অবসর নিয়ে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে কাজ করতে চান ধোনি

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ কবে অবসর নিচ্ছেন? অবসরের পর কী করবেন? প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সম্পর্কে এই প্রশ্নগুলি এখন ক্রিকেট বিশ্বে সব থেকে চর্চিত। কেউ বলছেন, তিনি অবসরের পর বিজেপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নামছেন। আবার একটি ইউটিউব ভিডিয়োতে মাহি নিজেই জানাচ্ছেন, ব্যাট প্যাড তুলে রাখার পর ছবি আঁকতে চান। এই সব জল্পনা কল্পনার মাঝে এবার ধোনির এক বন্ধু সংবাদমাধ্যমে জানালেন, অবসরের পর ইন্ডিয়ান টেরিটোরিয়াল আর্মির পোস্টিং চাইবেন প্রাক্তন অধিনায়ক।

ধোনির এই বন্ধুর কথা যদি সত্যি হয়, তবে এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। অবসরের পর ধোনি দেশের সেবায় চূড়ান্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যেতে চাইছেন নিজেকে। ধোনির এই বন্ধু জানিয়েছেন, সেক্ষেত্রে সিয়াচেনের মতো প্রতিকূল পরিবেশে পোস্টিং হতে পারে ধোনির। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁরা খুব শীঘ্রই প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের টেরিটোরিয়াল আর্মিতে পোস্টিং পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন। তারপর বিষয়টি সেনার বিবেচনাধীন। আট বছর আগে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর ধোনিকে ইন্ডিয়ানটেরিটোরিয়াল আর্মির সাম্মানিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদ দেওয়া হয়।

ধোনির অবসর প্রসঙ্গে ওই বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কি তাঁর শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন? বন্ধু জানান, এটা বলা খুব কঠিন। কারণ ধোনির চিন্তাভাবনা যে ভাবে কাজ করে, নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না।

ভারতীয় প্রতিবেদনে প্রকাশিত, ক্রিকেট বিশ্বের নতুন চোকার ভারত

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ গত রোববার শেষ হওয়া বিশ্বকাপে হট ফেভারিট দল ছিলো ভারত। গ্রুপ পর্বেও তার দুর্দান্ত খেলেছিলো। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে আসর থেকেই ছিটকে গেছে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে যেতে না পারায় ভারতীয় সমর্থকদের থেকে শুরু করে মিডিয়াগুলোতেও চলছে সমালোচনার ঝড়।

এই বিশ্বকাপে সেরা দল সাজিয়েও সেমিফাইলে এমন ভরাডুবি তাদরে। ২৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় তারা। এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে এই দেশটি কোনো বৈশ্বিক ট্রফি জেতেনি। কিন্তু তারা এ সময়ে ৫টি সেমিফাইনাল বা ফাইনাল ম্যাচ হেরেছে।যার ফলে ভারতের মিডিয়াই বলছে , তবে কি ক্রিকেটের নতুন চোকার ভারত? ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যম জি নিউজ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে, ‘আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে ভারত কি ক্রিকেট বিশ্বের নতুন চোকার? পরিসংখ্যান তো তা-ই বলছে।’

তারা লিখেছে, ‘এটা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে যে ভারত গত ৫ বছরে আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে ৫টি বড় নক আউট ম্যাচেই হেরেছে। মনে হচ্ছে, টিম ইন্ডিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে হটিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নতুন চোকার হয়ে উঠেছে, বিশেষত আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে।’

বন্ধ থাকতে পারে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেডিও সম্প্রচার

খোঁজ-খবর,ওয়েবডেস্কঃ- বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগে সমস্যায় আইসিসি। টাকা না মেটানোয় বিশ্বকাপ ফাইনালের রেডিয়ো সম্প্রচার বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কার দোষে রবিবার ফাইনাল ম্যাচের রেডিয়ো সম্প্রচার হবে না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।কমেন্টেটরদের টাকা না মেটানো এবং একের পর এক চেক বাউন্স করে যাওয়ায় বিশ্বকাপের রেডিয়ো সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসি-র সব খেলার রেডিয়ো সম্প্রচারের দায়িত্ব দুবাইয়ের চ্যানেল ২ নামের একটি কোম্পানিকে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। চ্যানেল ২-এর আবার বক্তব্য একটি ভারতীয় কোম্পানিকে তারা সাব-লিজ দেয়। এবং ওই ভারতীয় কোম্পানিই টাকা মেটায়নি বলে তাদের অভিযোগ।

জাডেজার লড়াই ব্যর্থ, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ে স্বপ্নভঙ্গ কোহালিদের

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ এক দিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের যন্ত্রণা। অন্য দিকে জোরালো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে, চোখের জলে ধোনির প্যাভিলিয়নে ফেরার দৃশ্য ভারতের জার্সি গায়ে তাঁর বিদায়ী দৃশ্যও হয়ে থাকল কিনা।মার্টিন গাপ্টিলের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফেরার মর্মান্তিক দৃশ্য। টিভি রিপ্লে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি কাঁদছেন। যন্ত্রণায় ককিয়ে ওঠা মুখ। মাথা নাড়তে নাড়তে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সাত নম্বর জার্সি হারিয়ে গেল ভারতীয় ড্রেসিংরুমে।

একটু আগে যে-ড্রেসিংরুমের ব্যালকনি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় ক্রিকেট-ভক্তদের সঙ্গে পেন্ডুলামের মতো দুলেছে আশা-আশঙ্কার স্রোতে। রবীন্দ্র জাডেজা এক-একটা ছক্কা মারছেন আর রোহিত শর্মা শিশুর মতো লাফিয়ে উঠছেন। যুজবেন্দ্র চহাল উত্তেজিত ভাবে উৎসব করছেন। জাডেজার একটি শট দেখে এক বার মনে হল, বিরাট কোহালিও যেন বললেন, ‘হো জায়েগা’। পাঁচ রানে তিন উইকেট আর ২৪ রানে চার থেকে অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের কাহিনি লিখে ভারত ফাইনালে পৌঁছবে, এমন একটা রোদঝলমলে আকাশ তখন ম্যাঞ্চেস্টারে উঁকি দিতে শুরু করেছে। কে জানত, দুনিয়ার সেরা ফিনিশারের সামনেই তীরে এসে তরী ডোবার চিত্রনাট্য আজ কপালে লেখা রয়েছে। জয়ের কাছাকাছি এনেও পারল না জাডেজা-ধোনি জুটি। দু’জনেই আউট হয়ে গেলেন চার বলের ব্যবধানে আর ১৮ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ভারত।

এক দিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের যন্ত্রণা। অন্য দিকে জোরালো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে, চোখের জলে ধোনির প্যাভিলিয়নে ফেরার দৃশ্য ভারতের জার্সি গায়ে তাঁর বিদায়ী দৃশ্যও হয়ে থাকল কিনা। পরাজয়ের ধাক্কায় শোকস্তব্ধ কোহালি সাংবাদিক বৈঠকে বলে গেলেন, ধোনি অবসরের ব্যাপারে তাঁদের কিছু জানাননি। কিন্তু যে-রকম নিঃশব্দে ক্রিকেট সংসার ফেলে দিয়ে চলে যাওয়ায় বিশ্বাসী তিনি, সত্যিই বড় কোনও ঘোষণা হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। টেস্ট থেকে যখন অবসর নিয়েছিলেন, তখনও কাউকে জানতে দেননি। ম্যাচ শেষ হতেই সতীর্থদের জানান, আমি আর টেস্ট খেলছি না।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে একটা সময় যদিও মনে হচ্ছিল, আবার অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাবেন ‘ফিনিশার’। ঋষভ পন্থ বা হার্দিক পাণ্ড্যরা যখন বাজে শটে উইকেট উপহার দিয়ে গেলেন, তিনি খেলতে থাকলেন নিজের খেলা। কী সেই খেলা? না, বিলম্বিত করতে থাকো ভবিতব্যকে। বছরের পর বছর ধরে এটাই তো মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। প্রতিপক্ষ জানবে, একটা লোক শুধুই হারকে বিলম্বিত করে যাচ্ছে। যাক না, কত দূরে যেতে পারে! শেষ প্রহরে গিয়ে বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করবে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ধোনি জয় ছিনিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন।

সেমিফাইনালে অসম্ভবকে সম্ভব করার অভিযানে ধোনি সঙ্গী হিসেবে পেলেন জাডেজাকে। যাঁকে প্রথম একাদশের যোগ্য বলেই মনে করছিল না দল। আর সঞ্জয় মঞ্জরেকরের মতো প্রাক্তন আখ্যা দিয়েছিলেন ‘টুকরোটাকরা প্লেয়ার’। মানে একটু ব্যাটিং করেন, একটু বোলিং করেন, একটু ফিল্ডিংও করেন গোছের ক্রিকেটার। জাডেজা এমন এক ইনিংস খেললেন, যা তিরাশি বিশ্বকাপে কপিল দেবের টানব্রিজ ওয়েলসে খেলা ১৭৫ নট আউটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছিল। সে-দিন জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষাৎ পরাজয়ের অন্ধকার থেকে কপিল অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে টেনে তুলেছিলেন দলকে। আজ জাডেজা যখন নামলেন, ভারত ৯২-৬। জিততে গেলে করতে হবে ২৪০। ধোনি ছাড়া কেউ নেই। সকলে ধরেই নিয়েছে, ম্যাচ শেষ। কপিলের মতোই অলৌকিক কিছু ঘটাতে হবে।

সেই পরিস্থিতি থেকে বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়ে ধোনি আর জাডেজা যোগ করলেন ১১৬ রান। আর সেই জুটিতে শাসক ধোনি নন, জাডেজা। পাল্টা আক্রমণ করে নিউজ়িল্যান্ড বোলারদের উড়িয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। বাঁ-হাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার একটা সময় ছয় ওভারে সাত রান দিয়েছিলেন। হার্দিকেরা তাঁর বিরুদ্ধে সিঙ্গলসও নিতে পারছিলেন না। জাডেজা তাঁকেও মেরে দিলেন।

৪৮তম ওভারে জাডেজা যখন ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে ফিরছেন, ভারতের স্কোর ২০৮। যে-পিচে রান করতে গিয়ে দু’দলের সব তারকা ব্যাটসম্যানেরও ঘাম ছুটে যাচ্ছিল, সেখানেই তিনি করলেন ৫৯ বলে ৭৭। কোহালি বলে গেলেন, তাঁর দেখা জাডেজার সেরা ইনিংস। নিউজ়িল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আরও এক ধাপ এগিয়ে বললেন, ‘‘দেখে মনে হচ্ছিল, আমরা এক পিচে ব্যাট করেছি আর জাডেজা অন্য পিচে।’’ হাফসেঞ্চুরি করে তাঁর বিখ্যাত তরোয়াল খেলাও দেখিয়ে দিয়েছেন জাড্ডু। তার পরে দু’হাত তুলে প্রশ্ন করার ভঙ্গিও করলেন। শেষের এই ভঙ্গিটা নিশ্চয়ই মঞ্জরেকরের জন্য যে, কী রে কী বলবি এ বার? আমি কি‘টুকরোটাকরা প্লেয়ারই’?

কিন্তু কে জানত, তরোয়াল খেলার পরেও শেষ দৃশ্যে লেখা আছে, জাডেজার টিমই রক্তাক্ত হবে! তিনি ফিরে যাওয়ার পরেও একটা ক্ষীণ আশা ছিল। ক্রিজে যে তখনও ‘ফিনিশার’ আছেন। ঊনপঞ্চাশতম ওভারের প্রথম বলে নিউজ়িল্যান্ডের সব চেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলার লকি ফার্গুসনকে আপারকাটে ছক্কা মেরে সেই প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে তুললেন ধোনি। গ্যালারিতে ভারতীয় দর্শকদের গর্জনে তখন কান পাতাই দায়। ২৪ রান দরকার ১১ বলে। কত বার করে দেখিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা ‘ফিনিশার’।

কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টার শুধু মুম্বইয়ের মতোই হয়ে থাকল, মুম্বই আর হল না। ২০১১-র ২ এপ্রিল ওয়াংখেড়েতে ছক্কা মেরে জেতানোর মাহিন্দ্রক্ষণ ফিরল না ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। জাডেজা আউট হয়ে যাওয়ায় স্ট্রাইক রাখার জন্য মরিয়া দু’রানের জন্য দৌড়লেন। গাপ্টিলের সরাসরি থ্রো উইকেটই শুধু ভাঙল না, ভেঙে দিল কোটি কোটি হৃদয়ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে কোহালিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন পৃথিবী ভেঙে পড়ছে মাথার উপরে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যাওয়ার শক্তিটুকুও যেন নেই ভারতের সব চেয়ে ফিট ক্রিকেটারের। গেলেন অনেক পরে। ফিরে আসার সময় বিষণ্ণ চোখ গিয়ে পড়ল গ্যালারির দিকে। অনেকে তখনও তেরঙ্গা গায়ে জড়িয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। তাঁদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়লেন। সেই হাত নাড়ার মধ্যে কোনও অভিবাদন গ্রহণ করার স্পর্শ নেই, বরং আছে প্রত্যাশা পূরণ করতে না-পারার অপরাধবোধ।

এক-এক সময় মনে হচ্ছে, রাউন্ড রবিন পর্বে এক নম্বর হিসেবে শেষ করেও ৪০ মিনিটের বাজে ক্রিকেটে স্বপ্নভঙ্গ হল কোহালিদের। শুরুতে ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরিদের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না রোহিত শর্মা, কেএল রাহুল এবং কোহালি নিজে। পাঁচ রানে তিন উইকেট দেখে ক্লাইভ লয়েডও কমেন্ট্রি বক্সে বসে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যেন। সেই লয়েড, যিনি জানেন, ফেভারিট হয়েও কাপ হারানোর যন্ত্রণা কী জিনিস। তিরাশি বিশ্বকাপে কপিলের দৈত্যেরা যে ১৮৩ রান নিয়েও তাঁর মহাতারকাখচিত টিমকে হারিয়ে দিয়েছিল।

কপিলের দলের হাতে ছিল ১৮৩। নিউজ়িল্যান্ডের হাতে ২৩৯। সে-দিনের মতো আজও কেউ ভাবতে পারেনি, কোহালিরা এই রানটা তুলতে পারবেন না।

ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা, এই তত্ত্ব আবার বলা হবে। পাশাপাশি, ভুললে চলবে না, বিশ্বকাপের টিম নিয়ে নানান প্রশ্নের জায়গা খোলা রাখার খেসারতও দিতে হল দলকে। ধোনির ইনিংস নিয়ে তুমুল তর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে ফের। এক পক্ষের মত, জাডেজার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনিই শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাচ্ছিলেন। আবার আর এক দলের বক্তব্য, ৫০ করলেও ৭২ বল নিয়েছেন। প্রচুর ডট বল (যে-বলে রান হয় না) খেলেছেন। তাতে রানরেটের চাপ বেড়ে গিয়েছিল।

তবু সেমিফাইনালের ‘ম্যাচ কা মুজরিম’ হিসেবে কোনও ভাবেই ধোনিকে বাছা যাবে না। সেই তিরস্কার প্রাপ্য ঋষভ পন্থ, হার্দিকের মতো স্টাইল ভাই তরুণ প্রতিভাদের। যাঁরা সেট হয়ে যাওয়ার পরেও উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। এবং মিডল অর্ডার নিয়ে ছিদ্র রেখে দেওয়া। গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ, সচিন তেন্ডুলকরের দেশ চার নম্বর হিসেবে বিজয় শঙ্করের বাইরে যোগ্য কাউকে পেল না, এটা নিউজ়িল্যান্ডের কাছে ভারতের হারের চেয়েও বড় বিস্ময়। দীনেশ কার্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়েছেন ধোনিরও আগে, সেই ২০০৪-এ। আর বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেললেন ২০১৯-এ এসে। এত দিন ধরে জায়গা না-পেয়েও তিনি কী ভাবে এ বারের দলে ঢুকে পড়লেন? ধোনির ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী দলে মিডল অর্ডারে ছিলেন সুরেশ রায়না। যিনি ম্যাচ জেতানো ব্যাটসম্যান হওয়ার পাশাপাশি কয়েক ওভার বোলিং করে দিতে পারতেন। সেই ভূমিকায় এই দলে বাছা হয়েছে কেদার যাদবকে? কোনও তুলনা হতে পারে?

গোটা নিউজ়িল্যান্ডের জনসংখ্যা পঞ্চাশ লক্ষেরও কম। শুধু মুম্বইয়েই তার দু’গুণ লোক থাকে। তবু উইলিয়ামসনদের দেশ রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে প্রায় যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছিল। রাগবিতে এক নম্বর। ক্রিকেট বিশ্বকাপে পরপর দু’বারের ফাইনালিস্ট। কোহালিরা পরপর দু’বার সেমিফাইনালে পরাভূত দল।

উইলিয়ামসনেরা আন্ডারডগ হিসেবে এসেছিলেন। দিনের শেষে তাঁদের স্ত্রী, পরিবারকে নিয়ে মাঠের মধ্যে ফাইনালে ওঠার উৎসব করলেন। কোহালিরা হট ফেভারিট হিসেবে এসেছিলেন। পরাজয়ের বজ্রপাতে হতাশ মুখে বেরিয়ে গেলেন। পরের বিশ্বকাপ? আসছে বছর নয়, আবার চার বছর পরে!

পাল্টা আক্রমণ না-করার মাসুল দিতে হল ভারতকে

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ ভারত ম্যাচটা হেরে গেল সেই শুরুর দিকেই। নিউজ়িল্যান্ডকে এ দিন খেলতে হত ২৩ বল। সেই ২৩ বলে ২৮ রান দেয় ভারতীয় বোলাররা। এই রানটা যদি আরও ১০ রান কম হত, তা হলেও ভারত সুবিধাজনক অবস্থায় থাকত। ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্ট ঝড়েই এ বারের মতো শেষ হয়ে গেল ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। লিগে চতুর্থ হয়ে যে নিউজ়িল্যান্ড উঠে এসেছিল, তাদের কাছেই সেমিফাইনালে হারতে হল ১৮ রানে। মঙ্গলবার যখন বৃষ্টির কারণে ৪৬.১ ওভারে ২১১-৫ স্কোরবোর্ডে রেখে নিউজ়িল্যান্ড খেলা শেষ করেছিল, তখনই বলেছিলাম, এই ম্যাচে ভারত চালকের আসনে। কিন্তু নিউজ়িল্যান্ডের ফিল্ডিং অন্যতম সেরা। ওদের সুযোগ দেওয়া যাবে না। শুরুর দিকে চার-পাঁচ ওভার সতর্ক ভাবে খেললে ফাইনালে যাবে বিরাটের ভারত।

সেখানে আজ ভারত ম্যাচটা হেরে গেল সেই শুরুর দিকেই। নিউজ়িল্যান্ডকে এ দিন খেলতে হত ২৩ বল। সেই ২৩ বলে ২৮ রান দেয় ভারতীয় বোলাররা। এই রানটা যদি আরও ১০ রান কম হত, তা হলেও ভারত সুবিধাজনক অবস্থায় থাকত।

এই ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের নিউক্লিয়াসটা দুই জায়গায়। উপরের দিকে রোহিত শর্মা-বিরাট কোহালি। আর মাঝের সারিতে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বাদ দিলে রোহিত সব ম্যাচেই শুরুতে ক্যাচ তুলে বেঁচে গিয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে রোহিত সতর্ক হয়নি। এ দিন ম্যাট হেনরির দুর্দান্ত বলে টম লাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যায় রোহিত। তার পরে কোহালি এসে নিউজ়িল্যান্ড অধিনায়কের চালটা ধরতে পারেনি। বিরাট কোহালি অনসাইডে ভাল খেলে। পয়েন্ট আর থার্ডম্যান রাখেনি। তার পরে ট্রেন্ট বোল্ট ওকে শুরুর দিকে দু’টি বল বাইরের দিকে করে। তৃতীয় বল সামান্য ভেতরে আসে বিরাটের। চতুর্থ বলটা এমন ভয়ঙ্কর ভাবে উইকেটের দিকে ঢুকে আসে, যা বিরাট চকিতে বুঝতে না পেরেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যায়। আমি বলব এই পরিকল্পনা নিউজ়িল্যান্ড দল অঙ্ক কষেই বার করেছিল। তাই বিরাট বুঝতে পারেনি। তার কিছু পরেই কে এল রাহুল শিক্ষানবীশের মতো ব্যাট চালিয়ে নিউজ়িল্যান্ড উইকেটকিপার লাথামের হাতে ধরা পড়ে। ৩.১ ওভারের মধ্যে পাঁচ রানে তিন প্রথম সারির ব্যাটসম্যান ফিরে গিয়েছে। সেমিফাইনালের মতো এ রকম চাপের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে, পাল্টা আক্রমণ করা উচিত ছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু সেটা ওরা করল কোথায়? বরং এই সময় অতি সতর্ক হয়ে খেলতে গিয়ে স্কোরবোর্ডে রান তোলাটাই বন্ধ করে দিয়েছিল দীনেশ কার্তিক। ২৫ বল খেলে ৬ রান করেছে ও। আমি ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হলে ওকে এই ম্যাচে খেলাতাম না। বদলে মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে দলে রাখতাম। তাই নিউজ়িল্যান্ডের আক্রমণে পাল্টা আক্রমণ না করার মাসুল গুনতে হয়েছে ভারতকে।

স্কোরবোর্ডে ২৩৯ রান নিয়ে লড়তে নেমে নিউজ়িল্যান্ড আক্রমণাত্মক হতই। শর্ট বল, বাউন্সার, সুইং করিয়ে আক্রমণাত্মক সেই ক্রিকেটটাই ওরা খেলেছে। ভারতীয় দল সেই ফাঁদেই পা দিয়ে শুরুতেই ম্যাচটা হাত থেকে বার করে দিয়েছিল। যেখান থেকে ফিরে আসতে পারেনি।

পাশাপাশি, আমি যদি ভারতীয় দলের ম্যানেজার হতাম, তা হলে ধোনিকে ব্যাটিং অর্ডারে তুলে আনতাম। পাঁচ রানে তিন উইকেট চলে যাওয়ার পরেই ধোনিকে নামিয়ে দিলে, ও আরও বল খেলতে পারত। ভাবুন তো এই ধোনি যদি আরও ১০-১১টা বল বেশি খেলার সুযোগ পেত? এতে ভারত ও ধোনির রান যেমন বাড়ত, তেমনই ঋষভ ও হার্দিককে বিশাল অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে পারত।

সৌরভরা বিস্মিত ধোনি কেন পরে, আউট নিয়েও শুরু বিতর্ক

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বিপর্যয়ের পরে তৎক্ষণাৎ শুরু হয়ে গিয়েছে ময়নাতদন্ত। কোহালিরা কি ঠিক দল আনেননি বিশ্বকাপে? কেন চার নম্বর নিয়ে এত টালবাহানা চলল শেষ পর্যন্ত? কেন দীনেশ কার্তিকের আগে ঋষভ পন্থ?সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মনে করছেন, মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে পরে নামানোটা ঠিক হয়নি। পরিস্থিতি বিচারে তাঁর আরও আগে আসা উচিত ছিল এ দিন। ভিভিএস লক্ষ্মণও তাঁর সঙ্গে একমত।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বিপর্যয়ের পরে তৎক্ষণাৎ শুরু হয়ে গিয়েছে ময়নাতদন্ত। কোহালিরা কি ঠিক দল আনেননি বিশ্বকাপে? কেন চার নম্বর নিয়ে এত টালবাহানা চলল শেষ পর্যন্ত? কেন দীনেশ কার্তিকের আগে ঋষভ পন্থ? যেখানে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহালি আউট হয়ে গিয়েছেন, খেলা ধরার জন্য কি কার্তিককে পাঠানো উচিত ছিল? যাঁর রক্ষণ ঋষভের চেয়ে মজবুত? কেন ধোনির আগে হার্দিক পাণ্ড্য? সৌরভ মাঠ ছেড়ে বেরোনোর সময় ধোনির ব্যাটিং নিয়ে জিজ্ঞেস করায় বলে গেলেন, ‘‘ধোনি আজ খারাপ খেলেনি কিন্তু। সেই সময় পার্টনারশিপ দরকার ছিল। জাডেজার সঙ্গে ও সেটাই করেছে। তবে ওকে দেরিতে নামানো হয়েছে। আরও আগে আসা উচিত ছিল ধোনির।’’ শোনা গেল কমেন্ট্রিতেও তিনি এবং লক্ষ্মণ একই কথা বলে এসেছেন।

বিরাট কোহালি যদিও মনে করছেন, নিউজ়িল্যান্ডের স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরুতেই যে তাঁরা চার উইকেট হারিয়ে ফেললেন, সেখানেই ম্যাচ হেরে গিয়েছে দল। ম্যাঞ্চেস্টারে মুম্বইসুলভ উৎসবের আবহের বদলে যে শোকের ছায়া নেমে এল, তার কারণ শুরুর চল্লিশ মিনিটের ব্যাটিং। কোহালি এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে এমনই ম্রিয়মান ছিলেন, যা সচরাচর তাঁকে দেখা যায় না। সেই কোহালিসুলভ আগ্রাসনটা যেন নিউজ়িল্যান্ড ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বললেন, ‘‘আমাদের ব্যাটিংয়ের প্রথম চল্লিশ মিনিটেই খেলার রং পাল্টে যায়। আমরা ওই সময়ে খারাপ ক্রিকেট খেলেছি।’’ এর পরে আরও যন্ত্রণাকাতর অভিব্যক্তি-সহ যোগ করলেন, ‘‘এত কষ্ট করে আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ভাল খেলে এই জায়গাতে এসেছি। তার পরে হঠাৎই সব শেষ। আমাদের হৃদয় গুঁড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে এই পরাজয়। কিন্তু কী করা যাবে, এটাই ক্রিকেট। এটাই বিশ্বকাপের বাস্তব দিক। একটা বাজে দিন তোমার স্বপ্নভঙ্গ করে দিয়ে যেতে পারে। আমাদের মেনে নিতে হবে।’’ এক নিঃশ্বাসে এর পরে বললেন, ‘‘তবে নিউজ়িল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিতে হবে। যে ভাবে ওরা নতুন বলে বল করেছে, সেটাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়ে গেল।’’

২০১১-তে ধোনির ভারত যখন ওয়াংখেড়েতে বিশ্বকাপ জেতে, কোহালি সেই দলের তরুণ সদস্য ছিলেন। সচিন তেন্ডুলকরকে তাঁর কাঁধে করে মাঠ ঘোরানোর ছবি এখনও সকলের মনে আছে। ২০১৩-তে ধোনিরই নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। সেখানেও কোহালি দলের তরুণ ব্যাটসম্যান। তার পর থেকে বিশ্ব মঞ্চে ট্রফিহীন ভারত। ২০১৫ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে পরাজয়। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হার। ২০১৯-এর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে অঘটনের পরাজয় বরণ করে বিদায়। কে বলবে এই নিউজ়িল্যান্ডই রাউন্ড রবিন পর্বের শেষ দিকে হারতে হারতে শেষ চারে উঠেছে আর ভারত টেবলের শীর্ষে থেকে শেষ চারে খেলতে নেমেছে। কোহালি যদিও দাঁতে দাঁত চেপে বলার চেষ্টা করলেন, ‘‘আমরা শোকাহত। তবে মেনে নিতে হবে। এই হার থেকে আরও ভাল খেলোয়াড় হয়ে আমরা বেরিয়ে আসব।’’২৪০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চারটি বল ভূকম্পন ঘটিয়ে দিয়ে গেল ভারতীয় ব্যাটিং ইমারতে।

১.৩ ওভার: টুর্নামেন্টে ভারতের সব চেয়ে সফল ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা আউট। ম্যাট হেনরির ফুল লেংথ ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে উইকেটকিপার টম লাথামের হাতে ক্যাচ। ভারত ৪ রানে ১ উইকেট।

২.৪ ওভার: বাঁ-হাতি ট্রেন্ট বোল্টের সেই বিষাক্ত ইনসুইঙ্গার। কোহালির পা পেয়ে গেল উইকেটে সামনে। মরিয়া ভারত অধিনায়ক রিভিউ নিলেন। তাতেও লাভ হল না। ১ রানে ফিরে গেলেন তিনি। বিরক্ত কোহালি মাথা নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে যাচ্ছেন, জোরালো ঝাঁকুনি খেয়ে গেল দল। ৫ রানে ২ উইকেট। ৩.১ ওভার: ম্যাট হেনরির অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বলে অহেতুক খোঁচা দিলেন রাহুল। উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ। ভারত ৫ রানে ৩ উইকেট।

৯.৬ ওভার: দীনেশ কার্তিক কিছুটা দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। পয়েন্টে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফেরালেন জিমি নিশাম। ভারত ২৪-৪।

‘‘প্রথম ৪০ মিনিটে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। পাঁচ রানে তিন উইকেট হারানোর পরে ম্যাচে ফিরে আসাটা খুবই কঠিন। তবু জাডেজা আর এম এস চেষ্টা করেছিল। আমার মনে হয়, এটাই জাডেজার খেলা সেরা ইনিংস,’’ বললেন কোহালি। পরক্ষণেই যোগ করলেন, ‘‘গোটা টুর্নামেন্টে আমরা খুব ভাল খেলেছি। এই হারে আমরা খুবই হতাশ।’’

প্রথমে ২৪-৪, তার পরে ৯২-৬ হয়ে গিয়েছিল ভারত। ঋষভ আচমকা ওড়াতে গিয়ে আউট হওয়ার পরে ড্রেসিংরুমের বারান্দায় উত্তেজিত দেখাল কোহালিকে। উঠে গিয়ে তিনি কথা বলতে থাকেন হেড কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে। দেখে মনে হচ্ছিল, ঋষভের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট দেখে ক্ষুব্ধ অধিনায়ক। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে অবশ্য দলের কাউকে আলাদা করে খলনায়ক বানালেন না তিনি। বরং ঋষভকে নিয়ে বলে গেলেন, ‘‘ওর প্রতিভা কতটা সকলে দেখেছে। যদি কোথাও ভুল করে থাকে, সেটা থেকে শিক্ষা নেবে। আমিও ঋষভের বয়সে অনেক ভুল করেছিলাম, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ঋষভও শিখবে।’’

চিরকাল বুক চিতিয়ে ক্রিকেট খেলতে চেয়েছেন কোহালি। কখনও অজুহাতের দরজা খোঁজেননি। এ দিন হারের পরেও তাই দায়িত্ব নিতে পিছপা হলেন না। বললেন, ‘‘আমার যে দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল, ওই সময় টিম আমার কাছ থেকে যে রকম পারফরম্যান্স আশা করেছিল, সেটা আমি দিতে পারিনি। স্বভাবতই খুব হতাশ লাগছে।’’

সেমিফাইনালের দু’টো ব্যাপার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি-সহ একটা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে যে, ধোনি যখন রান আউট হন, বৃত্তের বাইরে অতিরিক্ত ফিল্ডার ছিল নিউজ়িল্যান্ডের। হিসেব মতো বলটা ‘নো’ হওয়া উচিত ছিল। যদিও হারের পরে এই সব তথ্য খুব গুরুত্ব পাবে কি না, সন্দেহ। ‘নো’ হলেও রান আউট হতে পারতেন ধোনি।

সেমিফাইনালে ভারতের পতনের পরে কথা উঠছে, বিশ্বকাপের এই ফর্ম্যাট ঠিক আছে কি না। গ্রুপ পর্বে সেরা হয়ে একটা দল একটা বাজে দিনের জন্য বিদায় নেবে কেন? সৌরভ উদাহরণ দিলেন আইপিএলের। বললেন, ‘‘কিছু একটা ভাবা দরকার। আইপিএলের প্রক্রিয়াটা বেশ ভাল। প্রথম দু’টো দল দু’টো করে সুযোগ পায়। একটা বাজে দিন এ ভাবে শেষ করে দিতে পারে না একটা ভাল দলকে।’’ মাঠ থেকে বেরনোর সময় রীতিমতো ভক্তদের ভিড়ের মাঝে পড়তে হয় সৌরভকে। ভারতীয় সমর্থকেরা তাঁকে এমনই ঘিরে ধরেছিলেন যে, নিরাপত্তা কর্মীদের ডেকে সামাল দিতে হল। তার মধ্যেই বললেন, ‘‘কোহালিরা ভাল খেলেছে। গোটা টুর্নামেন্টে ভাল খেলে এক দিনের খারাপ ক্রিকেটে বিদায় নেওয়াটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। সত্যিই হতাশজনক।’’ চার নম্বর নিয়ে জট পাকিয়ে থাকা কতটা ক্ষতি করল? সৌরভ বললেন, ‘‘এটা ঠিক করে ফেলা উচিত ছিল আগেই। যার কথাই ভাবি না কেন, তাকে এক বছর ধরে খেলিয়ে তৈরি করা উচিত ছিল বিশ্বকাপের জন্য।’’ কাপ হারানোর যন্ত্রণা কী, সৌরভ জানেন। গাড়িতে ওঠার আগে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে গেলেন, ‘‘ভেবেছিলাম লর্ডসে ফাইনাল খেলব। কী যে হয়ে গেল!’’

দিনের শেষ বিজয়ী অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন সব চেয়ে বেশি করে পাশে দাঁড়ালেন ভারতের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কোহালির ভারত হারিয়েছিল উইলিয়ামসনের নিউজ়িল্যান্ডকে। সেই ইতিহাস বদলে দিয়ে উইলিয়ামসন বলে গেলেন, ‘‘ভারত দারুণ দল। দুর্ধর্ষ সব ক্রিকেটার রয়েছে। ক্রিকেট খেলাটা অনেক আকর্ষণীয় করে তুলেছে ভারত। ভারতীয় সমর্থকদের বলব, ধৈর্য হারাবেন না।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘জেতায় আমরা অবশ্যই খুশি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটকে অশ্রদ্ধা করার কোনও জায়গা নেই।’’

‘ধোনি এখনও সম্পদই, এই সমালোচনা ওর প্রাপ্য নয়’

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে। অনেক বেশি অ্যাথলেটিক হয়েছে ক্রিকেটারেরা। সেটা দেখেই আমার সব চেয়ে ভাল লাগছে। খেলাটাও অনেক এগিয়েছে। মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগ দর্শক ভারতীয়।
ছত্রিশ বছর আগের কথা। ২২ জুন, ১৯৮৩। এই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেই ছিল সেই সেমিফাইনাল। ইংল্যান্ডকে ছয় উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে তাঁরা পৌঁছে গেলেন ফাইনালে। ছুটতে থাকল অশ্বমেধের ঘোড়া। এর পর ২৫ জুনের ফাইনালে গিয়ে তাঁরা থামিয়ে দেবেন ফেভারিট ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা জয় যাঁর নেতৃত্বে এসেছিল, তিনি হঠাৎ হাজির মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে। দেখতে পেয়েই সকলে ছুটল তাঁর পিছনে। যেন বিশ্বকাপের মঞ্চ এত দিনে পেয়েছে তার সেরা মহাতারকাকে। চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি— কপিল দেব সাক্ষাৎকার দিলেন ধোনি থেকে শুরু করে বিরাট, নানা বিষয় নিয়ে।

প্রশ্ন: এখনকার ভারতীয় দল সম্পর্কে কী বলবেন?

কপিল দেব: অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে। অনেক বেশি অ্যাথলেটিক হয়েছে ক্রিকেটারেরা। সেটা দেখেই আমার সব চেয়ে ভাল লাগছে। খেলাটাও অনেক এগিয়েছে। মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডেও দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগ দর্শক ভারতীয়। এখনকার ভারতীয় দলকে খুবই ভাল লাগছে আমার। দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে আমাদের।

প্র: তিরাশিতে এখানেই আপনার নেতৃত্বে ভারত সেমিফাইনাল খেলে জেতে। কী বদল দেখছেন?
কপিল: অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। পিচের অবস্থানটাই তো পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে দেখছি। যত দূর মনে করতে পারছি, পিচটা ছিল অন্য দিকে মুখ করা। দেখে মনে হচ্ছে, কেউ যেন ওটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। পুরনো ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সঙ্গে মেলাতেই পারছি না। তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরে আসতে পেরে ভাল লাগছে। আমি দারুণ খুশি। সব চেয়ে বেশি উপভোগ করছি, আবার একটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হচ্ছে। এবং আমাদের দল খেলছে।

প্র: মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে নিয়ে খুব বিতর্ক হচ্ছে। কিপিং ভাল করলেও ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইক রেট ঠিক না থাকার জন্য সমালোচিত হচ্ছেন। আপনি

কী বলবেন?
কপিল: খুবই অন্যায় হচ্ছে এ ভাবে ধোনির সমালোচনা করাটা। আমি একেবারেই সমর্থন করছি না। ধোনি আমাদের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের এক জন। এখন তো আর আশা করলে হবে না যে, ধোনিকে কুড়ি বছরের তরুণের মতো দেখাবে। যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদের প্রশ্ন করতে চাই, সমস্যাটা কোথায়? টিমের কাজে কি ধোনি আসছে না? না কি আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না? সমস্যাটা ওখানেই। আমরা এত কিছু প্রত্যাশা করে ফেলি যে, সেটার উপরে দাঁড়িয়েই আমাদের ভাল-মন্দ বিচারের মাপকাঠিটা তৈরি হয়ে যায়। আমার তো ধোনির খেলা দেখে মনে হচ্ছে, দারুণ করছে। আর সেটা মনে হচ্ছে কারণ আমি টিমের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ওর পারফরম্যান্সকে বিচার করার চেষ্টা করছি। সেটাই তো ঠিক।

প্র: আপনি ধোনির উপরেই

আস্থা রাখছেন?

কপিল: আমার মনে কোনও সন্দেহই নেই যে, ধোনি এখনও ভারতীয় দলের সম্পদ। এই দলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক জন ক্রিকেটার। কিন্তু আমরা যে দশ-পনেরো বছর আগের ধোনিকে সব সময় দেখতে চাইছি। সেটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে হয়, আর একটু বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করলে সকলেই সত্যিটা দেখতে পাবে। ধোনিকে এখনও দরকার এবং মোটেও ও খারাপ কিছু করছে না।

প্র: রোহিত শর্মার এই স্বপ্নের ফর্ম দেখে কী বলবেন?

কপিল: অসাধারণ। হ্যাট্‌স অফ। দারুণ ফর্ম দেখানো এক জিনিস। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে এ রকম ফর্ম দেখানো সত্যিই অভাবনীয়। মুগ্ধ হয়ে সকলে দেখছে রোহিতের ব্যাটিং।

প্র: ভারত এ দিন প্রথম বলেই রিভিউ নিল। সেটা নষ্ট হওয়ায় সারা দিনে আর ডিআরএস রইলই না। আপনার মনে হয়, অন্তত দু’টো রিভিউ থাকা উচিত ছিল?

কপিল: দু’টো কেন, আমি তো বলব তিনটে রাখো। প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছি যখন, আরও ভাল ভাবে নেব না কেন? মাত্র একটা রিভিউ কেন থাকবে? মোটেও উচিত হচ্ছে না। আমার তো মনে হয়, ওয়াইড হয়েছে কি না দেখার জন্যও রিভিউ রাখা যেতে পারে। এই তো কিছুক্ষণ আগে আম্পায়ার একটা ওয়াইড দিলেন। রিপ্লে দেখাল, বলটা প্যাডে লেগেছে। এই অতিরিক্ত রানটার কৈফিয়ত কে দেবে? ফিল্ডিং ক্যাপ্টেনের তো এটা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকারই নেই। অথচ, ক্রিকেটে একটা রানই অনেক সময় খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে যেতে পারে। আমার কথা হচ্ছে, প্রযুক্তি যখন হাতের সামনে রয়েইছে আর তার সাহায্যও নিচ্ছি, তা হলে আজকের ক্রিকেটে আর এই ভুলগুলোই বা রাখব কেন?

প্র: এই প্রজন্মের ভারতীয় ফাস্ট বোলিং দেখে আপনার মূল্যায়ন কী?

কপিল: আমাদের পেস বোলিং বিভাগ এখন দারুণ করছে। বুমরা তো আছেই, শামিও দারুণ বল করেছে। ভুবনেশ্বরও খুব ভাল। শামি এই ম্যাচটায় হয়তো খেলছে না, কিন্তু এই বিশ্বকাপে ভাল বল করেছে। ভুবনেশ্বর আজ শুরুতে অসাধারণ বোলিং করল। বুমরাকে নিয়ে যত প্রশংসাই করি না কেন, যথেষ্ট হবে না। আমি মুগ্ধ ওকে দেখে। পাঁচ বছর আগে ওকে দেখে সত্যিই আশা করিনি, এত দূর পৌঁছবে ছেলেটা। হ্যাট্‌স অফ! দশ গজ দৌড়ে নিয়মিত ভাবে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে যাচ্ছে! জানি না, কী করে সম্ভব! মুখে বলা খুব সহজ, কিন্তু কাজে করে দেখানো

অনেক কঠিন।

প্র: মেঘলা আকাশ ছিল বলে কি জাডেজার জায়গায় শামিকে খেলানো উচিত ছিল আজ?

কপিল: সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল হচ্ছে, যে দলটা ওরা বেছে নিয়েছে সেই এগারো জনের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেই বেছে নিয়েছে। নিশ্চয়ই টিমের একটা ভাবনা রয়েছে এই দলটা বেছে নেওয়ার পিছনে। আমি দূরে বসে প্রথম একাদশ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তোলায় বিশ্বাসী নই। এটা টিমের সিদ্ধান্ত, তাকে সম্মান করব। ভারত সেমিফাইনালে খেলছে, আসুন সকলে মিলে দলের সঙ্গে থাকি। কী হলে কী হত, তা নিয়ে তর্ক তোলার বা বলার সময় এটা নয়।

প্র: তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কি আশা করছেন এ বার ইংল্যান্ডে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে?

কপিল: সকলেই আশাবাদী দল নিয়ে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে এখন সেমিফাইনাল ম্যাচটা নিয়ে ভাবার কথাই বলব। আগে এই ম্যাচটা জিতব, তার পরে ফাইনাল নিয়ে না হয় ভাবা যাবে।

প্র: বিরাট কোহালির অধিনায়কত্ব আপনার কেমন লাগছে?

কপিল: বিরাট অন্য রকম। ও ধোনির মতো নয়। অনেক বেশি আগ্রাসী ভঙ্গি। প্রত্যেক ক্যাপ্টেনেরই একটা নিজস্ব ভঙ্গি থাকে। বিরাটেরও আছে এবং নিজস্ব ভঙ্গিতে ও খুবই ভাল করছে। অসাধারণ এক ব্যাটসম্যান, ক্রিকেট বিশ্ব যাদের দেখেছে এত দিন ধরে, তাদের মধ্যে অন্যতম সেরা। সকলে ওর খেলা দেখতে চায়।

প্র: বিশ্বকাপে বিরাটের কোনও সেঞ্চুরি নেই দেখে কি আপনি অবাক?

কপিল: একেবারেই না। এ ভাবে ভাবতে বসলে তো সেই জায়গাটাতেই চলে আসব। প্রত্যাশার কোনও শেষ নেই। এ বার হয়তো লোকে প্রশ্ন করা শুরু করবে, রোহিত পরের বিশ্বকাপেও পাঁচটা সেঞ্চুরি করতে পারবে? প্রত্যেক বার মাঠে নেমেই তো আর সেঞ্চুরি করা যায় না। বিরাট দারুণ ফর্মে আছে, দলের কাজে আসছে। টিমের প্রতি অবদান রাখা, টিমকে জেতানোটাই আসল।

প্র: ধোনির কী রকম ফেয়ারওয়েল পাওয়া উচিত?

কপিল: সেটা তো ধোনির হাতে নেই। আর তা ছাড়া, ধোনির ফেয়ারওয়েল নিয়ে কথা বলার মঞ্চ এটা নয়। ভারত সেমিফাইনাল খেলছে, আমরা বরং প্রার্থনা করি যেন এই ম্যাচটা জিতে আমাদের দল লর্ডসে ফাইনাল খেলতে পারে।

ম্যাঞ্চেস্টারে বৃষ্টির আশঙ্কা, ম্যাচ হওয়া নিয়ে সংশয় আজও

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ ভারতীয় সময় ১টা থেকে ৪টে পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে থাকবে। এরপর ৫টার সময় ভারী বৃষ্টি ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে আছড়ে পড়তে পারে।কয়েক দিন বিশ্রামে থাকার পর আবারও বিশ্বকাপে স্বমহিমায় বৃষ্টি। আর তার জেরে ফের বিঘ্ন বিশ্বকাপে। মঙ্গলবার ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচে ৪৬.১ ওভারের পর আর খেলা শুরুই করা গেল না। ফলে খেলা কালকের মতো স্থগিত করে দেওয়া হয়।

যেহেতু বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে রিজার্ভ ডে আছে, তাই কালকের ম্যাচ আবার আজ, বুধবার খেলা হবে সেই ৪৬.১ ওভারের পর থেকে।কিন্তু সমস্যা হল, আজকের ম্যাচেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যাঞ্চেস্টারের আবহাওয়া দফতর।

জানা গিয়েছে, ভারতীয় সময় ১টা থেকে ৪টে পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে থাকবে। এরপর ৫টার সময় ভারী বৃষ্টি ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে আছড়ে পড়তে পারে। যদিও সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা বৃষ্টি থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তুরাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আবার ভারী বৃষ্টির ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে।ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আজকেও ম্যাচ শেষ করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে। সে ক্ষেত্রে যদি ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ওভার কমিয়ে ভারতের কাছে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়, তা হলে সেটা ভারতের পক্ষে সুবিধের হবে না। কারণ বৃষ্টি বিঘ্নিত আবহাওয়ায় বল কেমন আচরণ করবে, তা বোঝা বেশ কঠিন। আউটফিল্ড ভিজে থাকাতেও সমস্যা হবে।যার ফলে ট্রেন্ট বোল্ড, লকি ফারগুসনদের খেলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে রোহিত, রাহুল, বিরাটদের কাছে।তাই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ আবার প্রার্থনা করছেন, আজ যেন খেলোয়াড়দের বৃষ্টির জন্য মাঠে নামতেই না হয়। তা হলে লিগ ম্যাচে টেবিল তালিকায় শীর্ষে থাকার সুবাদে ভারত সরাসরি ফাইনালের টিকিট পেয়ে যাবে।যদিও একাংশ আবার চাইছেন, ফলাফল যা-ই হোক, খেলা হোক। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া রীতিমত দ্বিবিভক্ত। অনেকে আবার বলছেন, লিগ ম্যাচে চারটি ম্যাচ ‘জিতে’ আট পয়েন্ট নিয়ে বৃষ্টি সেমিফাইনাল খেলছে কী করে?

ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ভারতকে টসে হারিয়ে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্বকাপের ১২তম আসর প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। মোট ৪৮টি ম্যাচের মধ্যে গ্রুপপর্বে শেষ হয়েছে ৪৫টি। বাকি আর তিনটি। দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। আজ প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় ভারতকে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড দলনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ফলে ফিল্ডিং দিয়েই আজকের ম্যাচ শুরু করতে হবে বিরাট কোহলিদের।ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বিকাল সাড়ে ৩টায় মাঠে গড়াচ্ছে ম্যাচটি। আজকের ম্যাচ জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে একটি দলের। বিদায় ঘটবে অপর দলের। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে ভারত এবং চারে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড ও ভারত দু’দলই একটি করে পরিবর্তন নিয়ে আজ মাঠে নামছে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। কুলদ্বীপ যাদবকে বসিয়ে রেখে আজ আবারও একাদশে ফিরেছেন চাহাল। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বসিয়ে রেখেছে টিম সাউদিকে। তার জায়গায় খেলানো হচ্ছে লকি ফার্গুসনকে।

ভারত একাদশ : রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, ঋষভ প্যান্ট, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, দীনেশ কার্তিক, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, যুজবেন্দ্র চাহাল, ভুবনেশ্বর কুমার ও জাসপ্রিত বুমরাহ।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, কেন উইলিয়ামসন, রস টেইলর, টম লাথাম, জেমি নিশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হ্যানরি, লকি ফার্গুসন ও ট্রেন্ট বোল্ট।

ধোনির পাশে দাঁড়ালেন কোহলি ও রোহিত

খোঁজখবর ওয়েব ডেস্ক ঃ  বিশ্বকাপের আগে থেকেই নিজের পারফরমেন্স নিয়ে সমালোচিত হয়ে আসছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। গতকাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারার পর আবাও সেই কঠোর সমালোচনায় পড়েছেন তিনি।

একদিনের ক্রিকেটের সেরা ফিনিশার হিসেবে অনেকে আখ্যায়িত করে থাকেন ধোনিকে। সেই ধোনিই শেষ ১০ ওভারে ছিলেন ভাবলেশহীন। যেন ভারতের জয় না এলেও চলে! অনেক অতিউৎসাহী ক্রিকেট সমর্থক ধোনির নামে ফিক্সিংয়ের অপবাদ তুলতেও ভুলেননি।

তবে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও সহ-অধিনায়ক রোহিত শর্মা ধোনির পাশেই রয়েছেন। তাদের দাবি, সীমানা ছোট হলেও শেষদিকে বাউন্ডারি হাঁকান কঠিন ছিল, আর তাই চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে ধোনি ও শেষ ৫ ওভারে ধোনির সঙ্গী কেদার।

কোহলি বলেন, ‘বাউন্ডারি হাঁকানোর জন্য ধোনি অনেক চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাউন্ডারি আসছিল না। ইংল্যান্ডের বোলাররা ভালো এরিয়ায় বল করছিল, বল থেমে যাচ্ছিল। শেষদিকে ব্যাট করা তাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।’

একদিন বিরতির পর ভারতের পরবর্তী ম্যাচ বাংলাদেশের সাথে। ঐ ম্যাচে ভুলত্রুটি শোধরানোর তাগিদ দিয়ে কোহলি বলেন, ‘আমাদের বসতে হবে এবং পরের ম্যাচে আরও ভালো করা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

অন্যদিকে রোহিতও মনে করেন, ব্যাট হাতে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টাই করেছিলেন ধোনি ও কোহলি। তিনি বলেন, ‘ধোনি ও কেদার ব্যাট হাতে তাদের সেরা চেষ্টাই করেছিল। কিন্তু বাউন্ডারি হাঁকানো অনেক কঠিন ছিল। ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় উইকেট মন্থর আচরণ করছিল।’