ফর্সা হতে চাইছেন সাবধান ! আশঙ্খা নতুন চর্মরোগের

    0
    359

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  গায়ের রঙ কালো মানে তার ত্বকে ‘মেলানিন’ নামে রঞ্জক পদার্থ, যা ত্বকের বর্ণ নির্ধারণ করে—তা কিছু বেশি রয়েছে। আর এই ‘মেলানিন’ পৃথিবীর সমস্ত রৌদ্রপ্লাবিত অঞ্চলের মানুষের ত্বকে স্বাভাবিক সুরক্ষা আবরণের কাজ করে। যে কারণে কালো ত্বকের মানুষের শ্বেতাঙ্গদের চাইতে ত্বকের ক্যানসারের প্রবণতা অনেক কম।ভারতে কালো-ফর্সার সমীকরণ গোলমেলে। আসলে সর্বকালে, সর্বদেশেই মানব সমাজে ক্ষমতার নির্ণায়ক বা শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় হিসেবে কোনও একটা ‘চিহ্ন’ (ফ্যাক্টর) খোঁজা হয়। ভারতে আর্য-দ্রাবিড় মিশ্র সভ্যতার দখলদারির সময় থেকেই সম্ভবত বর্ণবৈষম্যের বীজ রোপিত হয়েছিল। তবু মহাকাব্যে কৃষ্ণবর্ণা দ্রৌপদীকে নায়িকা বানাতে ব্যাসদেব দ্বিধাবোধ করেননি। ভারতের উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে বার বার বিদেশি আক্রমণ ও উপনিবেশ স্থাপনের ফলে নিঃশব্দে ভারতীয়দের একাংশের বংশলতিকায় একটা বর্ণসঙ্কর তৈরির প্রক্রিয়া ঘটেছে বহু বছর ধরে। তারই পিছুপিছু এসেছে ‘ফর্সা মানে সুন্দর’ আর ‘কালো মানে অসুন্দর’—এমন আজব ধারণা। অথচ, কালো হয়ে জন্মানোর ‘অপরাধবোধ’ থেকে মুক্তি পেতে যে আত্মপ্রত্যয়ের প্রয়োজন  সে শিক্ষা কোনও স্কুলে তো নয়ই, বেশিরভাগ পরিবারেও দেওয়া হয় না। তার উপরে ‘হা-রে-রে’ রবে তেড়ে এসেছে অজস্র  বিজ্ঞাপন, যা  সারাদিন ধরে হাতুড়ি ঠুকে ঠুকে তাদের সংস্থার লাভজনক কথাগুলো জনতার মস্তিষ্কে পাকাপাকি ভাবে  পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—অমুক ক্রিম, তমুক সাবান না মাখলে ফর্সা হওয়া যাবে না। অথচ, বাজারে ফর্সা হবার ক্রিম বলে যা বিকোচ্ছে, তার মধ্যে থাকে কিছু অজানা রাসায়নিক, ‘ব্লিচিং এজেন্ট’, কিছু ভেষজ—যেগুলো ব্যবহার করলে ত্বক সাময়িক ভাবে কখনও উজ্জ্বল হয়, কখনও হয় না।

    LEAVE A REPLY