শান্তি থাকলেই সমৃদ্ধি, পাহাড়ে বাণিজ্য সম্মেলনে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    0
    65

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  আজ দার্জিলিঙে দুদিন ব্যাপী বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।কাল এই সম্মেলন চলবে সকাল ১১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত, উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।এই প্রথম পাহাড়ে এরকম একটি সম্মেলন হচ্ছে।তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে – তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, উদ্যানপালন, কৃষি শিল্প, ঔষধি গাছ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও শিক্ষা – পাহাড়ের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।এই প্রথমবার পাহাড়ে এই ধরনের বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। দার্জিলিংবাসীকে অভিনন্দন জানাই।দার্জিলিংএ বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা আছে। চা, বাণিজ্য, পর্যটন, পরিবহণ এগুলোতে তো সুযোগ আছেই। এছাড়া, উদ্যানপালন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, সফটওয়্যার এগুলোতেও সম্ভাবনা আছে।এখানকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য এরকম উদ্যোগ খুব প্রয়োজন।জিটিএ এই সম্মেলন করার আবেদন করেছিল, আমরা তার এক মাসের মধ্যে এই সম্মেলন করেছি। জিটিএ কে ধন্যবাদ সবরকম সহযোগিতা করার জন্য।বাংলা নিজেকে প্রমাণ করেছে, বাংলা এগিয়ে চলেছে। বাংলা মানেই বাণিজ্য।শিল্প করার সুবিধা, দক্ষতা বিকাশ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে, কৃষিতে, ই-টেন্ডার, ই-রিফর্ম, ই-গভর্নেন্স – সবেতেই আমরা দেশে শীর্ষে।পাহাড়ে শান্তি থাকলেই সমৃদ্ধি আসবে।গত বছর ৬ মাসের বন্ধে দার্জিলিঙের ১০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। জনগণের সব থেকে বেশী ভোগান্তি হয়।আসুন নতুন করে শুরু করি, শান্তিতে শুরু করি। আমাদের সরকার সবরকম ভাবে সাহায্য করবে।দার্জিলিঙের যুব সম্প্রদায়ের দক্ষতা আছে। তাদের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। বিভিন্ন শিল্পে তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে।আমরা দার্জিলিং ও কালিম্পঙে দুটি আইটিপার্ক তৈরী করছি।আমরা কৃষি ও উদ্যানপালনের জন্য পরিকল্পনা করছি। অর্কিড, ফুল, সিঙ্কোনা মেডিসিন প্ল্যান্ট কীভাবে কাজে লাগানো যায়, দেখা হচ্ছে।কার্শিয়ঙে এডুকেশন হাব তৈরী করা হচ্ছে। নতুন মেডিক্যাল কলেজও তৈরী হচ্ছে।দার্জিলিঙের অনেক জায়গার আরও উন্নয়ন করা যায়, টাইগার হিলেও কয়েকটা কটেজ তৈরীর পরিকল্পনা আছে। সান্দাকফু, কার্শিয়ং, মিরিক, কালিম্পঙের উন্নয়ন করা যায়।আমরা মিরিকে শিল্প ও লোককেন্দ্র গড়তে চাইছি। স্টীল হাব, উদ্যানপালন হাব, হেলথ হাব, এখনও অনেক কিছু করা বাকি আছে।দার্জিলিঙকে স্বচ্ছ এবং সবুজ রাখতে হবে।এখানে যেন আর কোনও অশান্তি না হয়। এই অশান্তিতে কিছু রাজনৈতিক নেতার ফায়দা হয়, সাধারন মানুষের না।পর্যটনে আমাদের অনেক সুযোগ আছে। আমাদের পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র সব আছে।আগে দার্জিলিঙকে অনেক উপেক্ষা ও অবহেলা করা হত। এখন তো আমি দু-তিন মাসে একবার পাহাড়ে আসি।দার্জিলিঙে কর্মসংস্থান-মুখী শিল্প গড়ে তোলার জন্য আমাদের সরকার ১০০ কোটি টাকা দেবে।উন্নয়নের কাজে প্রতিযোগিতা করুন।দিল্লীর কাছে একটাই অনুরোধ, দার্জিলিংকে সুস্থ থাকতে দিন, দার্জিলিংকে টুকরো করতে কাউকে সাহায্য করবেন না। রাজনীতির জন্য দার্জিলিংকে ভাগ হতে দেব না।সকল শিল্পপতিকে ধন্যবাদ এখানে আসার জন্য, গতকাল শিলাবৃষ্টির পরও আজ কাঞ্চনজঙ্ঘা হাসছে।

    LEAVE A REPLY