সার্জিকাল স্ট্রাইকের বাহিনী গঠন -প্রস্তুতি তুঙ্গে

    0
    121

    খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ সার্জিকাল স্ট্রাইকের জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন করার জোর প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এরকমই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এরকমটাই চাইছেন বলে খবর। কারণ হিসাবে সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, কোনও একটি কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য যখন সার্জিকাল স্ট্রাইকের প্রয়োজন হয়, তখন অনেকটা সময় ব্যয় হয় শুধুমাত্র প্রস্তুতির জন্য। বিশেষ করে অভিযানকারী টিম গঠন করা এবং বাছাই পর্বে সিদ্ধান্তগ্রহণ তথা নীতি নির্ধারণের সময় যথেষ্ট দোলাচল তৈরি হয়। সেই কারণেই প্রয়োজনে এমন একটি টিম দরকার যেটি সর্বদাই তৈরি থাকবে। এবং সার্জিকাল স্ট্রাইকের মতো অপারেশন একমাত্র ওই বিশেষ ফোর্সের সদস্যরাই করবে। সেইমতোই এই ফোর্স বছরভর প্রশিক্ষিত হবে। ইজরায়েলের আইডিএফ বাহিনীর সঙ্গে যৗথ মহড়ার মাধ্যমেও প্রশিক্ষণ পর্ব চলবে। স্থির হয়েছে, বায়ুসেনার বিশেষ বাহিনী গরুড়, সেনাবাহিনীর বিশেষ ফোর্স পরশ, নৌসেনার বিশেষ বাহিনী মারকোসের থেকে বাছাই করা কমাণ্ডোদের নিয়ে এই স্পেশাল সার্জিকাল ফোর্স গঠন করা হবে। দুটি পৃথক টিম থাকবে। একটি ৯৬ সদস্যের প্ল্যানিং টিম। যারা গোটা অপারেশনের পরিকল্পনা স্থির করবে। আর ১১২ জনের একটি টিম হবে আসল ফোর্স। তারা অভিযানে যাবে বিভিন্ন বিভাগে বিভাজিত হয়ে।

    যদিও সার্জিকাল স্ট্রাইক যে কেবলমাত্র মোদি সরকারই করেছে এমন নয় বলেই দাবি করেছে কংগ্রেস। সম্প্রতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, সার্জিকাল স্ট্রাইক আগেও হয়েছে। কিন্তু সেইসব সরকার এভাবে বিজ্ঞাপন করেনি। কারণ এরকম অভিযানকে গোপন রাখাই নিয়ম। তাই সেনাবাহিনী সেইসব অভিযানে সাফল্য পেলেও গোটা অপারেশনকে গোপন রাখতে সমর্থ হয়েছিল। প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে যে সার্জিকাল স্ট্রাইক ভারতীয় সেনা করেছিল, সেখানে বাছাই করা হয়েছিল দুটি ইউনিটকে। উধমপুর স্পেশাল ফোর্সের নাইন এবং ফোর প্যারা। এছাড়া ১০ ডোগরা, ৬ বিহার এবং ১৯ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের জওয়ানদের নেওয়া হয়েছিল। ব্যাকআপ টিম হিসাবে। এই গোটা টিমকে নিয়ে তৈরি হয় ‘ঘাতক’ ফোর্স। ২৪ জন করে মোট চারটি টিম তৈরি হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মেন্ধার সেক্টরে রাতের অন্ধকারে ঢুকে পড়ে ভারতীয় এই কমাণ্ডোবাহিনী। বায়ুসেনার স্পেশাল চপার তাদের নামিয়ে দিয়েছিল। এভাবেই ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় সার্জিকাল স্ট্রাইক। উল্লেখ্য, উরি সেক্টরের ভারতীয় সেনার শিবিরে হামলা করে ১৯ জন জওয়ানকে হত্যা করে সন্ত্রাসবাদীরা। সেই ঘটনারই জবাব দিতে ওই সার্জিকাল স্ট্রাইক হয়। এবার সরকার চাইছে এভাবে বিভিন্ন ফোর্স থেকে বাছাই করে একটি সাময়িক বাহিনী গঠন না করে আগে থেকেই এমন এক ফোর্স গঠন করতে যা দ্রুত এবং কার্যকরী অ্যাকশন করবে। যে কোনও সেনা অভিযানে যেটি প্রধান লক্ষ্য। অর্থাৎ দ্রুত অ্যাকশন এবং শত্রুপক্ষের সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি। এই বিশেষ ফোর্স গঠনের উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে প্রস্তুতির সময় না দিয়ে তার মাটিতে ঢুকে অতর্কিতে চূড়ান্ত হামলা চালানো এবং শত্রু ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া।

    LEAVE A REPLY