রাস্তার পাড় ভেঙে পুকুরে

    0
    56

    পল মৈত্র,  দক্ষিণ দিনাজপুরঃ রাস্তার পাড় ভেঙে মাটির আস্ত একটি রাস্তা চলে গেছে পুকুরে। পাকা না হোক, অন্তত মাটি ফেলেই সামান্য ৪০ ফুটের একটি কাঁচা রাস্তা তৈরির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু, গত তিন বছরে সেই কাজটুকুও হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে গঙ্গারামপুর ব্লকের উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলবাড়ি নাকোর ফুলপুকুর এলাকায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এরজন্য দায়ি করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং ব্লক প্রশাসনকে। তবে বিষয়টি শুনে তাড়াতাড়ি রাস্তা তৈরির আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসন।

    ফুলবাড়ি নাকোর ফুলপুকুর গ্রামের মধ্যে মাঝারি আকৃতির একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের পাড় বরাবর একটি মাটির রাস্তা ছিল বহুবছর ধরেই। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই অনেকগুলি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু, পুকুরের কাঁচা পাড়টি ভাঙতে ভাঙতে উধাও হয়েছে ৬-৭ ফুটের মাটির রাস্তা। এতেই ভয়ানক বিপদে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। যোগাযোগ রক্ষার জন্য তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য মতো কিছু বালির বস্তা ফেলে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন। পুকুরের ধারে মাটি ফেলে রাস্তাটি আগের মতো করার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি বা ব্লক প্রশাসনের কাছে বহুবার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু, আজ পর্যন্ত এই সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীরা বারবার আন্দোলন করলেও কারও হুঁশ ফেরেনি বলে অভিযোগ।

    এপ্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব সরকার বলেন, একবার নয়, বার চারেক পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু, তিন বছর ধরে কেউ বিষয়টির সমাধান করেনি। সরু বালির বস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করার সময় পড়ে গিয়ে দু’জনের পা ভেঙেছে। তারপরও অবস্থা সেই একই রয়েছে।
    গ্রামবাসীদের কথায়, পাকা করতে সমস্যা হলে অন্তত পুকুরের ধারে মাটি ফেলে আগের মতো রাস্তা করে দেওয়া হোক। স্থানীয় মানুষ সামর্থ্য মতো বালির বস্তা ফেলেছিল। কিন্তু, তাদের পক্ষে এর থেকে বেশি করা সম্ভব নয়।

    স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বীরেন বর্মণ বলেন, “আমার দিক থেকে কোনও খামতি নেই। এই বিষয়ে যথেষ্ট চেষ্টা করে চলেছি। পাড় বাঁধাই ও রাস্তা তৈরির জন্য ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু, প্রধান এবং ব্লক প্রশাসন সেই টাকা অন্য কাজে লাগিয়ে দিয়েছে।”

    এবিষয়ে গঙ্গারামপুরের বিডিও বিশ্বজিৎ ঢ্যাং বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ওই কাজে টাকা বরাদ্দ করে পুকুর পাড় বাঁধাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে সিমেন্ট বা কংক্রিটের রাস্তা করে দেওয়া হবে। কাজটি ব্লক প্রশাসন অথবা গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকা থেকেই করা হবে।

    LEAVE A REPLY