ড. বি আর আম্বেদকর-এর ১২৮ তম জন্মদিন স্মরণ

    0
    168

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক : অল ইন্ডিয়া এসসি এণ্ড এসটি রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের নৈহাটি শাখার উদ্যোগে কল্যাণী রেল স্টেশনে ভারতরত্ন ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর ১২৮ তম জন্মদিন উলক্ষে তাঁর স্মরণ অনুষ্ঠান প্রদীপপ্রজ্বলন করে শুভ সূচনা করলে উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষার সহ অধিকর্তা ফারুক আহমেদ।
    ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (১৪ এপ্রিল ১৮৯১ – ৬ডিসেম্বর ১৯৫৬) ছিলেন একজন ভারতীয় জ্যুরিস্ট, রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ , ঐতিহাসিক, বাগ্মী, বিশিষ্ট লেখক, অর্থনীতিবিদ, পণ্ডিত, সম্পাদক, রাষ্ট্রবিপ্লবী ও বৌদ্ধ পুনর্জাগরণবাদী। তিনি বাবাসাহেব নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ভারতের সংবিধানের খসড়া কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতের দলিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। ইনি ভারতের সংবিধানের মুখ্য স্থাপক। কবি-সাহিত্যিক ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর শিক্ষা বিভাগের সহ অধিকর্তা ফারুক আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর মর্যদার জন্য সর্বদা কাজ করছে অল ইন্ডিয়া এসসি এণ্ড এসটি রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন। তাঁদের পক্ষ থেকে ফারুক আহমেদকে ডাকা হয় তিনি আসেন। ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর ভাব-আদর্শে অনুপ্রাণিত ফারুক আহমেদ। তাঁর স্বপ্নের উদার ভারত গড়তে ফারুক আহমেদ-রা বদ্ধপরিকর আছেন। ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেদকর দারিদ্র মুক্তি ও জাতপাতহীন ভারত গড়তে চেয়েছিলেন। ভারতের সংবিধান রচনার সময় তিনি এসসি,এসটি, ওবিসি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার উপর জোর দিয়েছিলেন। সকল শ্রেণি মানুষকেই তিনি মর্যাদার আসনে তুলে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন ওই সময়।অল ইন্ডিয়া এসসি এণ্ড এসটি রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের নৈহাটি শাখার উদ্যোগে ভারতরত্ন ডক্টর ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর ১২৮ তম জন্মদিন উলক্ষে তাঁর স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া এসসি এণ্ড এসটি রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের জোনাল সম্পাদক সমীর কুমার দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে অল ইন্ডিয়া এসসি এণ্ড এসটি রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের প্রধান কার্য়লয়ের সম্পাদক কঙ্কন কুমার গুঁড়ি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারু ভাষায় পরিচালনা করেন পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিবিশনের নৈহাটি শাখার সাধারন সম্পাদ সুশিল বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট এ ক্যারকেটা। অল ইন্ডিয়া এসসি এণ্ড এসটি রেলওয়ে এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের বিভাগীয় সম্পাদক শিয়ালদহ শাখার ধিরেন্দ্রনাথ মন্ডল বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সমীর কুমার দাস, কঙ্কন কুমার গুঁড়ি, বলরাম শিট, শুভদীপ বিশ্বাস প্রমুখ।দলিত-মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে কলকাতার রাজপথে মিছিলের ডাক দিল দলিত ও সংখ্যালঘু সংগঠনের কর্মকর্তারা। এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, এই ভারত বিশ্বের দরবারের ধর্মনিরপেক্ষ বলে’ই পরিচিত লাভ করেছে একসময়। ধর্মনিরপেক্ষ হিসাবে বিশ্বের মোড়ল দেশ গুলোর কাছে সুপরিচিত লাভ করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সুনাম, সেই কৃতিত্ব আজ ভগ্নপ্রায়। দেশে দলিত-মুসলিমদের অত্যাচার বেড়েছে। দলিত-মুসলিমদের আজও কলাকৌশলভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, দেশের মধ্যে ৬৬ শতাংশ দলিতদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। প্রত্যেক ৬ মিনিটে একটা করে দলিত নারী ধর্ষিত হয়। প্রত্যেক ১৫ মিনিটে  দলিতদের উপর একটি করে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সেই অত্যাচার-অবিচার ও বৈষম্য গুলো প্রায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ঘটছে বেশি। বিগত চার বছরে মোদি সরকার দলিতদের জন্যে কিছুই করেনি বলে দাবি করেন এক বিজেপির দলিত সাংসদ। দলিত হওয়ার কারনে বিজেপির সাংসদকে অপমানিত হতেও হয় এদেশে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে সুপরিকল্পিতভাবে ধংস করতেই জাতিভেদ প্রথার ভীত স্থাপন মজবুত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন ফারুক আহমেদ।তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও তুলে ধরেন, দলিতদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধেও আজ অত্যাচার চরমভাবে বেড়েছে। অত্যাচার-বঞ্চনা-নিপীড়ন ও বৈষম্য বেড়েছে প্রতিদিন। কখনো ‘লভ জিহাদের’ নামে, আবার কখনো ‘গো রক্ষার’ নামে নিরীহ মুসলিমদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। ‘জয়-শ্রীরাম’ ও ‘ভারত-মাতা’ বলতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং এই বলাকে কেন্দ্র করেও আজ প্রত্যেক রাজ্যেই কোথাও না কোথাও মুসলিমদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বঞ্চনা যে শুধুমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যেই হচ্ছে, তা নয়। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা গুলোর দিকে তাকালে বোঝাই যাবে। মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে সুপরিকল্পিত ভাবে ধংস করা হচ্ছে। রাজ্যের একাধিক মাদ্রাসায় শিক্ষকের অভাবে মাদ্রাসা গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা ধংসের পথে। আমাদের দাবি, রাজ্যে মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে রাজ্য সরকারের অনীহা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, পলিকল্পিত ভাবে মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধংস করতে চায় কারা? তাদের ভুল ভাঙাতে হবে।দলিত-মুসলিমদের উপর চলমান অত্যাচার-নিপীড়ন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার ডাক দিলেন দলিত-সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো। কেন্দ্র সরকার কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টে দলিত আইন লঘু, দলিত-মুসলিমদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন, রাজ্যের মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা ধংস করার প্রয়াস, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক থিয়োলজী বিষয় তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে, এসসি-এসটি-ওবিসি-“এ” এবং ওবিসি-“বি” চাকরি প্রার্থীদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে ও বিভিন্ন দলিত-মুসলিমদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে কলকাতার রাণি রাসমণির রাজপথে ২৮ এপ্রিল মহা মিছিলের ডাক দিয়েছে দলিত-মুসলিম সংগঠনগুলো। ওই দিন রাজ্যের সকল দলিত ও সংখ্যালঘু বঞ্চিত মানুষ দলে দলে মহা মিছিলে যোগ দেবেন এবং সভামঞ্চে সোচ্চার হবেন। সমীর কুমার দাস বললেন, ২৮ এপ্রিল কলকাতায় এতো মানুষ আসবেন এবং প্রতিবাদে মহা মিছিলে সামিল হবে তাতে সরকার পক্ষের টনক নড়বে।

    LEAVE A REPLY