লোকসভায় ফের পাশ হল তিন তালাক বিল

    0
    256

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  আগে আরও একবার লোকসভায় পাশ হয়েছিল তিন তালাক বিল। কিন্তু আটকে যায় উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। বিলের একাধিক জায়গায় আপত্তি ছিল বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের। তিন তালাক দিলে তিন বছরের কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছিল, সেটা নিয়ে আপত্তি তোলেন অনেকে। তাদের যুক্তি ছিল, স্বামীর কারাদণ্ড হলে সাবেক স্ত্রীকে ভরণপোষণ কীভাবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জামিনের সংস্থান রাখারও দাবি জানায় একাধিক দল। এক বছর আগে পাশ হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও আইনে পরিণত করতে না পেরে পুরনো বিলে কিছু সংশোধন করে নতুন করে বৃহস্পতিবার লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ হল ‘তিন তালাক বিল।’ যার পোশাকি নাম ‘দ্য মুসলিম উম্যান (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) বিল ২০১৮।’ মুসলিম মহিলাদের বৈবাহিক নিরাপত্তার অধিকারের প্রশ্নে মোদি সরকারের আনা বিলটি নিয়ে কারও কোনও বিরোধ না থাকলেও তাৎক্ষণিক তিন তালাক উচ্চারণে বিচ্ছেদের বিষয়টিকে ক্রিমিনাল অপরাধের তকমা লাগানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছে প্রায় সব বিরোধী দল। । প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর লোকসভায় তিন তালাক বিল পাশ হয়ে গেলেও রাজ্যসভায় তা আটকে গিয়েছিল। বিলটিকে আইনি রূপ দিতে মরিয়া মোদি সরকার মুসলিম মহিলাদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে গত সেপ্টেম্বর মাসে তিন তালাক নিয়ে অর্ডিন্যান্স আনে। নিয়ম হল অর্ডিন্যান্স জারির ছ’ মাসের মধ্যে তা সংসদে বিল আকারে পেশ এবং পাশ করাতে হয়। সেই লক্ষ্যেই আজ ফের লোকসভায় সরকার তিন তালাক বিল নিয়ে আসে। দিনভর বিতর্কের পর লোকসভায় তা পাশও হয়ে যায়।
    ভোটে বিজেপির অন্যতম টার্গেট মুসলিম মহিলাদের সমর্থন আদায়। তারই লক্ষ্যে বিল এনেছিল সরকার। এবারও লোকসভা ভোটের আগে সেই লক্ষ্যেই এগতে মরিয়া মোদি সরকার। সেই মতো সংখ্যার জোরে লোকসভায় ভোটাভুটিতে জিতে বিল পাশ করে নেয় সরকার। বিলটি এবার রাজ্যসভায় আলোচনা এবং পাশের জন্য যাবে। রাজ্যসভায় বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই গতবারের মতো এবারও রাজ্যসভায় বিলটিকে আটকানোর পরিকল্পনা করতে বিরোধীরা এদিন স্ট্র্যাটেজি বৈঠকও করেন। বিরোধী জোটে মমতার দলকে পাশে পেতে তৃণমূলের সমর্থন চেয়ে কংগ্রেসের রাজ্যসভার এমপি আহমেদ প্যাটেল এবং লোকসভার এমপি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়ানের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন। পরে সংসদে গুলাম নবি আজাদের ঘরেও বিরোধীদের একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে ঠিক হয়েছে, লোকসভায় সংখ্যার জেরে সরকার বিল পাশ করিয়ে নিলেও রাজ্যসভায় কোনওভাবেই তা হতে দেওয়া যাবে না।

    LEAVE A REPLY