আজও নাড়ু ও কলা দেওয়া হয় শ্রীবাটী গোকুলকৃষ্ণ চন্দ্র বিদ্যালয়ে

    0
    285

    গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, কাটোয়া :  বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে কাটোয়া ২নংব্লকের শ্রীবাটী গোকুলকৃষ্ণ চন্দ্রউচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫২তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হল।খড়ের ছাউনিতে মাটির পাঠশালায় ঘর থাকলেও গ্রামের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ায় তেমন আগ্রহ না থাকায় প্রতিষ্ঠাতা গোকুলকৃষ্ণ চন্দ্র ফন্দি করেছিলেন পাঠশালায় এলেই ছাত্র-ছাত্রীদের নাড়ু কলা দেওয়া হবে।বাড়তে থাকে ছাত্রসংখ্যা। অধুনা মিড-ডে মিলের ধাঁচে বিদ্যালয়মুখী করতে এই প্রথা চালু হয়।কাটোয়ার শ্রীবাটী গোকুলকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫২তম প্রতিষ্ঠাতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে চলল সেই নাড়ু কলা দেওয়ার প্রথা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেবার জন্য ১৮৬৭ সালে স্থানীয় জমিদার গোকুলকৃষ্ণ চন্দ্র জন দশেক ছাত্র নিয়ে শুরু করে পাঠশালা। পড়াশোনার পরিকাঠামো থাকলেও পড়ার প্রতি ছাত্রদের আগ্রহ না থাকায় মুড়ির নাড়ু ও চাপা কলা দেবার প্রথা চালু করেন।

    ওই প্রথা চালু হবার পর শ্রীবাটী গ্রাম ছাড়াও আশেপাশের বাকসা,পোষ্টগ্রাম,নন্দীগ্রাম ও নতুনগ্রামের ছাত্ররা ভিড় জমাতে শুরু করেন।এখন আর প্রতিদিন বিদ্যায়তন নাড়ু ও কলা দেওয়া না হলেও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের নাড়ু ও কলা বিতরণের প্রথা আজও চালু রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শ্রীবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইলা চ্যাটার্জ্জী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নাড়ু-কলা তুলে দেন প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পান্নালাল ভট্রাচার্য বলেন,মিড-ডে মিল তো এদিনের প্রথা।আমাদের স্কুলে দেড়শো বছর আগেই এই প্রথার কথা ভেবেছিলেন প্রতিষ্ঠাতা, এটা আমাদের গর্ব।

    LEAVE A REPLY