‘অজিতেশ-রাও মানুষ’,বাবাকে আর্জি মেয়ের

খোঁজ-খবর,ওয়েবডেস্কঃ- রাজেশ বরেলীর বিঠারি চেনপুরের বিধায়ক। তাঁর মেয়ে, ২৩ বছর বয়সি সাক্ষী তথাকথিত দলিত পরিবারের ছেলে, ২৯ বছর বয়সি অজিতেশকে বিয়ে করেছেন প্রয়াগরাজে এক মন্দিরে, গত বৃহস্পতিবার। তার পর প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো। একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, গাড়িতে সাক্ষী-অজিতেশ পাশাপাশি বসে। সাক্ষী বলেন, ‘‘নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমার বাড়ির লোকজন সেটা মেনে নিতে পারছে না। গুন্ডা লাগিয়েছে। আমাদের রক্ষা করুন।’’ এর পরে অজিতেশ বলেন, ‘‘একটা হোটেলে উঠেছিলাম। প্রচুর লোক এসেছিল আমাদের মেরে ফেলবে বলে। (সাক্ষী পাশ থেকে জানান, তাদের মধ্যে তাঁর বাবার বন্ধুরা ছিল, এক জনের নাম রাজীব) ভাগ্য ভাল, সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাই। আমি দলিত পরিবারের ছেলে। তাই নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে এই সব করছে।’’
অন্য একটি ভিডিয়োয় সাক্ষীকে আরও জোর দিয়ে বলতে দেখা গিয়েছে, ‘‘বাবা, আমি সত্যিই বিয়ে করেছি। ফ্যাশন করে সিঁদুর পরিনি। দয়া করে মেনে নাও। অজিতেশের বাড়ির লোকজনকে ভয় দেখানো বন্ধ করো।’’ সাক্ষী ভিডিয়োয় এ-ও বলে রেখেছেন, তাঁদের কিছু হলে দায়ী থাকবে তাঁর বাবা, ভাই ও রাজীব রাণা। অন্য বিজেপি নেতারা যে বাবাকে সাহায্য করছেন, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘বাবা, অজিতেশরাও মানুষ, জানোয়ার নয়। নিজের চিন্তাভাবনা বদলাও!’’ বাবার উদ্দেশে মেয়ের এই ভিডিয়ো বার্তা দেখে তোলপাড় হয় দেশ। সেইসঙ্গে, নিরাপদে জীবন কাটানোর এমন আর্তি আরও একবার স্পষ্ট করে দেয় জাতপাতের ভেদাভেদের মারাত্মক ছবিটা।
রাজেশ(তাঁর বিরুদ্ধে আগেই চারটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা রয়েছে) অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তাঁর দাবি, ‘‘সব রাজনৈতিক চক্রান্ত। আমি বিয়ের বিরোধী নই। একটাই চিন্তা, ছেলেটি মেয়ের থেকে ৯ বছরেরও বেশি বড়। তেমন রোজগারও করে না। আমি চাই, ওরা বাড়ি ফিরে আসুক।’’