রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ঈফতার ও ঈদ মিলন অনুষ্ঠান

    0
    46

    সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যে ভারতের ভোটের বাজারে বিরাট শক্তি, তা ইদানীং ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। ভারতের শাসনক্ষমতায় এখন বিজেপি থাকলেও তারা যে আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী, তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে।মুসলিমদের মন জয় করতে মাঠে নেমেছে আরএসএস। তারাও চাইছে ভোটের বাক্সে সংখ্যালঘু মানুষের ভোট আসুক। কট্টরপন্থার মাঝেও তারা অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার আদর্শে বিশ্বাসী বলে প্রচারের চেষ্টা করছে।আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের মন পেতে মাঠে নেমেছে আরএসএস বা সংঘ পরিবার। এবারও তারা ইফতার ও ঈদ মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
    সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত আরএসএস ও বিজেপি সম্পর্কে সংখ্যালঘুদের নেতিবাচক ধারণা দূর করতেই তারা নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে তারা সংখ্যালঘুদের নিয়ে গড়েছে ‘মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ’ বা এমআরএম। আরএসএসের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এমআরএম এবার ইফতার পার্টি এবং ঈদ মিলন উৎসব পালনের নানা কর্মসূচি নিয়েছে; যদিও বিরোধীরা আরএসএসের এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক চমক হিসেবে উল্লেখ করেছে।এমআরএমের জাতীয় আহ্বায়ক হয়েছেন মহম্মদ আফজাল।  ১৯ জুন রাজধানী দিল্লিতে তাঁরা ঈদ মিলন উৎসবের আয়োজন করেছেন। এই উৎসবে তাঁরা মুসলিম নেতাদের পাশাপাশি আরএসএস নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিজেপি ও আরএসএস সম্পর্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ভুল ধারণা রয়েছে, তা দূর করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।এই ঘোষণার পর উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক রাজপাল কাশ্যপ বলেছেন, মুসলিমদের বোকা বানাতেই এ উদ্যোগ। কেন্দ্রে বিজেপি চার বছর ক্ষমতায় থাকলেও আদতে এরা মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য কোনো কাজই করেনি। আর রাজ্যে তারা ক্ষমতায় রয়েছে এক বছর। রাজ্যের চিত্রও পাল্টায়নি তারা।অন্যদিকে কংগ্রেসও দাবি করেছে, আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে এটা রাজনৈতিক চমক ছাড়া আর কিছু নয়। বিজেপি ও আরএসএস কী, তা মানুষ বুঝে গেছে। তাই সাধারণ মানুষ আর কোনোভাবে বিজেপি ও আরএসএসের ফাঁদে পা দেবে না।এমআরএমের জাতীয় আহ্বায়ক মহম্মদ আফজাল বলেছেন, ‘বিজেপি ও আরএসএস সম্পর্কে সংখ্যালঘুদের মনে যে ভুল ধারণা রয়েছে, তা দূর করতেই এই কর্মসূচি। একই সঙ্গে মুসলিমদের জন্য কী কাজ করেছি, তাও আমরা তুলে ধরতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছি। চলতি সপ্তাহে আমরা মিরাট ও পুনেতে ইফতার পার্টির আয়োজন করছি।’মহম্মদ আফজাল জানান, আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার এসব ইফতার পার্টিতে উপস্থিত থাকবেন। গত বছরও এমআরএম দেশের বিভিন্ন স্থানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছিল।মহম্মদ আফজাল আরও জানান, তাদের সংগঠন প্রতি মাসে দুই হাজার মুসলিম ছাত্রছাত্রীকে পড়াশোনার জন্য বৃত্তি দিয়ে আসছে। তা ছাড়া তালাকপ্রাপ্ত এক হাজার নারীকে প্রতি মাসে এক হাজার রুপি করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

    LEAVE A REPLY