পঞ্চায়েতের আগে জেনে নিন কি উন্নয়ন হল উত্তর ২৪ পরগনায়

    0
    43

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ   রাজ্য ও অন্যান্য জেলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণঃ

    • এই জেলার বনগাঁ ও বসিরহাটে গড়ে উঠেছে ২টি নতুন মাল্টি-সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
    • সাগর দত্ত, ভাটপাড়া, বরানগর, হাবড়া, পানিহাটি, বারাসাত, বসিরহাট, বনগাঁ, ব্যারাকপুর, নৈহাটী, সল্টলেক, অশোকনগর এবং খড়দহ বলরাম সেবামন্দির হাসপাতালে ১৩টি ন্যায্য মূল্যের দোকান থেকে ওষুধ কেনার ফলে, ৪৩ লক্ষ ৬১ হাজারেরও বেশী মানুষ, ৮২ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকারও বেশী ছাড় পেয়েছেন।
    • সাগর দত্ত, বারাসাত, ব্যারাকপুর ও বসিরহাট হাসপাতালে ৮টি ন্যায্য মূল্যের ডায়াগ্নিস্টিক পরিষেবা চালু হয়ে গেছে।
    • এই জেলায় ২৩টি SNSU চালু হয়ে গেছে (বি এন বোস, বরানগর, পানিহাটি, সল্টলেক, বাদুড়িয়া, টাকী, বাগদা, মধ্যমগ্রাম, মিনাখা, সারাপোল, শ্রীবলরাম, যে আর ধর, বারাসাত, হাবড়া, নৈহাটী, সন্দেশখালি, অশোকনগর, ভাটপাড়া, আমডাঙা, হারোয়া, ঘোষপুর, সেডেলেরবিল, ধান্যকুড়িয়া হাসপাতাল)।
    • সাগর দত্ত, বারাসাত, বনগাঁ, বসিরহাট, বি এন বোস এবং হাবড়া হাসপাতালে ৬টি SNSU চালু হয়েছে।
    • সাগর দত্ত, বারাসাত, বনগাঁ, বসিরহাট হাসপাতালে ৪টি CCU/HDU চালু হয়ে গেছে।
    • বারাসাত হাসপাতালে একটি জি.এন.এম প্রশিক্ষণ স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে। আমডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালকে ৬০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
    • ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে এই জেলায় প্রায় ৩ লক্ষ ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নথিভুক্ত হয়েছেন।
    • ‘শিশু সাথী’ প্রকল্পে এই জেলার ৯০০টিরও বেশি বাচ্চার সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

    শিক্ষাঃ

    এই জেলায় গড়ে উঠেছে ৭টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

    ·         অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)

    ·         টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)

    ·         অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)

    ·         জে আই এস ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)

    ·         ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (প্রাইভেট)

    ·         ব্রেনওয়্যার ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)

    ·         সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)

    আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যা শীঘ্রই গড়ে উঠবে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি (প্রাইভেট)।

    এই জেলায় ২টি নতুন সরকারি কলেজ গড়ে তোলা হয়েছে (পি আর ঠাকুর গভঃ কলেজ, ঠাকুরনগর, গাইঘাটা এবং ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম গভঃ কলেজ, নিউ টাউন, রাজারহাট)।

    রাজারহাটের নিউ টাউনে প্রায় ২৩৬কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন।

    যুব সমাজের চরিত্র গঠন ও মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে রাজারহাটে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে, স্বামীজির স্মৃতি বিজড়িত শিকাগো আর্ট ইন্সটিটিউটের আদলে, রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টার ফোর হিউম্যান এক্সসেলেন্স অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস – ‘বিবেক তীর্থ’ – গড়ে তোলা হচ্ছে।

    গাইঘাটা, বাগদা, হারোয়া, হালিশহর, বারাসাত-১, হিঙ্গলগঞ্জ, আমডাঙ্গাতে ৯টি নতুন আই.তি.আই কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

    গাইঘাটা, ব্যারাকপুর এবং আদ্যাপীঠে ৩টি নতুন পলিটেকনিক কলেজ গড়ে তোলা হচ্ছে।

    ‘উৎকর্ষ বাংলা’ কর্মসূচীতে, জেলার ২২ হাজারেরও বেশী যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    এই জেলায়, ৫ লক্ষ ৯৪ হাজারেরও বেশী ছাত্র-ছাত্রীকে ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পে সাইকেল প্রদান করা হয়েছে।

    জেলায়, গত সাড়ে ৬ বছরে, প্রায় ১৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।

    সব স্কুলে মিড-ডে-মিল চলছে, যার ফলে পুষ্টি এবং উপস্থিতির হার বেড়েছে এবং স্কুল-ছুট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমেছে।

    প্রায় সব বিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের জন্যে পৃথক শৌচাগার নির্মিত হয়েছে।

    ভূমি সংস্কার, কৃষি ও পশুপালনঃ

    • জেলার সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশী যোগ্য ভূমিহীন পরিবারের হাতে ‘নিজ গৃহ নিজ ভূমি’ প্রকল্পে পাট্টা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৯ হাজারেরও বেশী কৃষি ও বনাধিকার পাট্টা প্রদান করা হয়েছে।
    • এই জেলায় প্রায় ৯৪% কৃষক পরিবারকে কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বাকিদেরও খুব দ্রুত কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
    • এই জেলার হাবড়া, বাগদা, মিনাখা, হিঙ্গলগঞ্জ, ব্যারাকপুর, গাইঘাটা, বসিরহাট-২, দেগঙ্গা ও বনগাঁতে ৯টি ‘কিষাণ মান্ডি’ গড়ে তোলা হয়েছে।
    • জেলায় প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর, ১৯ লক্ষ ৩১ হাজারেরও বেশী হাঁস ও মুরগীর বাচ্চা বিতরণ করেছে।

    পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নঃ

    • এই জেলায় ১০০ দিনের কাজে, ১৭৬২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লক্ষ শ্রম দিবস সৃষ্টি হয়েছে।
    • জেলার প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ গ্রামীণ আবাসন যোজনায় উপকৃত হয়েছেন।
    • এই জেলার আরও প্রায় ৪৭ হাজার ২৭৭ জন উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরীর সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
    • জেলায় গ্রামীণ সড়ক যোজনায় প্রায় ৯৪০ কিমি রাস্তা নির্মাণ হয়েছে।
    • এই জেলায় আরও প্রায় ৯৯০ কিমি রাস্তা নির্মাণ/সংস্কারের সূচনা করা হয়েছে।
    • ‘সমব্যাথী’ প্রকল্পে জেলার প্রায় ১৪ হাজার জন উপকৃত হয়েছে।
    • উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ‘নির্মল জেলা’। জেলায় ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে, প্রায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে – যা লক্ষ্যমাত্রার ১০০%।

    সংখ্যালঘু উন্নয়নঃ

    • বিগত সাড়ে ৬ বছরে, এই জেলায়  প্রায় ৯ লক্ষ ১৬ হাজার সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীকে, প্রায় ২০৭ কোটী টাকা স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
    • এছাড়া, স্বনির্ভরতার জন্য প্রায় ৪৩ হাজার সংখ্যালঘু যুবক-যুবতীদের৫, প্রায় ৬১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।
    • বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। নিউ টাউনে প্রায় ২০ একর জায়গায় প্রায় ২৫৭ কোটি ব্যয়ে গড়ে ওঠা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনে ইতিমধ্যেই পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজারহাট ক্যাম্পাসে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক হস্টেলও তৈরি করা হচ্ছে যার মোট খরচ ধরা হয়েছে-১১৫ কোটি টাকা। এই হস্টেলে ২১০০ ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
    • রাজারহাটে তৃতীয় হজ টাওয়ার কমপ্লেক্স মদিনা-তুল-হুজ্জাজ এর উদবোধন করা হয়েছে।মদিনা-তুল-হুজ্জাজ ১২ টোল বিশিষ্ট বাড়ী, যা ৫ একর জমির উপর প্রায় ১০০ কোটি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি হজ-পূণার্থী থাকতে পারবেন।হজ-পূণার্থীদের সুবিধার্থে বেসমেন্টে ১০০টিরও বেশি মোটর গাড়ী এবং ভবনে সামনে ২০ টি বাস পার্কিং-র ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে থাকছে এক-হাজার যনের একসঙ্গে জামাতের জন্যে নামাজ ঘর ১২০০ জনের জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সভাঘর।
    • কৈখালীতে গড়ে তোলা হয়েছে সংখ্যালঘু মহিলাদের নতুন হস্টেল- ঐক্যতান।
    • IMDP ও  MSDPতে, প্রায় ২০৫ কোটি টাকা ব্যয় করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রুপায়িত হয়েছে।
    • এই দুটি, প্রকল্প, জেলায় ৯৩০০টিরও বেশি হেল্‌থ সাব-সেন্টার, অতিরিক্ত শ্রেণী কক্ষ, অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র, বাসগৃহ ইত্যাদি গড়ে তোলা হয়েছে।
    • এই জেলায় ৪৬ টি ‘কর্মতীর্থ’ গড়ে তোলা হচ্ছে।

    অনগ্রসর কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন-

    • বিগত সাড়ে ৬ বছরে,এই জেলায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী ‘শিক্ষাশ্রী’ প্রকল্পে সহায়তা পেয়েছে।
    • জেলায় বিগত সাড়ে ৬ বছরে, ৬ লক্ষ ৮৯ হাজারেরও বেশি SC/ST/OBC Certificate প্রদান করা হয়েছে।

    নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ

    • এই জেলায়, ৪ লক্ষ ২৮ হাজারেরও বেশি ছাত্রী ‘কণ্যাশ্রী’র আওতায় এসেছে।
    • জেলায় ‘কণ্যাশ্রী’ মেয়েদের সঙ্ঘ গঠনের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে;
    • কারিগরী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পড়াশুনার সাথে সাথে তাদের স্বনির্ভর করা হচ্ছে। মাসে ৫০০-১০০০ টাকা উপার্জনের মাধ্যমে তারা স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
    • ক্যারাটে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে পড়াশুনার সাথে সাথে তাদের আত্মরক্ষা অনুশীলনে সাহায্য করা হচ্ছে।
    • সঙ্ঘ গঠনের মাধ্যমে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচী- ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্প

    • এই জেলার ১০০% যোগ্য মানুষকে (প্রায় ৭৮ লক্ষ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষকে), ২ টাকা কেজি দরে (অথবা বাজার দরের অর্দেক দামে) খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে।
    • জেলায় খাদ্য শস্যের গুদাম ক্ষমতা প্রচুর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১১ সালের আগে মাত্র ২৬৫০ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে আজ প্রায় ৪৪ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে।

    শিল্প

    • জেলায় ১টি Industrial Park তৈরি করা হয়েছে (ঋষি বঙ্কিম শিল্পোদ্যান, নৈহাটী)
    • জেলায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের ২১ টি ক্লাস্টার গড়ে উঠেছে।

    এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

    ·        ১৬ টি MSME ক্লাস্টার

    ·        ৫টি Khadi ক্লাস্টার

    • নিউটাউনে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ‘বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার’।
    • অশোকনগরে ১ টি শিল্প তালুক (Industrial Hub) গড়ে তোলা হয়েছে।
    • তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে, ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সিলিকন ভ্যালী’র আদলে রাজারহাটে ‘সিলিকন ভ্যালী এশিয়া’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
    • রাজারহাটে ITC Information Technology Park and Green Centre গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে থাকছে ২টি আই.টি. টাওয়ার, ১ টি আই.টি. নলেজ সেন্টার, ২টি অফিস বিল্ডিং, ১৪০টি রুমের একটি হোটেল ও বাসস্থানের ব্যবস্থা।৫ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে এখানে। প্রকল্পটি ২০১৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
    • বসিরহাটে গড়ে তোলা হচ্ছে ১টি ‘মিষ্টি হাব’।
    • হাবড়ার জয়গাছিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ১টি টেক্সটাইল হাব।
    • অশোকনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে  ১টি মেগা পাওয়ারলুম ক্লাস্টার।
    • ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে এই জেলায় ৮৯৭৮ টাকারও বেশি ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

    পূর্ত ও পরিবহন

    • বিগত সাড়ে ৬ বছরে,এই জেলায় পূর্ত দপ্তর ৪৪১ টিরও বেশি রাস্তাঘাট, ব্রীজ ইত্যাদি প্রকল্প রূপায়ণের কাজ হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে ২৮৮ টিরও বেশি প্রকল্পের কাজ প্রায় ১৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। এর ফলে, প্রচুর মানুষ উপকৃত হবেন। বাকী প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই সমাপ্ত হবে।
    • হাসনাবাদের কাঁটাখালিতে ‘বনবিবি সেতু’ গড়ে তোলা হয়েছে। সুন্দরবন অঞ্চলের হাসনাবাদ ও হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন এনেছে এই সেতু।
    • মুড়িঘাটা ফেরিঘাটে ইছামতী নদীর ওপর সেতু গড়ে তোলা হয়েছে।
    • ভিআইপি রোড (কাজী নজরুল ইসলাম সরণি)-এর ওপর ৪-লেন উড়ালপুল (কেষ্টপুর থেকে জোড়া মন্দির) গড়ে তোলা হয়েছে।
    • জেলার সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।জেলায় বিগত সাড়ে ৬ বছরে, প্রায় ১৩৫০ কিমি রাস্তা নির্মাণ/পুননির্মান/সম্প্রসারণ ও উন্নতিকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
    • ‘বৈতরনী’ প্রকল্পে, ২৩ টি শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন সহ ১টি বিদ্যুতের চুল্লি বসানোর কাজ চলছে।এই জেলায় প্রায় ৯২৫ জন যুবক যুবতী গাড়ি কেনার ঋণ পেয়ে আত্মনির্ভর হয়ছেন।
    • হাতে নেওয়া হয়েছে Safe Drive save Life এবং Slow Drive Save Life কর্মসূচি। ফলে, উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে দুর্ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা।

    বিদ্যু ও অচিরাচরিত শক্তিঃ

    • সমগ্র জেলায় ‘সবার ঘরে আলো’ প্রকল্পে, ১০০% গ্রামীণ বৈদ্যুতিকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
    • সল্টলেকে ১৩২ কে.ভি. গ্যাস ইনসুলেটেড সাব-স্টেশন চালু হয়েছে।
    • জিরাট সাব-স্টেশনে ৪০০/২২০ কে.ভি. ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে।

    সেচঃ

    • জেলায় প্রায় ১৫৫ কিমি দৈর্ঘ্যের বাঁধ সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
    • জলপথ পরিবহনকে আরও উন্নত করতে দক্ষিণেশ্বরের ৩টি নদী ঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার করা হচ্ছে।

    জনস্বাস্থ্য কারিগরীঃ

    • বিগত সাড়ে ৬ বছরে, ২২টি জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এর ফলে জেলার প্রচুর মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। বাকি জলপ্রকল্পগুলির কাজ শীঘ্রই সমাপ্ত হবে।
    • মধ্যমগ্রাম-ব্যারাকপুর-বারাসাত জল সরবরাহ প্রকল্প – ‘জলোচ্ছ্বাস’ গড়ে তোলা হয়েছে।
    • নিউটাউন ও তার সংলগ্ন এলাকার জন্যে একটি surface water based জল প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
    • হাবড়া-গাইঘাটা (‘জলতৃপ্তি’) ও হাবড়া-চাকলা জল প্রকল্পের কাজ চলছে।

    বন ও পর্যটনঃ

    • ‘সবুজশ্রী’ প্রকল্পে, ১ লক্ষ ১ হাজারেরও বেশি সদ্যজাত শিশুকে মূল্যবান গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। ১৮ বছর উত্তীর্ন হলে, গাছ বিক্রির টাকায় শিশুটির পড়াশোনা, বিয়ে ইত্যাদির খরচ মেটানো যাবে।
    • ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের স্মৃতিতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘উৎস্যধারা’ পর্যটন প্রকল্প।
    • দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি ‘স্কাই ওয়াক’।
    • নিউটাউনে গড়ে তোলা হয়েছে ইকো পার্ক – ‘প্রকৃতি তীর্থ’।
    • নিউটাউনে গড়ে তোলা হয়েছে ‘নজরুল তীর্থ’, মাদার্স ওয়াক্স মিউজিয়াম, কলকাতা গেট প্রভৃতি।
    • ইছামতীর ওপর গড়ে তোলা হয়েছে একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ।
    • মালঞ্চ ট্যুরিস্ট লজের সংস্কার করা হয়েছে।

    শ্রমঃ

    • এই জেলায় ‘সামাজিক সুরক্ষা যোজনা’ য় প্রায় ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক নথিভুক্ত হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত, প্রায় ১ লক্ষ ১ হাজার উপভোক্তা, ৪৭ কোটি টাকারও বেশি সহায়তা পেয়েছেন।
    • ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে, এই জেলার প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার যুবক-যুবতী উতসাহ ভাতা পাচ্ছেন।

    স্বনির্ভর দল ও স্বনিযুক্তি কর্মসূচীঃ

    • ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পে, প্রায় ৩৫ হাজার স্বনির্ভর দল গঠিত হয়েছে।
    • বিগত সাড়ে ৬ বছরে, ‘স্বামী বিবেকানন্দ স্বনির্ভর কর্মসূচী প্রকল্পে’, প্রায় ১৪ হাজার উদ্যোগকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৬৫ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

    পুর ও নগরোন্নয়নঃ

    • জেলায় ২৬টি মিউনিসিপ্যালিটি, ১০৮৫ কোটি টাকারও বেশি পরিকল্পনা খাতে ব্যয় করেছে।
    • শহরাঞ্চলে গরীবদের জন্য বাসস্থান প্রকল্পে, প্রায় ৪৩ হাজার ৬৭০ জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

    তথ্য ও সংস্কৃতিঃ

    • এই জেলায় ৯ হাজারেরও বেশি লোকশিল্পী, ‘লোকপ্রসার প্রকল্পে’ রিটেনার ফি ও পেনশন পাচ্ছেন।
    • খড়দহ ও বারাসাতে রবীন্দ্রভবনকে নবরূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

    আবাসনঃ

    • জেলায় আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য গীতাঞ্জলী ও অন্যান্য প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
    • ভ্রমনার্থীদের সুবিধা এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বেড়াচাঁপা, বনগাঁ, স্বরূপনগর, মালঞ্চ, বসিরহাট, গাইঘাটা, পেট্রোপোল এবং অশোকনগরে ৮টি ‘পথসাথী’ – মোটেল গড়ে তোলা হয়েছে।

    ক্রীড়া ও যুব কল্যাণঃ

    • ক্রীড়ার মান উন্নয়নে জেলায় ২১০০টিরও বেশি ক্লাবকে ৭৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সাহায্য করা হয়েছে।
    • জেলায় প্রায় ২৪৮টি মাল্টি জিম ও ২৫টি মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম, প্রায় ১০ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে।
    • নবরূপে সজ্জিত বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম। এখানে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফিফা অনুর্দ্ধ-১৭ বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ। একই স্থানে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল সহ আন্তর্জাতিক মানের ১১টি ম্যাচ আয়জনের নজির ক্রীড়া ইতিহাসে অভূতপূর্ব।
    • AIFF এর সহযোগিতায়, রাজারহাটে গড়ে তোলা হচ্ছে ফুটবলের National Centre of Excellence.
    • বারাসাত স্টেডিয়ামের উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
    • নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘সুন্দরবন কাপ’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

    সুন্দরবন উন্নয়নঃ

    • সুন্দরবনের মানুষের জীবন ও জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সুন্দরিণী’ নামে একটি সর্বাঙ্গীণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
    • এর অন্তর্গত, স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির উন্নয়ন। উন্মুক্ত শৌচবিহীন (Open Defecation Free) সুন্দরবন গঠন, পর্যটনের বিকাশ এবং সুন্দরবনের স্থানীয় পণ্যের branding & packingএর সমন্বিত প্রয়াস করা হচ্ছে।

    আইন শৃঙ্খলাঃ

    • এই জেলায়, বসিরহাট অঞ্চলকে নিয়ে নতুন জেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    • নতুন বিধাননগর ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট গঠন করা হয়েছে।
    • নতুন বারাসাত ও বসিরহাট পুলিশ জেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    • স্থাপন  করা হয়েছে নতুন মধ্যমগ্রাম, দত্তপুকুর, শাসন ও নিউ ব্যারাকপুর থানা এবং বিধাননগর, ব্যারাকপুর ও বারাসাত মহিলা থানা।

    LEAVE A REPLY