এক নজরে কলকাতা নাইটরাইডার্স ।

নতুন নেতা। খোলনলচে পালটে নতুন দল। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টায় কসুর করেনি কেরেআর কর্তৃপক্ষ। ১৯ জনের সংক্ষিপ্ত স্কোয়াড নিয়ে লড়াইয়ের অঙ্গিকার। স্যালারি পার্সে অবশিষ্ট টাকা নেই, যা দিয়ে নতুন কোনও তারকাকে দলে নেওয়া যেত। আসলে কলকাতা নাইটরাইডার্স দলের মধ্যে তারকা প্রথাটাই তুলে দিয়েছে। বড় নামের পিছনে না-ছুটে টি-২০ ক্রিকেটের উপযোগী ক্রিকেটার বাছাইয়ে কলকাতা কতটা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে, সেটা সময় বলবে। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের তিন তারকাকে স্কোয়াডে রেখে নাইটরাইডার্স স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুনের জোয়ারে গা-ভাসাতে চাইছে কিং খানের টিম।নাইট স্কোয়াড:- ব্যাটসম্যান: ক্রিস লিন, শুভমন গিল, নীতিশ রানা, ইশাঙ্ক জাগ্গি, অপূর্ব ওয়াংখাড়ে, রিঙ্কু সিং।উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান: দীনেশ কার্তিক (অধিনায়ক), রবীন উথাপ্পা (সহ-অধিনায়ক)।অলরাউন্ডার: আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, শিবম মাভি, ক্যামেরন ডেলপোর্ট।বোলার: মিচেল স্টার্ক, মিচেল জনসন, পীযুষ চাওলা, কুলদীপ যাদব, কমলেশ নাগারকোটি, বিনয় কুমার, জ্যাভন শার্সাপোর্ট স্টাফ:- জ্যাক কালিস (হেড কোচ)সাইমন কাটিচ (সহকারীকোচ)উইকেটকিপিংপরামর্শদাতা (মার্ক বাউচার)অ্যান্ড্রু লিপাস (ফিজিও)আদ্রিয়ান লেরু (ট্রেনার)এআর শ্রীকান্ত (ভিডিও অ্যানালিস্ট)।দলের খবর: দুই ক্যারিবিয়ান তারকা সুনীল নারিন ও আন্দ্রে রাসেলকে নিলামের আগেই রিটেন করেছিল কেকেআর। পরে নিলামের সময় ‘রাইট টু ম্যাচ’ কার্ডে নাইটরা ধরে রাখে পীযুষ চাওলা ও কুলদীপ যাদবকে। পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ) চলাকালীন চোট পান ডোপের জন্য এক বছরের নির্বাসন পর্ব কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরা নাইট তারকা রাসেল। মাথায় চোট পান মিচেল জনসনও। তবে দুই বিদেশি তারাকাকে প্রথম ম্যাচ থেকেই পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নাইট কর্তৃপক্ষ। সুনীল নারিনের বিরুদ্ধে পুনরায় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ উঠলে তা নিয়েও বিশেষ চিন্তিত নয় নাইটশিবির।ট্রার্ম্প কার্ড: একাদশ আইপিএলে কেকেআরের ট্রার্ম্প কার্ড হয়ে দেখা দিতে পারেন দুই অনূর্ধ্ব-১৯ তারকা শুভমন গিল ও কমলেশ নাগারকোটি। টপ অর্ডারে গিলের আগ্রাসী ব্যাটিং ক্রিস লিনের সঙ্গে জুটি জমিয়ে দিতে পারে। বোলিংয়ে নাগারকোটির গতি ও সুইং বিপদে ফেলতে পারে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের। ইডেনের পিচ সাম্প্রতিককালে পেসারদের সাহায্য করায় নাগারকোটির সফল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অতীত রেকর্ড: ২০০৮ উদ্বোধনী মরশুমে ৮ দলের মধ্য ৬ নম্বরে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কলকাতা নাইটরাইডার্স। দ্বিতীয় মরশুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়। আট দলের লড়াইয়ে একেবারে শেষে থেকে অভিযান শেষ করে কিং খানের দল। বিশেষ সাফল্য আসেনি ২০১০ তৃতীয় মরশুমেও। সে বার ছ’নম্বরে থেকে রণে ভঙ্গ দেয় কেকেআর। ২০১১ প্রথমবার প্লে-অফে জায়গা করে নেয় নাইটরা। তারা চতুর্থ স্থানে থেকে আইপিএল শেষ করে।২০১২ গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা। পরের বছর ৯ দলের টুর্নামেন্টে সপ্তম হয় তারা। ২০১৪ দ্বিতীয়বার খেতাব ঘরে তোলে কেকেআর। ২০১৫ পঞ্চম হলেও শেষ দু’বছর প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে কলকাতা। ২০১৬ চতুর্থ ও গতবার তৃতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নাইটদের।নাইটদের সূচি:-
৮ এপ্রিল: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যঙ্গালোর (ইডেন, রাত ৮টা)
১০ এপ্রিল: চেন্নাই সুপার কিংস (চিপক, রাত ৮টা)
১৪ এপ্রিল: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (ইডেন, রাত ৮টা)
১৬ এপ্রিল: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (ইডেন, রাত ৮টা)
১৮ এপ্রিল: রাজস্থান রয়্যালস (জয়পুর, রাত ৮টা)
২১ এপ্রিল: কিংস ইলেভেন পঞ্জাব (ইডেন, বিকেল ৪টা)
২৭ এপ্রিল: দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (কোটলা, রাত ৮টা)
২৯ এপ্রিল: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যঙ্গালোর (চিন্নাস্বামী, রাত ৮টা)
৩ মে: চেন্নাই সুপার কিংস (ইডেন, রাত ৮টা)
৬ মে: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (ওয়াংখেড়ে, বিকেল ৪টা)
৯ মে: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (ইডেন, রাত ৮টা)
১২ মে: কিংস ইলেভেন পঞ্জাব (ইন্দোর, বিকেল ৪টা)
১৫ মে: রাজস্থান রয়্যালস (ইডেন, রাত ৮টা)
১৯ মে: সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (উপ্পল, রাত ৮টা)