মুহূর্তের মহিমায় ম্যাচের চিত্রনাট্য পাল্টে যায়

রাশিয়া ঃ  ২২ গজের এই টাইব্রেকার লেন ফুটবলের নিষ্ঠুরতম রাস্তা। মুহূর্তের মহিমায় ম্যাচের চিত্রনাট্য পাল্টে যায়। এই রাস্তায় নেমে বাঘা বাঘা খেলোয়াড় নিজেদের গুলিয়ে ফেলেন। বিশ্বকাপে টাইব্রেকার নামের সেই রহস্যময় রাস্তায় সবচেয়ে বেশি নামতে হয়েছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের।১৯৯০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। ফ্লোরেন্সের সেই ম্যাচে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। আর্জেন্টিনার হয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও আন্তনিও ত্রোগিল্লো লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলেও ৩-২ গোলের জয়ে তাঁরা নাম লেখায় সেমিফাইনালে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও একই ভাগ্য বরণ করে নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ইতালির বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র করে লাতিন আমেরিকান দলটি। কিন্তু টাইব্রেকার নামের স্নায়ুর পরীক্ষায় ৪-৩ ব্যবধানের জয়ে তাঁরা উঠে যায় ফাইনালে।এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই আগুনে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র করল আর্জেন্টিনা। কিন্তু টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন ওর্তেগা-বাতিস্তুতারা। ২০০৬ বিশ্বকাপে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানের হারে আর্জেন্টিনার বিদায় ঘটে বিশ্বকাপ থেকে। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অবশ্য হল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকার পরীক্ষায় ৪-২ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনাই উঠে যায় ফাইনালে।সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে এ পর্যন্ত ৫ বার টাইব্রেকার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো দলকেই এত বেশিবার ফুটবলের এই নিষ্ঠুরতম রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়নি।
ওলেগ সালেঙ্কোকে মনে আছে? সেই যে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রিস্টো স্টয়চকভের সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। রাশিয়ার সাবেক এই স্ট্রাইকার সেই বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে গোল উৎসব করেছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের এটাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। সালেঙ্কো একাই ৫ গোল করেছিলেন!
এবার আসা যাক কোচদের আখ্যানে। বোরা মিলুতিনোভিচকে এই প্রজন্ম হয়তো মনে রাখেনি। কিন্তু ইতিহাস ঠিক মনে রেখেছে। সার্বিয়ার এই কোচ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৫ দলকে কোচিং করানোর যুগ্ম রেকর্ডের অধিকারী। মেক্সিকোর কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে তাঁর অভিষেক ১৯৮৬ টুর্নামেন্টে। এরপর ১৯৯০-তে কোস্টারিকা, ১৯৯৪-তে যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৯৮-তে নাইজেরিয়া এবং ২০০২ টুর্নামেন্টে চীনের কোচ ছিলেন।
২০১০ টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হয়ে মিলুতিনোভিচের সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ব্রাজিলের কার্লোস আলবার্তো পারেইরা। এর আগে বিশ্বকাপে তিনি কোচিং করিয়েছেন কুয়েত (১৯৮২), যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯০), ব্রাজিল (১৯৯৪, ২০০৬) ও সৌদি আরবকে (১৯৯৮)। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ মোট ৫ বার অংশ নেওয়ার রেকর্ডও এক ব্রাজিলিয়ান ও দুই জার্মানের।