মাধ্যমিকে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুরের সৌগত

    0
    156

    তুহিন শুভ্র আগুয়ান; পূর্ব মেদিনীপুরঃ অন্যান্য বছরের ট্রেডিশানকে ধরে রেখে রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলির থেকে পাশের হারের দিক থেকে এবারও এগিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা।তবে এবার কোথাও যেন অন্যান্য জেলাকে টেক্কা দিয়ে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিল জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। রাজ্যে চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ছাত্র সৌগত দাস। সৌগত ভগবানপুর ১নং ব্লকের মহম্মদপুর দেশপ্রান বিদ্যাপীঠের ছাত্র। সৌগতর মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪।সে বাংলায় পেয়েছে ৯৭,ইংরেজিতে ৯৯,অঙ্কে ১০০,ভৌত বিজ্ঞানে ১০০,জীবন বিজ্ঞানে ৯৯,ইতিহাসে ৯৯ এবং ভূগোলে পেয়েছে ১০০। গত কয়েক বছরের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বোর্ডের ইতিহাসকে টেক্কা দিয়ে এবার সৌগত মোট নম্বর পেয়েছে ৯৯.১৪ শতাংশ। ভবিষ্যতে মেডিকেল লাইনে পড়তে চায় বলে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী সৌগত দাস। সৌগতর বাবা ভরত কুমার দাস পেশায় শিক্ষক এবং মা তৃপ্তি দাস নার্স। মাধ্যমিকে এইধরনের বিস্ময়কর নম্বর পেয়ে সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এখন নয়নের মনি সৌগত। মঙ্গলবার টেলিভিশনের পর্দায় এই ধরনের আশানুরূপ ফলের কথা জানতে পেরে আনন্দে আত্মহারা সৌগত। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে এইভাবে রাজ‍্যের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য মঙ্গলবার ফল প্রকাশের পর সৌগতকে ফোন করে অভিনন্দন জানান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও সৌগতর ফলের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই মঙ্গলবার সকালে পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায় সৌগতর বাড়ির চারিদিকে। দিনে মোট ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় পড়ার কাজে দিত সৌগত। এছাড়াও দিনের আর বাকি সময় মূলত ছবি থাকতেই ভালোবাসতো সে। আগামীদিনে এই অভাবনীয় আশানুরূপ সাফল্য ধরে রাখতে দৃঢ় বিশ্বাসী সৌগত।সৌগত জানান, “আমার এই ফলের পেছনে সম্পূর্ণভাবে  বাবা-মা,শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও বিশেষ প্রচেষ্টা রয়েছে। তাদের এই প্রচেষ্টাকে সাথি করেই আগামী দিনে এই অভাবনীয় আশানুরূপ ফল ধরে রাখার চেষ্টা করব।” শতাংশের বিচারে সৌগতর প্রাপ্ত নম্বর গত কয়েক বছরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বোর্ডের অধীনে তেমন কেউ পাননি।তাই সৌগতর এই নম্বরকে ঐতিহাসিক নম্বর বলে মত জেলার শিক্ষাবিদদের। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মামুদ হোসেন জানান, “গত কয়েকবছরের তুলনায় এবছর সৌগতর প্রাপ্ত নম্বর এক ঐতিহাসিক নম্বর।পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রত‍্যেকবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ধারাবাহিক শীর্ষস্হানে থাকার অন্যতম কারন হল শিক্ষক,অভিভাবক ও ছাত্রদের দায়বদ্ধতা, নিয়মানুবর্তিতা,পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষাকে রাজনীতির পঙ্কিল অাবর্ত থেকে সচেতনভাবে দূরে রাখা।সর্বোপরি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অাপমর মানুষ শিক্ষা,সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সুমহান ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতাই সাফল্যের চাকিকাঠি বলে মনে করেন।” বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী মোবাইল গেমের প্রতি আসক্ত। যার ফলে সামান‍্যতম হলেও পড়াশোনার কাজে বিঘ্ন ঘটে।তাই প্রথম থেকেই এইধরনের মোবাইলের গেমের থেকে নিজেকে দুরে রেখেছিল মাধ‍্যমিকে প্রথম স্হানাধিকারী সৌগত। তবে ভিডিও প্রেমের প্রতি সৌগতর আগ্রহ না থাকলেও গোয়েন্দা মূল্য গল্পের প্রতি পূর্ণ আগ্রহ সৌগতর।তবে খেলাধুলার প্রতি আর পাঁচটা ছাত্র-ছাত্রীর থেকে কোথাও যেন একটু হলেও ব্যতিক্রমী সৌগত। অন্যান্যদের খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহ থাকলেও সৌগত তেমন ভাবে খেলাধুলা করতে ভালোবাসতো না বলে জানান সৌগত নিজেই। সৌগতর প্রিয় বিষয় গুলির মধ্যে অন্যতম ভৌত বিজ্ঞান,জীবন বিজ্ঞান ও অঙ্ক। সৌগতকে তার বাবা ভরত কুমার দাস নিজেই অঙ্ক করাতেন। ভরতবাবু উক্ত মহম্মদপুর দেশপ্রান হাইস্কুলেরই অঙ্কের শিক্ষকতা করেন।ছেলের এইরূপ অভাবনীয় ফলে খুশি তিনিও। মঙ্গলবার ছেলের ফলে খুশি হয়ে ভরতবাবু জানান, “ছেলে প্রথম থেকে দশম স্হানের মধ্যে আসবে ভেবেছিলাম।কিন্তু একেবারেই যে প্রথম হবে তা একেবারে আমার কাছে স্বপ্নের মতো।”তবে ভালো করে মন দিয়ে পড়লে সৌগতর মতো আগামীদিনে আরও ছাত্র-ছাত্রী এইরূপ ঐতিহাসিক রেজাল্ট করতে পারবে বলে মত সৌগতর।সৌগত জানান,”পড়াশোনার প্রতি সবসময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।পড়া নিজের মতো করে বুঝে পড়তে হবে এবং বইয়ের প্রতিটি পাতা খুব ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে হবে।”সবমিলিয়ে জেলার এখন নয়নের মনি সৌগতই।মঙ্গলবার সৌগতর রেজাল্টের কথা জানতে পেরে কাতারে কাতারে মানুষ ভীড় জমান তার বাড়িতে।জেলার একাধিক নেতা সহ একাধিক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও এদিন সৌগতকে অভিনন্দন জানতে আসেন।সৌগত রেজাল্ট নিতে তার নিজের স্কুলে গেলে তাকে ঘিরে আনন্দে উচ্ছাসিত হয়ে ওঠে তার সহপাঠীরাও।ক্রমেক্রমে জেলার এইরূপ নজিরমূলক ফলফলের জন্য শিক্ষার উন্নত পরিকাঠামোকেই দায়ী করেছেন জেলার শিক্ষাবিদদের একাংশ।মহিষাদল রাজ কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক হরিপদ মাইতি জানান, “আমাদের জেলার শিক্ষার উন্নত পরিকাঠামো ও সঠিক পরিবেশের ফলেই ছাত্র-ছাত্রীরা এইধরনের ফলাফল করতে সক্ষম হন।জেলায় আগামীদিনে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি হচ্ছে যা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হবে আমার মত।”

    LEAVE A REPLY