সবরীমালা, মন্দিরে এখনও পর্যন্ত ১০ জন মহিলার প্রবেশ !

খোঁজখবর ওয়েবডেস্ক ঃ  রবিবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্র চেহারা নিল কেরল। গত কয়েক দিন ধরেই সবরীমালা মন্দিরে একাধিক মহিলার প্রবেশের ঘটনায় দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সিপিএম এবং বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। গুরুতর জখম হন সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের দুই কর্মী। পালাক্কাড জেলায় এক সংঘর্ষে জখম হন আরএসএসের এক নেতা। কান্নুর জেলার থালাসেরি এলাকায় যুব মোর্চার কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ার অভিযোগও ওঠে। ছুরি নিয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ থেকে পাথর বৃষ্টি, বাদ যায়নি কিছুই। ভাঙচুর চলে একাধিক বাড়ি ও দোকানে। রবিবার সকালে ডিওয়াইএফআই ও আরএসএসের দু’টি অফিস লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে থালাসেরি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিসবাহিনী মোতায়েন করা হয়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন রাজ্যের পুলিস প্রধান লোকনাথ বেহেরা। গত তিনদিনের সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এছাড়াও কান্নুর জেলায় ১৬৯টি ও পালাক্কাড জেলায় ১৬৬টি মামলা দায়ের করেছে পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৯৮ জনকে। রাজ্যের এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য বিজেপি ও আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে কণক দুর্গা ও বিন্দু নামে দুই মহিলার সবরীমালা মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কেরল। সেই হিংসা এখনও অব্যাহত। তার মধ্যেই পুলিস সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মোট ১০ জন মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন। কেরল পুলিসের বিশেষ শাখার তরফে রেকর্ড করা একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা গিয়েছে, কণক দুর্গা ও বিন্দুর মন্দিরে প্রবেশের একদিন আগে, মালয়েশিয়ার তিনজন মহিলা সবরীমালায় প্রবেশ করেন। মোবাইলে তোলা ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শালে মুখ ঢেকে ওই তিন মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করেন। ২ জানুয়ারি রাতে বিন্দু ও কণক দুর্গার পরের দিন শ্রীলঙ্কার ৪৬ বছর বয়সি এক তামিল মহিলা মন্দিরে ঢুকে পুজো দেন। স্থানীয় কয়েকটি টিভি চ্যানেলে শশীকলা নামে ওই মহিলার পুজো দেওয়ার ভিডিও সম্প্রচারিত হয়। যদিও পরে মন্দিরে প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এছাড়াও চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত অন্তত আরও চারজন মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।