বাঁকুড়ায় রক্ষাকালী পূজা

    0
    167

    ইন্দ্রানী সেন, বাঁকুড়া: মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের চুড়ুরী গ্রামে শুরু হয়েছিল রক্ষাকালী পূজো।প্রাচীণ সেই প্রথা মেনে আজও এই গ্রামে সমান ভাবেই বৈশাখ মাসের অমাবস্যায় পূজিতা হন দেবী রক্ষাকালী। চারদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজো। এর মধ্যে দু’দিন পূজো ও বাকি দু’ দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। পূজোর সাথে সাথেই অন্নকূট অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত ও সাধারণ মানুষ।

    কথিত আছে, ১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দে চুড়ুরী গ্রামে কলেরা মহামারীর আকার ধারণ করে। প্রায়  গোটাগ্রামের মানুষ আক্রান্ত হন এই মারণরোগে। গ্রামকে কলেরা মুক্ত করতে গ্রামের প্রবীণ মানুষেরাই রক্ষাকালী পূজো করার সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের মুখোপাধ্যায় বংশের একমাত্র বংশধর ও কলেরাতে আক্রান্ত হয়। এই অবস্থায় গ্রাম কে কলেরা মুক্ত করতে বিশিষ্ট গ্রামবাসী বামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় বৈশাখী অমাবস্যায় রক্ষাকালীর পূজো  করলেন। মহামারীর হাত থেকে রেহাই পেল গোটা গ্রাম ।

    বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও তরুণ গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায় বলেন,শাস্ত্রে বলা হয়, রক্ষাকালী মহামারী নাশ করেন। “মহামারীনাশকারীং পঞ্চমুদ্রাবিভূষিতাম্”। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটী ব্লকের চুড়ুরী গ্রামের রক্ষাকালীপূজাও এই মহামারী নাশের জন্যই।

    মুখোপাধ্যায় বংশের বর্তমান প্রজন্মের প্রবীন সদস্য অজিত কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা পঞ্চকোট রাজার নিষ্কর ভূসম্পত্তির অধিকারী হয়েছিলেন। ফলে শুরুর দিন গুলিতে পূজার ব্যাপকতাও ছিল বিশাল। পূজার পরদিন পঞ্চগ্রামী মহাভোজ অনুষ্ঠিত হত। আদ্বিজ চণ্ডাল একসাথে পঙক্তিভোজনে অংশ নিতেন। বর্তমান সময়ে নানা কারণে তেমন বিশালতা আর সম্ভব হয় না। তবু গ্রামের একমাত্র পূজা হিসাবে রক্ষা  কালীমাতা চুড়ুরীবাসীর হৃদয়ে অধিষ্ঠাত্রী। তিনি আরও বলেন ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম  বাঙালিমহিলা আইপিএস অফিসার রীনা মুখার্জী ও এই বংশের মেয়ে।

    LEAVE A REPLY