। আমাদের প্রশাসন রক্ষা করে।একটা বাঘ মারার যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা তো এটাও জানেন উনি কি করে জানলেন যে আদিবাসীরা এটাকে মেরে ফেলেছে? অনেকে তো অনেক রকম বলছেন এটা নিয়ে, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের লোকেরা, পুলিশ, আপনারা এমনকি জানেন যে আমাদের যে ড্রোন আছে, ওপরে  ড্রোন দিয়ে পর্যন্ত আমরা বাঘটাকে খুজেছি চারদিন, তাকে পাওয়া যায়নি খুঁজে, এবং ওখানকার আদিবাসী ভাইবোনেরা এবং স্থানীয় জনসাধারণ দেড় মাস ঘুমোতে পারিনি, ভয়ে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়িয়েছে, যারা কেন্দুপাতা তুলে জীবনধারন করে, তারা কেন্দুপাতা পর্যন্ত তুলতে পারেনি, তাদের ২জনকে খামচে, আঁচড়ে দিয়েছে বাঘ, তারা এখনও হাসপাতালে আছে। উনি এগুলো না জেনে যেভাবে বেঙ্গল সম্বন্ধে কমেন্ট করছেন, উনি বাংলার সংস্কৃতিটাই জানেন না।

আদিবাসীদের ওনারা ইলেকশানের সময় তীরধনুক ইউজ করে, তখন লজ্জা করে না? রাম নবমীর মিছিলে ইউজ করে, তখন লজ্জা করে না? কদিন আগে মহম্মদবাজারে নমিনেশন দিতে গেছিল বিজেপি, ঝাড়খন্ড থেকে আদিবাসীদের নিয়ে, তীরধনুক নিয়ে, তখন, আদিবাসীরা শিকারি হয় না? আর যখন এরকম একটা ঘটনা ঘটে, তখন আদিবাসীদের উনি নিন্দা করেন, সারা ভারতবর্সে দলিতদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে।ওনাদের কথাবার্তা থেকে প্রমাণ হয়ে যায়, যে ওনারা তপশিলি, আদিবাসীদের পক্ষে না, সাধারণ মানুষের পক্ষেও না।

আমার মনে হয়, ওনার দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত, আর বাংলা সুস্থ সংস্কৃতি জানে, সভ্যতা জানে। আদিবাসীকে ও বাংলাকে অপমান করার ওনার কোনও অধিকার নেই, বাংলার অসম্মান আমরা সহ্য করব না। বাংলার মানুষ এর বিরুদ্ধে জবাব দেবে।

উনি কি টেলেস্কোপ দিয়ে দেখেছেন, ওখানে শিকার উৎসব হয়েছে? কোত্থেকে হল? শিকার উৎসব তো ওখানে হয় নি, ওনার কথাটাই তো ভুল। একটা বাঘ মারা গেছে, দেখতে এসছে অনেক লোক, একটা মানুষ মারা গেলেও তো তাঁর পরিবার পরিজন ভিড় করে। আর একটা অতবড় বাঘ, লোকে তো বাঘকে ভালবাসে, উৎসাহী মানুষ তো থাকেই, তার মানে এটাকে শিকার উৎসবের সাথে তুলনা করে দিচ্ছে? আর শিকার উৎসব টাও মনে রাখবেন এটা আদিবাসীদের উৎসব, কটাক্ষ করা ওনাকে মানায় না।

বাংলাকে হেয় করতে গিয়ে উনি আদিবাসী ভাই বোনেদের হেয় করেছেন, I am the last person to tollerate it. পশ্চিম বাংলায় সব মানুষ একসঙ্গে বাস করে। হিন্দু ,মুসলিম, শিখ, ইসাই, বৌদ্ধ, জৈন, আদিবাসী, তপশিলি, ওবিসি – আমরা একসাথে বাস করি, তার কারন, বাংলাই একমাত্র সংস্কৃতির প্রাণ কেন্দ্র। এটা ওনার জানা নেই, ওনার যেটা জানা আছে, সেটা হল মানুষে মানুষে ভাগাভাগি করা। তাই ওনাদের মুখে যেটা শোভা পায়, বাংলার মুখে সেটা শোভা পায় না।

বাংলাকে উনি অসম্মান, অপমান করেছেন, আমার দলিত, আদিবাসী ভাই বোনেদের অপমান করেছেন, এর জন্য ওনাদের পস্তাতে হবে, আগামী দিনে মানুষ এর বিচার করবে।