যানজটে নাকাল মানুষ

    0
    764

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ ৪৮ ঘণ্টা পরই বাবরি ধ্বংস দিবস। আর তার পরদিন, অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বর রাজ্যে শুরু হচ্ছে বিজেপি’র রথযাত্রা কর্মসূচি। ঠিক তার প্রাক্কালে গেরুয়া শিবিরকে বার্তা দিতে মঙ্গলবার কলকাতার বুকে বড়সড় জমায়েত করে নিজেদের শক্তি জাহির করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের অন্যতম সদস্য সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমায়ে হিন্দ। দেশের সঙ্গে গোটা রাজ্যে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর নিদান দিলেও পরোক্ষে নরেন্দ্র মোদির দলের রাজ্য শাখার নেতৃত্বের প্রতি নির্দিষ্ট বার্তা দিতেই যে এই কর্মসূচি, সেটা এদিন বুঝিয়েছেন সিদ্দিকুল্লারা। শুধু তাই নয়, বড় জমায়েত দেখে উৎসাহিত হয়ে এদিন তাঁরা আগামী বছর ব্রিগেডে জনসভা করার কথাও ঘোষণা করেছেন। তবে সেই জনসভা লোকসভা ভোটের পরই হবে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং মন্ত্রী।

    তবে কাজের দিনে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে এদিন সাধারণ মানুষকে অশেষ দুর্গতিতে ফেলেছে সিদ্দিকুল্লার সংগঠন। সকাল ১১টার পর থেকে ধর্মতলা চত্বরে জামাতের সমর্থকরা বিভিন্ন গাড়িতে চেপে আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কয়েকশো বাস, টেম্পো, মিনিডোর ময়দান তল্লাট কার্যত দখল করে নেয়। সেই সঙ্গে শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে আসে কয়েকটি মিছিলও। সব মিলিয়ে বহু হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যায় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ ও চৌরঙ্গি রোড চত্বরে। ফলে ধর্মতলা সহ গোটা মধ্য কলকাতার সব রাস্তায় যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। ট্রাফিক পুলিসকে নানা রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ‘নো এনট্রি’ও করে দিতে হয় তাদের। হাওড়া ও শিয়ালদহে দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে গিয়ে নাজেহাল হয় বহু যাত্রী। যানজটের জেরে বিরক্ত শ’য়ে শ’য়ে মানুষ গাড়ি-বাস ছেড়ে হাঁটতে বাধ্য হয়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরতে গিয়ে সবচেয়ে করুণ অবস্থা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। সব মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি তৈরি হয় শহর কলকাতার এক বিস্তীর্ণ অংশে। যার রেশ গড়ায় সন্ধ্যা পর্যন্ত। সিদ্দিকুল্লার দাবি, এদিন সমাবেশে তাঁদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে লক্ষাধিক মানুষ এসেছে। কলকাতা পুলিস কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা না বললেও হাজার হাজার মানুষের জমায়েতের কারণে যানজট ও তার জেরে মানুষের দুর্ভোগের কথা মেনেছে।

    LEAVE A REPLY