নিয়ন্ত্রিত প্রাতরাশে রক্তে কমবে চিনি

খোঁজখবর, ওয়েবডেস্ক:  যাদের টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে, তাদের দেখা যায় হাই ব্লাড সুগার বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া। বেশি পরিমাণে চিনি বা শর্করা খেয়ে ফেলা, ইনসুলিন নিতে ভুলে যাওয়া এমনকি অসুস্থ বা স্ট্রেসে থাকলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।

কারণ যেটাই হোক না কেন, সবাই জানেন যে হাই ব্লাড সুগার যথেষ্ট ক্ষতিকর। এর লক্ষণ হলো, প্রচণ্ড পিপাসা, বারবার মুত্রত্যাগের প্রবণতা ও ক্লান্তি। হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে এ থেকে ভয়াবহ একটি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে যাকে বলে কিটোঅ্যাসিডোসিস।

ইনসুলিনের অভাব খাবার দিয়ে মেটানো যাবে না। তাই আপনার ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খেতে হবে নিয়মিত

 

 

১) কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট খান

বেশি পরিমাণে ময়দা ও সাদা আটা খাওয়া হতে বিরত থাকুন।  খেতে পারেন হোল গ্রেইন যেমন স্টিল কাট ওটস, লাল আটার রুটি, হোল হুইট ব্রেড, মাল্টিগ্রেইন ব্রেড ইত্যাদি। এগুলো হজম হতে সময় বেশি লাগে ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ব্রেকফাস্টের আগে ব্যায়াম করবেন না

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যায়াম করাটা জরুরি। ব্যায়াম করলে সুগার কমে আসে এবং ব্যায়ামের পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীর সহজে ইনসুলিন গ্রহণ করতে পারে। তবে অনেকের ব্লাড সুগার দ্রুত কমে যায় ব্যায়ামের পরে। সেক্ষেত্রে ব্যায়ামের আগে ব্রেকফাস্ট করে নিলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সঠিক ফ্যাট খান

ডায়াবেটিস রোগীদের হাই কোলেস্টেরলে ঝুঁকি বেশি থাকে। ডায়াবেটিস হলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল কমে ও খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে, ফলে হৃদরোগ এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। ভালো ফ্যাট যেমন অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল বা সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ খাওয়াটা এক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। এ ধরনের ফ্যাট খাওয়া হলে সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 

ফাইবার বেশি খান

ফাইবার বেশি করে খাওয়াটা যে কোনো মানুষের জন্যই দরকারি, কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে ফাইবার খাওয়ার বিষয়ে আরও মনযোগী হওয়া উচিত। ফাইবার ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।  এই উপকার পেটে দিনে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত ফাইবার খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা। খেতে পারেন হোল-গ্রেইন ওটস, শীম, আপেল, কমলা ও মিষ্টি আলু।

ফল বাদ দেবেন না (কিন্তু স্মুদি বাদ দিন)

ফল মিষ্টি হয় বলে ডায়াবেটিস রোগীরা ফল খেতে ভয় পান। কিন্তু ফলে থাকা চিনি খুব একটা ক্ষতি করে না। এমনকি প্রতিদিন ব্লুবেরি খাওয়াটা বরং ডায়াবেটিস কমাতে কাজে আসে। তবে ফল আস্ত খেতে হবে, জুস বা স্মুদি আকারে নয়। স্মুদি ও জুসে বরং ব্লাড সুগার বাড়তে পারে।  সকালের নাস্তায় যদি জুস খেতেই চান তাহলে এর পাশাপাশি ডিম খেতে পারেন।

দারুচিনি খান

ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ানোর মাধ্যমে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে দারুচিনি। এমনকি তা কোলেস্টেরল কমাতেও ভুমিকা রাখতে পারে। তাই কফি বা ওটসের সাথে দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে খেতে পারেন।