গরমে সুস্থ থাকতে বেশি করে খান তরমুজ !

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : গরমে প্রাণ যায় যায়। মাঝে মঝেই প্রবল পিপাসার জেরে শরীরে জলের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়। অতিরিক্ত ঘামে দেখা দেয় জল স্বল্পতা। এ সময় প্রয়োজন পড়ে বেশি পরিমাণে জল খাওয়ার। গরমে পানীয় হিসেবে তরমুজ বা এর জুস বেশ কার্যকরী। অনেকে মনে করেন, তরমুজে শর্করা আর জল কিছু নেই। তাদের এ ধারণা ভুল। তরমুজে জল শর্করার পাশাপাশি আছে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। তরমুজে ক্যালরি খুব কম থাকে। তাই বেশি পরিমাণে খেতেও সমস্যা নেই। নেই মুটিয়ে যাওয়ার ভয়। এক কাপ বা ১৫২ গ্রাম তরমুজে ৪৩ ক্যালরি, ১১ গ্রাম সোডিয়াম, ১১ গ্রাম কার্বো হাইড্রেট, ১ গ্রাম ফাইবার থাকে, কিন্তু কোনো ফ্যাট থাকে না। এক কাপ তরমুজ দিনে শতকরা ২৩ ভাগ ভিটামিন এ, ২১ ভাগ ভিটামিন সি’র চাহিদা পুরণ করে। এ ছাড়াও এতে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিঙ্ক, আয়রন ইত্যাদি। আছে লাইকোপেন, যা বিভিন্ন কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জলের চাহিদা পূরণে আছে তরমুজের ৯২ ভাগই জল । গরমে জলের চাহিদা পূরণে তরমুজ বেশ কার্যকর। ঘামের সঙ্গে জলের পাশাপাশি লবণও বের হয়ে যায়। তরমুজের সোডিয়াম সে চাহিদা পূরণে সক্ষম। এ ছাড়াও তরমুজে আরও কিছু স্বাস্থ্য উপকারী গুণ বিদ্যমান।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : সম্প্রতি আমেরিকান জার্নাল অব হাইপারটেনশনে একটি প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ রক্তচাপ কমায়। এতে গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের তরমুজের উপাদানগুলো আলাদা করে সেবন করতে দেন। দেখা যায়, এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এক কাপ তরমুজে ২৫০ মিলিগ্রাম সাইট্রুলিন থাকে। এ সাইট্রুলিন শরীরে আর্জেনিনে কনভার্ট হয়। আর আর্জেনিন হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ : তরমুজে থাকা লাইকোপেন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার হতে দেয় না। বিশেষ করে গবেষণায় দেখা গেছে, লাইকোপেন পুরুষের প্রোস্টেট ক্যান্সারে বাধা দেয়।

কোষ্ঠ্য কাঠিন্য প্রতিরোধ : তরমুজে ফাইবার ও জল থাকে। এ দুটোই কোষ্ঠ্য কাঠিন্য দূর করতে সহায়ক।

ত্বক ঠিক রাখে : তরমুজে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ ও জল । এগুলো ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখে। ত্বক রাখে তরতাজা।

গরমে শরীর ঠিক রাখবে সুষম প্রাতরাশ

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : তীব্র গরমে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের নাজেহাল অবস্থা। তবে ব্যস্ত জীবনে স্কুল, কলেজ বা অফিস কিছুই থেমে নেই, তবে চিকিৎসকরা বলছেন এই দুর্দান্ত গরমে বাড়ি থেকে রওয়ানা হওয়ার আগে সেরে নিতে হবে সুষম প্রাতরাশ ।
সকাল বেলার প্রাতরাশ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রাতরাশ সারাটা দিন আমদেরকে প্রাণবন্ত ও সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে। শরীর ও মন প্রফুল্ল রাখে। সকালের প্রাতরাশে তেল চুপচুপে পরোটা কিংবা তেলে ভাজা সিঙ্গারা সমুচা খুবই অস্বাস্থ্যকর খাবার। এতে দিনের শুরুতেই দেহে ফ্যাট জমা শুরু করে এবং শরীর ভারী হয়ে আসে। সকালের তরতাজা ভাব একেবারেই দূর হয়ে যায়। এমনকি তেলে ভাজা ডিমও ক্ষতিকর। সুতরাং সকালের প্রাতরাশে তেলে ভাজা খাবার অভ্যাস ত্যাগ করুন। অনেকে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে ফলের জুসকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেন। কিন্তু বাজার থেকে কিনে আনা ফলের জুস স্বাস্থ্যকর নয় বরং অস্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। এতে থাকে প্রচুর পরিমানে চিনি, ফ্লেভার এবং প্রিজারভেটিভ যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। যদি ঘরে বানানো জুস খেয়ে থাকেন তাতেও অনেকে স্বাদের জন্য যোগ করেন চিনি যা একেবারেই উচিৎ নয়। সুতরাং সকালের ব্রেকফাস্ট টেবিলে ফলের জুস খাওয়া বাদ দিন।

যে খাবারগুলো সকালের প্রাতরাশে আপনাকে সুস্বাস্থ্য দেবে এক নজরে দেখে নিন সেইগুলি
আটার রুটিঃ

আটার রুটি সকালে প্রাতরাশে হতে পারে অন্যতম একটি ভাল খাবার। সকালে পাউরুটি অথবা ভাতের চাইতে আটার রুটি, সবজি, ভাজি, ডিম, ঝোলের তরকারি ,কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

দইঃ

দিনের শুরুটা দই দিয়ে হোক অনেকেই তা চাননা। কিন্তু দই দেহের জন্য অনেক বেশী কার্যকরী একটি খাবার। রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে কাজ করে। দিনের শুরুটা দই দিয়ে করলে পুরো দিন দেহে থাকবে অফুরন্ত এনার্জি।

ফলমূলঃ

সকালের জলখাবারে ফলমূল রাখলে খুবই ভাল। মৌসুমি যেকোন ফল আমাদেরকে তৃপ্তি দেবে। ফলমূল সালাদের মত করেও খাওয়া যেতে পারে।

চা অথবা কফিঃ

সকালে এক কাপ চা অথবা কফি পান করলে শরীর ও মন উভয়ই প্রফুল্ল থাকবে। কিন্তু সকালে উঠে একাধিক কাপ চা কফি পানের অভ্যাস তৈরি হলে ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে আবার শরীরে তার খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।

অনেকেই সকালের প্রাতরাশকে সেইভাবে গুরুত্ব দেন না যা আসলে ঠিক নয়। রাতে খাবার ঠিকমতো খেলেও সকালের প্রাতরাশ গুরুত্বপূর্ণ। সকালের কাজে বের হওয়ার তাড়া থাকলেও ব্রেকফাস্ট সেরেই বের হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সকালে ঠিকমতো ব্রেকফাস্ট না হলে সারাদিন আলস্য ভর করতে পারে।

দিনে কটা খেতে পারেন ডিম ! কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক : ‘ সানডে ইয়া মনডে রোজ খাও আন্ডে’ একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের ক্যাচ লাইন ছিল এটি। তবে ডিম সুষম না বিষম, দিনে কটা করে ডিম খাওইয়া যেতে পারে এই নিয়ে সব সময় চায়ের পেয়ালায় তর্কের তুফান ওঠে । এই প্রতিবেদনে ডিমের সার্বিক গুণাগুন নিয়ে আলোকপাতের প্রচেষ্টা।

 

ডিম সুষম আহার। তাই দিনে একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ অনেক চিকিৎসকই দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমেরিকার একদল গবেষক আবার উল্টো কথা বলছেন। তাঁরা দাবি করেছেন সপ্তাহে তিনটের বেশি ডিম খেলে হৃদরোগে আক্রন্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। গবেষকরা দাবি করেছেন, ডিম সুষম আহার ঠিকই তবে সেটি হিসেব করে খাওযাই ভাল। কারণ কতগুলো ডিম খাওয়া হচ্ছে তার উপরে ডিমের উপকারিতা নির্ভর করে।ডিমের একাধিক অপকারিতা তাঁরা উল্লেখ করেছেন গবেষণা পত্রে। ডিমের কুসুমে নাকি প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল থাকে। প্রায় ১৮৫ মিলিগ্রাম কোলেস্টরল থাকে ডিমের কুসুমে। এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির সারাদিনের খাবারের মধ্যে ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল থাকা উচিত নয়। অথচ একটি ডিমে এর অর্ধেকের বেশি কোলেস্টেরল থাকে। যার কারণে হৃদযন্ত্রে খারাপ প্রভাব পড়ে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এবং অকাল মৃত্যুর প্রবণতাও বাড়ে।

 

নিয়ন্ত্রিত প্রাতরাশে রক্তে কমবে চিনি

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক:  যাদের টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে, তাদের দেখা যায় হাই ব্লাড সুগার বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া। বেশি পরিমাণে চিনি বা শর্করা খেয়ে ফেলা, ইনসুলিন নিতে ভুলে যাওয়া এমনকি অসুস্থ বা স্ট্রেসে থাকলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।

কারণ যেটাই হোক না কেন, সবাই জানেন যে হাই ব্লাড সুগার যথেষ্ট ক্ষতিকর। এর লক্ষণ হলো, প্রচণ্ড পিপাসা, বারবার মুত্রত্যাগের প্রবণতা ও ক্লান্তি। হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে এ থেকে ভয়াবহ একটি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে যাকে বলে কিটোঅ্যাসিডোসিস।

ইনসুলিনের অভাব খাবার দিয়ে মেটানো যাবে না। তাই আপনার ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খেতে হবে নিয়মিত

 

 

১) কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট খান

বেশি পরিমাণে ময়দা ও সাদা আটা খাওয়া হতে বিরত থাকুন।  খেতে পারেন হোল গ্রেইন যেমন স্টিল কাট ওটস, লাল আটার রুটি, হোল হুইট ব্রেড, মাল্টিগ্রেইন ব্রেড ইত্যাদি। এগুলো হজম হতে সময় বেশি লাগে ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ব্রেকফাস্টের আগে ব্যায়াম করবেন না

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যায়াম করাটা জরুরি। ব্যায়াম করলে সুগার কমে আসে এবং ব্যায়ামের পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীর সহজে ইনসুলিন গ্রহণ করতে পারে। তবে অনেকের ব্লাড সুগার দ্রুত কমে যায় ব্যায়ামের পরে। সেক্ষেত্রে ব্যায়ামের আগে ব্রেকফাস্ট করে নিলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সঠিক ফ্যাট খান

ডায়াবেটিস রোগীদের হাই কোলেস্টেরলে ঝুঁকি বেশি থাকে। ডায়াবেটিস হলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল কমে ও খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে, ফলে হৃদরোগ এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। ভালো ফ্যাট যেমন অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল বা সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ খাওয়াটা এক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। এ ধরনের ফ্যাট খাওয়া হলে সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 

ফাইবার বেশি খান

ফাইবার বেশি করে খাওয়াটা যে কোনো মানুষের জন্যই দরকারি, কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে ফাইবার খাওয়ার বিষয়ে আরও মনযোগী হওয়া উচিত। ফাইবার ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।  এই উপকার পেটে দিনে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত ফাইবার খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা। খেতে পারেন হোল-গ্রেইন ওটস, শীম, আপেল, কমলা ও মিষ্টি আলু।

ফল বাদ দেবেন না (কিন্তু স্মুদি বাদ দিন)

ফল মিষ্টি হয় বলে ডায়াবেটিস রোগীরা ফল খেতে ভয় পান। কিন্তু ফলে থাকা চিনি খুব একটা ক্ষতি করে না। এমনকি প্রতিদিন ব্লুবেরি খাওয়াটা বরং ডায়াবেটিস কমাতে কাজে আসে। তবে ফল আস্ত খেতে হবে, জুস বা স্মুদি আকারে নয়। স্মুদি ও জুসে বরং ব্লাড সুগার বাড়তে পারে।  সকালের নাস্তায় যদি জুস খেতেই চান তাহলে এর পাশাপাশি ডিম খেতে পারেন।

দারুচিনি খান

ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ানোর মাধ্যমে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে দারুচিনি। এমনকি তা কোলেস্টেরল কমাতেও ভুমিকা রাখতে পারে। তাই কফি বা ওটসের সাথে দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে খেতে পারেন।

জ্বর-কাশি-চোখ লাল? সাবধান ! অ্যাডিনো ভাইরাস

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  জিকা ভাইরাসের পর এবার অ্যাডিনো ভাইরাসের কবলে শহর কলকাতা। সমীক্ষা বলছে, গত দু’মাসে প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। বর্তমানে পার্কসার্কাসের এক হাসপাতালে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ১২ জন শিশু চিকিত্সাধীন রয়েছে বলে খবর। কিন্তু সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

চিকিত্‍সকদের মতে, এই ভাইরাসে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে। উপসর্গ সর্দি-কাশি-জ্বর। ২-৩ সপ্তাহ থেকে কখনও কখনও ৩০-৩৫ দিন পর্যন্ত থাকছে এই জ্বর। এছাড়া চোখ লাল থাকছে। অনেকে দেখে ভাবছেন কনজাংটিভাইটিস হয়েছে। ফলে কী অসুখ, সেটা বুঝতে দেরি হচ্ছে। এই ভাইরাসে মূলত আক্রান্ত হয় ফুসফুস। ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। অ্যাডিনো ভাইরাসে বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ কি? পার্কসার্কাসের ওই হাসপাতালের চিকিত্সক প্রভাস প্রসূন গিরি জানান, ‘প্রথমে স্বাভাবিক সর্দি,কাশি, জ্বর হয়। তার পরে ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।’ তাহলে সতর্ক থাকার উপায় কি? চিকিত্সক বলেন, ‘এই ভাইরাসে যে আক্রান্ত হয়েছে, তার থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে।’

চিকিত্সকরা জানান, এই ভাইরাস ছোঁয়াচে তাই প্রতিরোধ খুব কঠিন। ছোটো থেকে বড়, যে কোনও বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। ছোটরা যেহেতু এদিক ওদিক হাত দেয়, তাই তারা বেশি আক্রান্ত হয়। পাশাপাশিভাবে ছোটো এবং বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কম। সেই কারণেই ছোটো এবং বয়স্করা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা ভয়াবহতার রূপ নেয়।

পরজীবী ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী বলেন, ‘ কলকাতায় এখন এই রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি হয়েছে। তাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি ধরা পড়ছে। তা নাহলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রত্যেক বছরেই হয়।’ চিকিত্‍সকরা জানাচ্ছেন বাতাসে থাকে এই ভাইরাস। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে যাচ্ছে। ফলে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, নিউমোনিয়া হচ্ছে, ভেন্টিলেশনে রাখতে হচ্ছে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও ঘটছে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে।

পার্কসার্কাসের বেসরকারি ওই হাসপাতালের এক চিকিত্‍সক বলেন, ‘গত বছরের শেষের দিক থেকে এই রোগ নির্ণয় শুরু হয়েছে। গত বছর এইরোগের দাপট এতটা ভয়াবহ ছিল না। রোগ প্রতিরোধের কোনও উপায় এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। তাই ওষুধও নেই। রোগ নির্ণয় হলে অক্সিজেন, নেবুলাইজার ও প্রয়োজনে ভেন্টিলেশনে রাখতে হচ্ছে।’

রোগ লক্ষণ
 এই ভাইরাস চোখের কর্নিয়া ও কনজাংটিভাকে আক্রমণ করতে পারে। এই সমস্যার নাম কেরাটোকনজাংটিভাইটিস। এক্ষেত্রে চোখ লাল, জল পড়া, চুলকানো, ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
 গলা থেকে শুরু করে ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে অ্যাডিনো ভাইরাস। সর্দি, কাশি, নাক দিয়ে জল গড়ানো, ঠান্ডা লাগা, জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়।
 অনেক সময় এই ভাইরাসের আক্রমণে মূত্রথলিতে ইনফেকশন হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরতে পারে। এই সমস্যার নাম হেমারেজিক সিস্ট্রাইসিস।
 বাচ্চাদের অনেক সময় এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে ডায়ারিয়া হয়।
সমস্যা ভয়ঙ্কর আকার নিলে কিছু ক্ষেত্রে রোগীর নিউমোনিয়া, এনকেফালাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভব।

কাদের ভয় বেশি?
ক্যান্সারের কেমো থেরাপি চলছে, স্টেরয়েড ওষুধ খেতে হয়, ব্রঙ্কাইটিস আছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, বাচ্চা, বয়স্ক সহ অন্যান্য কোনও কারণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কমে গেলে এই রোগের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

রোগ নির্ণয়
ভাইরাস সম্বন্ধে নির্দিষ্ট করে জানা বেশ কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। তাই সাধারণত নির্দিষ্ট করে ভাইরাস খোঁজার চেষ্টাও চালানো হয় না। এক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ দেখেই একটা আন্দাজ করা যায়। একান্ত প্রয়োজন হলে পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস সম্বন্ধে জেনে নেওয়া হয়।

চিকিৎসা
প্রথমেই বলি, অ্যাডিনো ভাইরাস খুব সাধারণ একটি ভাইরাস। এই রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই খুব সহজেই সেরে ওঠেন। তাই বেশি চিন্তা করার কিছুই নেই।
এই রোগের চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক। অর্থাৎ সমস্যা অনুযায়ী প্যারাসিটেমল থেকে অন্যান্য ওষুধ দিতে হয়। চিকিৎসকরা নজর রাখেন যাতে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন না হতে পারে। এখন অবশ্য এই রোগের একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বেরিয়েছে। তবে সেটার ব্যবহার এখনও সর্বত্র নয়।

রোগ প্রতিরোধে
 খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নেবেন।
 হাঁচি, কাশি, সর্দিতে রুমালের বদলে ন্যাপকিন ব্যবহার করা দরকার।
 সাঁতার কাটার জলে ক্লোরিন থাকতে হবে।
 বাড়িতে আক্রান্ত থাকলে তাঁকে আলদা রাখতে হবে। আক্রান্ত ও তাঁর সামনে আসা অন্যান্য ব্যক্তিদের মাস্ক পড়তে উচিত।

রেস্তোরাতে গিয়ে কি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সম্ভব ! আসুন জেনে নিই

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ   স্বাস্থ্য নিয়ে যারা খুব সচেতন তারা যদি রেস্তোরা বা হোটেলে খাবার খেতে যান তাহলে সেখানেও খেতে পারেন স্বাস্থ্যকর ক্ষাবার।আসুন যেন নিই সেগুলো কিভাবে সম্ভব।

ছাঁকা তেলে ভাজা খাবারের বদলে বেছে নিন গ্রিলড অপশন: যে কোনও রেস্তোঁরাই ফ্রায়েড খাবারের পাশাপাশি গ্রিলড অপশনও রাখে সাধারণত। ফ্রায়েড চিকেন উইংসের বদলে আপনি বেছে নিন গ্রিলড কিচেন বা ফিশ, তার সঙ্গে সাইড ডিশ হিসেবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই না রেখে রাখুন স্যালাড। রেড মিটের বদলে চিকেন, সি ফুড বা মাছ পছন্দ করলেও হবে।

খাওয়া শুরু করুন স্যুপ বা স্যালাড দিয়ে: এ কথা ঠিকই যে কোনও ফাস্ট ফুড জয়েন্টেই অজস্র স্যালাড বা স্যুপের অপশন থাকে না, কিন্তু এক-আধটা কিছু মেনু কার্ডে খুঁজে পাবেনই। শুরুতেই যদি খানিকটা স্যুপ বা স্যালাড খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেলেন, তা হলে ইচ্ছে থাকলেও খুব বেশি ভাজাভুজি খেতে পারবেন না।

সফট ড্রিঙ্ক নয়, পানীয় হিসেবে বেছে নিন জল: এ কথা ঠিকই যে বেশিরভাগ ফাস্ট ফুড জয়েন্টেই জলের চেয়ে সস্তায় সফট ড্রিঙ্ক কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু সেই প্রলোভনে পা না দিয়ে আপনি গলা ভেজানোর জন্য জলই বেছে নিন। খাওয়ার অন্তত দশ-পনেরো মিনিট আগে বেশ খানিকটা জল খেয়ে নিলে আপনার ডাইজেস্টিভ সিস্টেমও খুব ভালো কাজ করবে। ভাজাভুজি খেতে খেতে জল না খাওয়াই ভালো, তাতে কিন্তু অ্যাসিডিটি হওয়ার আশঙ্কাও বেশি হয়।

স্যান্ডউইচ বা বার্গারের ক্ষেত্রে বেছে নিন হোল হুইট বা মাল্টিগ্রেন ভ্যারাইটির পাউরুটি: সাদা ময়দার পাউরুটি নয়, মাল্টিগ্রেন, হোল হুইট বা যে কোনও হোল গ্রেন পাউরুটি বেছে নিন। সেই সঙ্গে গ্রিলড প্যাটি আর স্যালাড নিতে পারলে তো কথাই নেই।

ডেজ়ার্ট অর্ডার করার সময় একটু ভাবুন: আইসক্রিম বা ব্রাউনি চলতে পারে, কিন্তু যাঁরা দুর্দান্ত দেখতে টপিংসহ ডোনাটগোছের কোনও কিছু অর্ডার করার কথা ভাবছেন, তাঁরা সাবধান। ডোনাট প্রথম কথা সাদা ময়দায় তৈরি, তার পর ডিপ ফ্রাই করে তার উপর চিনি আর ক্রিমে ভরপুর টপিং লাগানো হয়। ফলে ক্যালোরি কাউন্টও অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

মারণ রোগে আক্রান্ত হতে না চাইলে প্রতিদিন খেতে হবে একটা করে কলা !

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ কলা খেতে হয়তো অনেকে ভালোবাসে, আবার অনেকে পছন্দ করে না। কিন্তু আজকের এই আলোচনা থেকে পরিস্কার এই বোঝা যাবে যে কলা খাবার উপকারিতা কি কি।যারা সুস্থ ভাবে বেশ কিছুদিন বাচতে চান তারা নিয়মিত কলা খাবার অভ্যাস করুন। ফল পাবেন হাতে নাতে।গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ব্লাড প্রেসারের মতো রোগের প্রকোপ চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ৮ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন ব্লাড প্রেসারের রোগী। আর সবথেকে ভয়ের বিষয় হল উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগরই বয়স ৪৫ এর নিচে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক ভারতীয়েরই যে প্রতিদিন একটা করে কলা খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আসলে এই ফলটির অন্দরে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পটাসিয়াম, যা শরীরে প্রবেশ করার পর সোডিয়ামের প্রভাবকে কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। তাছারাও আরো বহু রোগকে আমরা দূরে রাখতে পারি, আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কি কি-

হাড় শক্তপোক্ত হয়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কলা খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে অস্টিওআথ্রাইটিস মতো বোন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটে: একেবারেই ঠিক শুনেছেন বন্ধু! দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে বাস্তবিকই কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে কলাতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা কোনও ধরনের চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

 

সার্বিকভাবে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে: বছরের শেষেও অফিসে এমন কাজের চাপ যে ক্লান্তি ঘরির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে বাড়তে মাত্রা ছাড়িয়েছে? ফিকার নয়! এমন পরিস্থিতিতে একটা কলা খেয়ে নেবেন সব সময়। তাহলেই দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগবে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই কারণেই তো অ্যাথেলিটদের রোজের ডেয়েটে আর কিছু থাকুক না থাকুক কলা থাকেই!

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একাদিক যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। আসলে কলার খোসার অন্দরে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, কলার খোসায় থাকা উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিডও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন ক
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে কলার অন্দরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। তাই পুজোর পর থেকে যদি পেটটা ঠিক না যায়, তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।
স্ট্রেস কমে চোখে পরার মতো: বেশ কিছু গবেষণায দেখা গেছে রোজের ডায়েটে কলাকে জায়গা করে দিলে শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু আজকের যুবসমাজের সিংহভাগই যখন স্ট্রেস নামক সমস্যার শিকার, তখন নিয়মিত কলা খাওয়া প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কিন্তু কোনও সন্দেহ নেই!

পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে শরীরের। আর এইসব উপাদানের যোগান শরীর পায় খাবারের মাধ্যমে। সমস্যাটা হল আজকের প্রজন্ম এতটাই ব্যস্ত যে তাদের হাতে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করার সময় নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাঁধে শরীরে। এমন পরিস্থিতি কলা কিন্তু দারুন কাজে আসতে পারে। কিভাবে? এই ফলটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেল। সেই সঙ্গে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ফলেটের মতো উপাদান, যা শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এবার থেকে ঠিক সময় খাবার খাওয়া সুযোগ না পেলে ২-৪ টে কলা খেয়ে নিতে ভুলবেন না যেন!
টক্সিক উপাদানেরা সব বেরিয়ে যেতে শুরু করে: শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের ইতি-উতি উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে দেহের প্রতিটি অঙ্গকে চাঙ্গা রাখতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই ফলটির অন্দরে উপস্থিত প্রেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরের প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকর উপাদানদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে। ফলে রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়: কলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে লহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রন ট্য়াবলেটের পাশাপাশি যদি নিয়ম করে কলা খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার মিলতে পারে।

ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না: কলা খাওয়া মাত্র শরীরে কম-বেশি ৩ গ্রামের মতো ডায়াটারি ফাইবারের প্রবেশ ঘটে। যার প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না। এই কারণেই তো টাইপ ১ এবং ২, দু ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদেরই এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আর যদি এই মারণ রোগ থেকে দূরে রাখতে হয়, তাহলে কিন্তু নিয়মিত এই কলা খাওয়া মাস্ট!

 

রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসে আক্রান্ত ! খুঁজে নিন মুক্তির উপায়

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে, তাকে ধ্বংস করতে থাকে, তখনই এই সমস্যার সূত্রপাত হয়। কিন্তু ঠিক কী কারণে শরীর এভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। শরীরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত অ্যান্টিবডি এই সময় হাড়ের সংযোগস্থলে জমা হয়। এবং সেই সংযোগস্থল ঘিরে থাকা পেশিতন্তুকে আক্রমণ করে। ফলে ওই স্থানগুলোতে ব্যথা হয়। একেই চিকিৎসার পরিভাষায় রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস বলে।

১। ঠান্ডা-গরম অনেকেই মনে করেন, ঠান্ডা এবং গরম ট্রিটমেন্টই এই রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস সারানোর সেরা দাওয়াই। যদি ঠান্ডা ট্রিটমেন্ট করতে চান, তাহলে বরফের প্যাক নিতে পারেন। ব্যাথার জায়গায় এই প্যাক মিনিট ১৫ ধরে লাগান। এর চেয়ে বেশিক্ষণ না রাখাই ভালো। দু’বার আইস প্যাক ব্যবহারের মাঝে অন্তত আধ ঘণ্টার ব্যবধান রাখবেন। যদি ঠান্ডার বদলে গরম ট্রিটমেন্ট করতে চান, তাহলে সেঁক দিতে পারেন। হাড়ের সংযোগস্থলে উত্তাপের প্রয়োগে পেশির কিছুটা প্রসারণ হবে। এতে ব্যাথার নিরাময় হবে। মনে রাখবেন, কখনওই খুব বেশি গরম সেঁক দেবেন না। ততটা দেবেন, যতটা আপনার ত্বক সহ্য করতে পারে।

২। ম্যাগনেট বা চুম্বক বহু ওষুধের দোকানেই অস্টিওআর্থারাইটিসের জন্য ম্যাগনেটের প্লেট বা বেল্ট বিক্রি করা হয়। ম্যাগনেটের ব্রেসলেট, নেকলেসও পাওয়া যায়। অস্টিওআর্থারাইটিসের ক্ষেত্রে এই ম্যাগনেট দারুণ কাজে লাগলেও, রিউমাটয়েডের ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগে, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে ব্যাতার উপসম যে হয়, তা বলচে পরিসংখ্যান।

৩। আকুপাংচার চিনার এই প্রাচীন বিদ্যা রিউমাটয়েড আর্তারাইটিসের ব্যাথা কমাতে খুবই কার্যকরী। ব্যাথার জায়গায় বা প্রেসার পয়েন্টে সূচ ফুটিয়ে স্নায়ুকে শিথিল করা হয়। তাতে ব্যাতার উপসম হয়।
৪। অ্যারোমাথেরাপি সুগন্ধ সরাসরি শরীরের ব্যাথা কমাতে পারে না। কিন্তু মন ভালো করার ক্ষেত্রে সুগন্ধের বড় ভূমিকা আছে। মন ভালো থাকলে, ব্যাথার অনুভূতি কিছুটা হলেও কমে। তাই এসেনশিয়াল অয়েল বা অন্য সুগন্ধি তেল মাসাজের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে মন ভালো হয়, মুড ভালো হয়। কাটা জায়গায় এই তেল কোনওভাবেই লাগাবেন না।

রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস থাকলে যে কোনও মানুষের পক্ষেই নড়াচড়া অসম্ভব। কিন্তু এটা মোটেও ভালো কথা নয়। কারণ নড়াচড়া কমে গেলে এই ধরনের আর্থারাইটিস বাড়বে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু যোগাসন বা ব্যয়াম করতে হবে। তাতে ব্যাথার এলাকার পেশিতন্তুর ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বা রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস সম্পর্কে জানেন পেশাদারকে দিয়ে মাসাজ করাতে পারেন। তাতে এই ব্যাতার পরিমাণ কমে। মাসাজ থেরাপিস্টরা আপনার সমস্যা বুঝে এগোবেন।

বাজারে নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু তার কোনটা কতটা নিরাপদ আপনি জানেন না। বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই মেডিকেটেড সাপ্লিমেন্টের দিকে না এগিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে চিকিৎসা করতে পারেন। খাবারে কাঁচা হলুদের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। তাতে এই ব্যাতার পরিমাণ কমবে।

নার্ভাস ব্রেকডাউনের হাত থেকে মুক্তি পাবেন কিভাবে !

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রায় স্ট্রেস-এর পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপের পরিমাণ বাড়লে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার সংখ্যাও। আগে কোনও বড় কাজ করার আগে, পরীক্ষার্থিদের পরীক্ষা দিত যাওয়ার আগে, পেশার জগতে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা পারিবারিক-সামাজিক সংকটে এই মানসিক চাপ বিরাট আকার নিত। এং অনেকেরই এতে নার্ভাস ব্রেকডাউন হত। কিন্তু জীবনযাত্রার বদলের পর এখন এই নার্বাস ব্রেকডাউনের সংখ্যা মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে। এবং এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, এই সমস্যা অহরহ পড়তে হয় আমাদের।আসুন জেনে নিই এর কিছু সমাধান।

নিজের সাফল্যের সময়কার কথা ভাবুন। সেই সমস্ত ঘটনা বা পরীক্ষার কথা মনে করুন, যেগুলো আপনি সাফল্যের সঙ্গে পেরিয়ে এসেছেন। চেষ্টা করুন এমন কোনও ঘটনার কথা মনে করতে, যখন আপনি খুব আনন্দে ছিলেন।

গেম খেলুন প্রত্যেকের হাতেই এখন স্মার্টফোন। এবং তাতে কোনও না কোনও ভিডিও গেম রয়েছে। মানসিক চাপ খুব বেড়ে গেলে তেমনই কোনও একটা গেমে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। খুব ভালো হয় যদি কোনও স্পিড সংক্রান্ত খেলা (কার রেসিং ধরনের) খেলতে পারেন। চটজলদি নার্ভাস ব্রেকডাউনের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।


মোবাইল বা কমপিউটার থেকে ইন্টারনেট সার্চ করলে খুব সহজেই ফানি স্ট্রিমিং ভিডিও পেয়ে যাবেন। তেমনই কিছু দেখতে শুরু করুন। মানসিক চাপ বা নার্ভাস ব্রেকডাউন সামলাতে তাৎক্ষণিক কাজে লাগবে।

আত্ম-প্রেম কমান নিজেকে নিয়ে কী আপনি খুব গর্বিত? নিজের কাজ, নিজের চেহারা- এর কোনওটা নিয়ে কি আপনার গর্বের শেষ নেই? তাহলে এটা আপনার নার্ভাস ব্রেকডাউনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিজের ইমেজ বা ইগোর প্রতি অল্প আঘাত এলেই আপনি ভেঙে পড়তে পারেন। এই আত্ম-প্রেম বা গর্বের বোধটা এখটু কমাতে হবে। সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে উপকার পাবেন আপনি। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি অন্যের দ্বারা উপকৃত, সেটা লিখে রাখার অভ্যাস করুন। এতে এই গর্ববোধটা কমে।

শরীরের খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে। নিয়মিত যোগাসন বা তাই চি সাহায্য করে মন ভালো রাখতে। অবিলম্বে এর কোনও একটার সঙ্গে যুক্ত হন। নার্ভাস সিস্টেমের উপকার হবে। শরীর ফুরফুরে হবে। খুব অল্প চাপেই যাতে বেহে না পড়েন, শরীর তার জন্য নিজেকে তৈরি করে নেবে। আর এর পাশাপাশি লক্ষ্য রাখুন, যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান।

গরমে সুস্থ থাকতে কি কি খাবেন !

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  গরম প্রায় এসে গেছে বললেই চলে। মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা সম্পর্কে প্রতিটি মৌসুমে সজাগ দৃষ্টি রাখা একান্ত কর্তব্য। আর গ্রীষ্মের গরমে এ কর্তব্য আরো বেড়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রায় আমাদের খাবার গ্রহণের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমাদের পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে যে, কোন খাবার গরমে খাদ্য তালিকা থেকে কমিয়ে দিতে হবে অথবা কোন খাবার একেবারেই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

 

প্রচণ্ড গরম আর তাপদাহে, অনবরত ঘামের কারণে আমাদের শরীরে জল শূন্যতা দেখা দেয়। আর জলশূন্যতার কারণে দেখা দেয় নানা রকম স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তাই গরমে সুস্থ থাকতে এবং স্বস্তিতে থাকতে খাবার তালিকায় কিছু খাবার যোগ করা যেতে পারে। যেমন, মৌসুমী ফলমূল, ডাবের জল, শসা, দই, লেবুর সরবত ইত্যাদি। গরমের কারণে খুব দ্রুত রান্না করা খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং খাবার খাওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যাতে খাবারটা নষ্ট না হয়।

সকালের খাবারঃ  সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে জল পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে উত্তম। এই মৌসুমে প্রচুর ফলমূল পাওয়া যায়, যেমন আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু।খাবারে রাখুন কলা চিড়ে, আম চিড়ে, দই চিড়ে। গরমের সময় দই অনেক স্বস্তিদায়ক। তাছাড়া  ঠাণ্ডা দুধও খাওয়া যেতে পারে।

দুপুরের খাবারঃ গরমের সময় যতটা সম্ভব ভারী এবং তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। খুব সহজে হজম হয় এই রকম খাবার খাওয়া উচিৎ। মোটা এবং তেলযুক্ত মাংস, বিরিয়ানি, এবং ভাজাপোড়া খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। দুপুরের খাবারে ভাতের সাথে শাকসবজি, ছোট মাছ, মুরগীর মাংস, এবং সালাদ খাওয়া যেতে পারে। কম তেলে খাবার খেয়ে আপনি সুস্থ বোধ করবেন, হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।

রাতের খাবারঃ রাতে খাবার খাওয়ার পরে যেহেতু আমাদের আর তেমন কায়িক পরিশ্রম হয় না সেহেতু রাতের বেলাও হালকা খাবার খাওয়া উচিৎ। গরমের সময় রাতের খাবার নির্বাচন করার সময় অবশ্যই যেসব খাবারে জলীয় উপাদান বেশি সেই সব খাবার নির্বাচন করা উচিত। ভাত, রুটি, মাছ, ডাল, সবজি আর সালাদ হতে পারে গরমের দিনে রাতের উপযুক্ত খাবার তালিকা। বিরিয়ানি বা ফাস্ট ফুড না খেয়ে সালাদ এবং মৌসুমী ফল বেশি করে খেতে হবে।